প্যারিসে হিন্দু মন্দির উদ্বোধন, ভারত-ফ্রান্স সম্পর্ক নতুন উচ্চতায়: প্রধানমন্ত্রী মোদি

প্যারিসে হিন্দু মন্দিরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভারত-ফ্রান্সের কৌশলগত অংশীদারিত্ব, সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক সম্পর্ক এবং প্রযুক্তি, AI, প্রতিরক্ষা, মহাকাশ ও জলবায়ু ক্ষেত্রে সহযোগিতার কথা তুলে ধরেছেন।

রবিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, ভারত ও ফ্রান্সের সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। তিনি বলেন, দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্ব বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এর শক্ত ভিত্তি কয়েক শতাব্দী পুরনো সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক সম্পর্কের ওপর প্রতিষ্ঠিত।

ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে একটি বৃহৎ হিন্দু মন্দিরের উদ্বোধন হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রবিবার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মন্দিরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভাষণ দেন। এ সময় তিনি ভারত ও ফ্রান্সের মধ্যে ক্রমশ শক্তিশালী হওয়া সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন এবং আশা প্রকাশ করেন, প্যারিসে প্রতিষ্ঠিত এই মন্দির দীর্ঘদিন ধরে দুই দেশের সাংস্কৃতিক সম্পর্ক, সহযোগিতা ও নতুন সুযোগের প্রতীক হয়ে থাকবে।

প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, গত কয়েক বছরে ভারত ও ফ্রান্সের সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। দুই দেশ বিশেষ বৈশ্বিক কৌশলগত অংশীদারিত্বকে ধারাবাহিকভাবে শক্তিশালী করছে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে একযোগে এই অংশীদারিত্ব এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতিও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।

প্যারিসে স্বামীনারায়ণ মন্দিরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভাষণ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, ভারত ও ফ্রান্সের সহযোগিতা এখন ঐতিহ্যগত ক্ষেত্রের বাইরে প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), প্রতিরক্ষা, মহাকাশ এবং জলবায়ু পদক্ষেপের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রেও পৌঁছেছে। তিনি বলেন, দুই দেশ এসব ক্ষেত্রে নতুন গতি ও উদ্যমের সঙ্গে একযোগে কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রীর মতে, ভারত-ফ্রান্স সম্পর্ক শুধু কৌশলগত স্বার্থের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর পেছনে দুই দেশের দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক সম্পর্কেরও শক্তিশালী ভূমিকা রয়েছে।

প্যারিসে হিন্দু মন্দির উদ্বোধন, ভারত-ফ্রান্স সম্পর্ক নতুন উচ্চতায়: প্রধানমন্ত্রী মোদি

মোদি জানান, ২০২৬ সালকে ভারত-ফ্রান্স উদ্ভাবন বর্ষ হিসেবে পালন করা হচ্ছে। তিনি এটিকে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতাকে নতুন স্তরে নিয়ে যাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী মোদি প্যারিসে নির্মিত হিন্দু মন্দিরকে ভারত ও ফ্রান্সের গভীর সাংস্কৃতিক সম্পর্কের সঙ্গে যুক্ত করে বলেন, এটি শুধু একটি ধর্মীয় স্থান নয়, দুই দেশের মধ্যে সংলাপ ও সহযোগিতার মাধ্যমও হয়ে উঠতে পারে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই বৃহৎ মন্দির আগামী প্রজন্মের কাছে ভারত ও ফ্রান্সের বন্ধুত্ব, সহযোগিতা ও সুযোগের স্থায়ী পরিচয় হয়ে থাকবে। মন্দিরটির নির্মাণকে ইউরোপে ভারতীয় সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতির সঙ্গেও যুক্ত করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ইতিহাসের সাক্ষ্য রয়েছে যে ফ্রান্সের মাটিতে ভারতীয় সেনারা গুরুত্বপূর্ণ আত্মত্যাগ করেছিলেন এবং তাঁদের স্মৃতি আজও মানুষের মধ্যে জীবিত রয়েছে। ভারত ও ফ্রান্সের বৌদ্ধিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সংস্কৃতের অধ্যয়ন ও প্রচারে ফরাসি পণ্ডিতদেরও অবদান রয়েছে। ফরাসি লেখক রোমাঁ রোলাঁর রামকৃষ্ণ পরমহংস ও স্বামী বিবেকানন্দের ওপর করা কাজ দুই সমাজকে বোঝা ও কাছাকাছি আসার ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে।

প্রধানমন্ত্রী ভারত ও ফ্রান্সের আধ্যাত্মিক সম্পর্কের উল্লেখ করে শ্রী অরবিন্দ আশ্রম এবং ‘দ্য মাদার’-এর যাত্রার কথাও স্মরণ করেন। তিনি বলেন, প্যারিস থেকে পুদুচেরির শ্রী অরবিন্দ আশ্রম পর্যন্ত ‘দ্য মাদার’-এর আধ্যাত্মিক যাত্রা ভারত ও ফ্রান্সের বহু সাধককে অনুপ্রাণিত করেছে। তিনি আরও বলেন, কয়েক দশক আগে শ্রীল প্রভুপাদ স্বামীর ফ্রান্সে আগমনের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে আধ্যাত্মিক সম্পর্কের একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছিল। ইসকনের মাধ্যমে ভারতীয় আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের প্রসার ফ্রান্সসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে অব্যাহত রয়েছে।

 

Leave a comment