আজকের বলিউডে শাহরুখ খান শুধু একজন তারকা নন, তিনি ‘কিং খান’। কিন্তু তাঁর দীর্ঘ কেরিয়ারের পথ সবসময় এতটা মসৃণ ছিল না। নব্বইয়ের দশকের বলিউডে যখন আন্ডারওয়ার্ল্ডের প্রভাব এবং হুমকির ঘটনা নিয়ে চর্চা ছিল তুঙ্গে, তখন শাহরুখকেও সেই চাপের মুখোমুখি হতে হয়েছিল বলে দাবি করেছেন পরিচালক সঞ্জয় গুপ্তা। তবে ভয় পেয়ে পিছিয়ে যাওয়ার বদলে অভিনেতার জবাব ছিল আরও দৃঢ়।
বলিউডে তখন আন্ডারওয়ার্ল্ডের প্রভাব
আশি ও নব্বইয়ের দশকে হিন্দি সিনেমার জগতের সঙ্গে আন্ডারওয়ার্ল্ডের যোগাযোগ ও প্রভাব নিয়ে নানা ঘটনা সামনে এসেছিল। ছবির অর্থায়ন থেকে শুরু করে কাস্টিং—বিভিন্ন বিষয়েই প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠত।শুধু অভিনেতা নয়, পরিচালক, গায়ক-গায়িকারাও কখনও কখনও হুমকি ও চাপের মুখে পড়তেন বলে জানা যায়। সেই সময় শাহরুখ খানও এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন সঞ্জয় গুপ্তা।
হুমকির মুখেও নতি স্বীকার করেননি শাহরুখ
সঞ্জয় গুপ্তার বক্তব্য অনুযায়ী, হুমকি পাওয়ার পরেও শাহরুখ নিজের সিদ্ধান্তে অনড় ছিলেন। কোনও নির্দিষ্ট ছবি বা অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার জন্য তাঁকে চাপ দেওয়া হলে তিনি সেই চাপ মেনে নিতে রাজি ছিলেন না।পরিচালকের বর্ণনায়, শাহরুখের বক্তব্য ছিল—তিনি একজন পাঠান এবং ভয় দেখিয়ে তাঁকে নিজের সিদ্ধান্ত থেকে সরানো যাবে না।
‘গুলি করে মারতে পারেন, তবু আপনাদের সঙ্গে কাজ করব না’
‘হুসেন জাইদি ফাইলস’ পডকাস্টে সঞ্জয় গুপ্তা সেই সময়কার ঘটনার কথা বলতে গিয়ে শাহরুখের একটি বক্তব্যও তুলে ধরেছেন।তাঁর দাবি, শাহরুখ সাফ জানিয়েছিলেন—প্রয়োজনে তাঁকে গুলি করে মারা যেতে পারে, কিন্তু কোনও চাপের কাছে তিনি আত্মসমর্পণ করবেন না। এমনকি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরহয়ে কোনও অনুষ্ঠান করা বা তাঁদের সঙ্গে কাজ করার প্রস্তাবও তিনি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন বলে সঞ্জয় জানিয়েছেন।এই বক্তব্য থেকেই বোঝা যায়, পরিস্থিতি কতটা চাপের হলেও নিজের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে রাজি ছিলেন না অভিনেতা।
শাহরুখের সাহসকেই শেষ পর্যন্ত সম্মান?
সঞ্জয় গুপ্তার মতে, শাহরুখের এই দৃঢ় মনোভাবই শেষ পর্যন্ত তাঁকে আলাদা করে দিয়েছিল। যাঁরা তাঁকে হুমকি দিয়েছিলেন, তাঁরাও নাকি পরে তাঁর সাহসকে সম্মান করতে শুরু করেন।পরিচালকের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, হয়তো তাঁরাও বুঝেছিলেন যে চলচ্চিত্র জগতে এমন একজন মানুষ রয়েছেন, যিনি ভয় দেখিয়ে নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কাজ করানো যায় না।
হুমকির পর বাড়ানো হয়েছিল নিরাপত্তা
সঞ্জয় গুপ্তার বক্তব্য অনুযায়ী, শাহরুখের এই স্পষ্ট অবস্থানের জন্য তাঁকে যথেষ্ট ঝুঁকিও নিতে হয়েছিল। তাঁর পাওয়া হুমকিগুলিকে গুরুত্ব দিয়ে অভিনেতার নিরাপত্তা বাড়ানো হয়।শাহরুখ নিজেও এক পুরনো সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন যে, তিনি একাধিক প্রাণনাশের হুমকি পেয়েছিলেন এবং প্রায় তিন বছর তাঁকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে থাকতে হয়েছিল।
শাহরুখ নিজেও জানিয়েছিলেন সেই সময়ের চাপের কথা
অভিনেত্রী ও কৌতুকশিল্পী রুবি ওয়াক্সের সঙ্গে এক পুরনো আলাপচারিতাতেও শাহরুখ সেই সময়ের পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছিলেন।সেখানে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, বলিউডে অভিনেতাদের নির্দিষ্ট ছবিতে কাজ করানোর জন্য বিভিন্ন ধরনের চাপ দেওয়া হতো। কোনও প্রস্তাবে রাজি না হলে সরাসরি প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছিল কি না—এই প্রশ্নের উত্তরে শাহরুখ বোঝাতে চেয়েছিলেন, বাস্তব পরিস্থিতি এতটা সরলভাবে ব্যাখ্যা করার মতো ছিল না।
কেন আজও আলোচনায় শাহরুখের সেই অবস্থান?
শাহরুখ খানের কেরিয়ারের দিকে তাকালে তাঁর আত্মবিশ্বাস এবং নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকার বিষয়টি বারবার সামনে আসে। সঞ্জয় গুপ্তার এই পুরনো ঘটনা সেই ব্যক্তিত্বেরই আরেকটি দিক তুলে ধরে।তারকার জনপ্রিয়তা যতই বড় হোক, একটা সময় তাঁকেও ভয়ঙ্কর চাপের মুখোমুখি হতে হয়েছিল। কিন্তু সঞ্জয়ের বর্ণনা অনুযায়ী, সেই পরিস্থিতিতেও শাহরুখ নিজের সিদ্ধান্ত বদলাননি।
একসময় বলিউডের চলচ্চিত্র জগতেও আন্ডারওয়ার্ল্ডের প্রভাব নিয়ে বিস্তর আলোচনা ছিল। সেই সময় প্রাণনাশের হুমকির মুখে পড়েছিলেন শাহরুখ খানও। সম্প্রতি চলচ্চিত্র নির্মাতা সঞ্জয় গুপ্তা এক পডকাস্টে সেই সময়ের একটি ঘটনা তুলে ধরেছেন। তাঁর দাবি, হুমকি পেয়েও শাহরুখ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন, কোনও চাপের কাছে তিনি মাথা নত করবেন না।










