দেশজুড়ে জ্বালানি সাশ্রয়ের ডাক দেওয়ার পর এবার নিজেই সেই পথে হাঁটলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শুধু সাধারণ মানুষকে পরামর্শ নয়, সরকারি ব্যবস্থাতেও খরচ কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কনভয়ের গাড়ির সংখ্যা কমিয়ে কেন্দ্র স্পষ্ট বার্তা দিল— আন্তর্জাতিক সঙ্কটের সময়ে সংযমই এখন সবচেয়ে বড় অস্ত্র।
কনভয়ের গাড়ি কমানোর নির্দেশ মোদির
সূত্রের খবর, প্রধানমন্ত্রীর সফরে ব্যবহৃত কনভয়ের গাড়ির সংখ্যা প্রায় অর্ধেক কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি গুজরাত ও অসম সফরের সময় এই নতুন ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়। বিশেষ সুরক্ষা গোষ্ঠী বা SPG-কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে অপ্রয়োজনীয় গাড়ি কনভয়ে না রাখা হয়। তবে নিরাপত্তা প্রোটোকলে কোনও রকম কাটছাঁট করা হয়নি বলেই জানানো হয়েছে।
পশ্চিম এশিয়ার সঙ্কটেই বাড়ছে উদ্বেগ
ইরান-সহ পশ্চিম এশিয়ার অস্থির পরিস্থিতির কারণে বিশ্বজুড়ে তেল ও গ্যাস সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। তার জেরেই ভারতে জ্বালানি সাশ্রয় নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করেছে কেন্দ্র। বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়লে তার প্রভাব সরাসরি পড়বে ভারতের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের উপর।
সাধারণ মানুষকেও সাশ্রয়ের বার্তা
সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী মোদি দেশবাসীকে পেট্রোল-ডিজেল কম ব্যবহারের আবেদন জানান। তিনি কারপুলিং, মেট্রো ব্যবহার, বাড়ি থেকে কাজ এবং অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়ানোর মতো পদক্ষেপের উপর জোর দেন। এবার নিজের কনভয় ছোট করে সেই বার্তাকেই বাস্তবে কার্যকর করলেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীদেরও পাঠানো হল বিশেষ বার্তা
অসমে হিমন্ত বিশ্ব শর্মার শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের কাছেও জ্বালানি সাশ্রয় নিয়ে বিশেষ কর্মপরিকল্পনা পাঠানো হয়েছে বলে সূত্রের খবর। সেখানে বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহার বাড়ানো, ভার্চুয়াল বৈঠকে জোর দেওয়া এবং সরকারি খরচ কমানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
রাজ্যগুলিতেও শুরু সংযম নীতি
কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তের পর ইতিমধ্যেই কয়েকটি রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রীদের কনভয়ের আকার ছোট করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক স্তরেও খরচ কমানোর বিভিন্ন পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই পদক্ষেপ ভবিষ্যতে সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণের বড় উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে।
পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতার জেরে জ্বালানি সঙ্কটের আশঙ্কা বাড়তেই বড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্র। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজের কনভয়ের গাড়ির সংখ্যা ৫০ শতাংশ কমানোর নির্দেশ দিয়েছেন। নিরাপত্তায় কোনও রকম আপস না করেই জ্বালানি সাশ্রয়ের বার্তা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে রাজ্য সরকারগুলিকেও সংযমী হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।










