ভারতের প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi দুই দিনের জন্য Sikkim সফরে পৌঁছেছেন। এই সফরে তিনি প্রায় ₹৪০০০ কোটি টাকার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের শিলান্যাস করবেন এবং রাজ্যের ৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সমাপনী অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন।
গ্যাংটকে পৌঁছানোর পর প্রধানমন্ত্রীর জন্য আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনার আয়োজন করা হয়েছে। তিনি লিবিং হেলিপ্যাড থেকে গভর্নর হাউস (লোক ভবন) পর্যন্ত একটি রোড শোতে অংশ নেবেন, যেখানে স্থানীয় নাগরিক ও সমর্থকদের উপস্থিতির সম্ভাবনা রয়েছে।
সফরের সময় প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সংযোগ ব্যবস্থা, পর্যটন, কৃষি এবং অবকাঠামো খাতের একাধিক প্রকল্পের শিলান্যাস করবেন। প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলির মধ্যে রয়েছে নামচিতে ১০০ শয্যার হাসপাতাল, দেউরালিতে ৩০ শয্যার স্বাস্থ্যকেন্দ্র, তিস্তা নদীর উপর দুটি ডাবল-লেন স্টিল সেতু এবং গ্যাংটকে সিভিল সার্ভিস অফিসার্স ইনস্টিটিউট।
এই প্রকল্পগুলির লক্ষ্য রাজ্যে আধুনিক সুবিধা সম্প্রসারণ এবং আঞ্চলিক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করা। উদ্যোগগুলি স্বাস্থ্যসেবা, পরিবহন এবং প্রশাসনিক কাঠামোকে শক্তিশালী করতে সহায়তা করবে।

সিক্কিম ১৬ মে ২০২৫ তারিখে India-এর অংশ হিসেবে ৫০ বছর পূর্ণ করেছে। এই উপলক্ষে এক বছরব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি আয়োজন করা হয়, যার সমাপনী অনুষ্ঠান প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
সিক্কিমের ভারতের সঙ্গে সংযুক্তি একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ঘটনা। ১৯৪৭ সালে ভারতের স্বাধীনতার পর সিক্কিম একটি স্বাধীন রাজতন্ত্র ছিল। ১৯৫০ সালে ভারত ও সিক্কিমের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যার মাধ্যমে সিক্কিম ভারতের সুরক্ষিত রাজ্যে পরিণত হয়।
১৯৬৭ সালে নাথু-লা অঞ্চলে চীনের সঙ্গে উত্তেজনার পর সিক্কিমের কৌশলগত গুরুত্ব বৃদ্ধি পায়। পরবর্তী সময়ে ১৯৭০-এর দশকে রাজনৈতিক অস্থিরতা বৃদ্ধি পেলে পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভারত সরকার পদক্ষেপ নেয়।
১৯৭৫ সালে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা ভারতের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পক্ষে ভোট দেয়। এরপর ভারতীয় সংসদ ৩৬তম সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে সিক্কিমকে আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের ২২তম রাজ্য হিসেবে ঘোষণা করে।
এই সফর উত্তর-পূর্ব ভারতের উন্নয়নকেন্দ্রিক সরকারি নীতিকে প্রতিফলিত করে। পার্বত্য ও সীমান্তবর্তী রাজ্য হিসেবে সিক্কিমে অবকাঠামো ও সংযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন জাতীয় নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রকল্পগুলির মাধ্যমে পর্যটন, কর্মসংস্থান এবং বিনিয়োগের সুযোগ বৃদ্ধি পেতে পারে, যা স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে।












