ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়ালের কথিত হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নতুন অগ্রগতির দাবি করেছে পুলিশ। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের মতে, ঘটনাটি আর দুর্ঘটনা হিসেবে নয়, বরং পূর্বপরিকল্পিত একটি ষড়যন্ত্র হিসেবে সামনে আসছে। পুলিশের দাবি, সিসিটিভি ফুটেজ, ডিজিটাল প্রমাণ এবং জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য এই মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
এই মামলায় প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে সিয়া গোয়েল ও চেতন চৌধুরীকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। পুলিশি তদন্ত অনুযায়ী, সামাজিক মাধ্যমে যে সম্পর্ককে একটি “পারফেক্ট লাভ স্টোরি” হিসেবে উপস্থাপন করা হতো, তার আড়ালে একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র লুকিয়ে ছিল।
পুলিশি তদন্তে কথিত ‘কোডওয়ার্ড’ ব্যবহারের বিষয়টি সামনে এসেছে। কর্মকর্তাদের দাবি, সিয়া গোয়েল ও চেতন চৌধুরী ঘটনার আগে একটি সংকেত পদ্ধতি নির্ধারণ করেছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, সিয়া একটি নির্দিষ্ট ভঙ্গিতে ঝুঁকে পড়লেই সেটি চেতনের হামলা চালানোর সংকেত ছিল।
তদন্তকারীদের বক্তব্য অনুযায়ী, ১৮ জুন এই পরিকল্পনার চূড়ান্ত রূপ দেওয়া হয়, যখন দুই অভিযুক্ত কেতন আগরওয়ালকে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন।
পুলিশের দাবি, ঘটনাস্থল ছিল ভিঞ্চু কাটা রিজের কাছে একটি নির্জন পাথুরে এলাকা, যেখানে তিনজনই গিয়েছিলেন। সিসিটিভি ফুটেজ ও মোবাইল লোকেশন ডেটার ভিত্তিতে পুলিশের বক্তব্য, চেতন চৌধুরী ভুক্তভোগী ও সিয়ার পেছনেই চলছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, সংকেত পাওয়ার পর তিনি পেছন থেকে কেতন আগরওয়ালকে ধাক্কা দেন, ফলে তিনি পাহাড়ি চূড়া থেকে নিচে পড়ে যান। এরপর দুই অভিযুক্ত ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে যান এবং পরে ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয় বলে পুলিশের দাবি।
![]()
তদন্তে আরও উঠে এসেছে যে এটি প্রথম প্রচেষ্টা ছিল না। পুলিশ সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ১৪ জুনও একই ধরনের একটি প্রচেষ্টা হয়েছিল। অভিযোগ, সে সময় সিয়া কেতনকে ধাক্কা দিলেও তিনি পাশের একটি গাছ ধরে নিজেকে রক্ষা করতে সক্ষম হন। ওই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর ১৮ জুন নতুন করে পরিকল্পনা করা হয় এবং এবার তা সফল হয় বলে তদন্তকারীদের দাবি।
পুলিশ কর্মকর্তাদের মতে, এই মামলায় সিসিটিভি ফুটেজ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে উঠে এসেছে। লোহগড় দুর্গ ও আশপাশের ক্যামেরায় তিনজনকে একসঙ্গে দেখা গেলেও, তাদের পেছনে একটি সন্দেহভাজন ব্যক্তিকেও ধারাবাহিকভাবে দেখা যায়। ফুটেজে আরও দেখা যায়, হুডি পরা এক যুবক নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে তাদের অনুসরণ করছিল এবং ঘটনাস্থলে সন্দেহজনক গতিবিধি করছিল। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, এই ডিজিটাল তথ্যপ্রবাহই পুরো কথিত ষড়যন্ত্র উন্মোচনে সহায়তা করেছে।
তদন্তে আরও জানা গেছে, অভিযুক্ত চেতন চৌধুরী নিজের অবস্থান শনাক্ত হওয়া এড়াতে ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন দোকানে রেখে একজন কর্মচারীর ফোন নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। পুলিশ ওই কর্মচারীকেও জিজ্ঞাসাবাদ করছে।
পুলিশি তদন্ত অনুযায়ী, সিয়া গোয়েল ও চেতন চৌধুরীর মধ্যে আগে থেকেই যোগাযোগ ছিল, যা একটি ব্যবসায়িক বৈঠকের সময় শুরু হয়েছিল। সিয়া বেকারি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত, আর চেতন শুকনো ফলের ব্যবসায় যুক্ত। তদন্তকারীদের ধারণা, ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও পারস্পরিক উত্তেজনা এই কথিত অপরাধের পেছনে ভূমিকা রেখেছে। তবে পুলিশ জানিয়েছে, মামলার সব দিক এখনও বিস্তারিতভাবে তদন্ত করা হচ্ছে।
সামাজিক মাধ্যমে কেতন আগরওয়াল ও সিয়া গোয়েলের সম্পর্ককে আদর্শ প্রেমের গল্প হিসেবে তুলে ধরা হতো। জন্মদিন উদ্যাপন, সারপ্রাইজ ভিডিও এবং রোমান্টিক পোস্টের মাধ্যমে সেই সম্পর্কের ইতিবাচক ছবি তৈরি হয়েছিল। তবে পুলিশি তদন্তে উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী, সেই ডিজিটাল চিত্রের আড়ালে ভিন্ন বাস্তবতার অভিযোগ সামনে এসেছে।











