অল্প সময়ে বেশি লাভ—এই লোভেই বহু মানুষ ফেঁসে যান পনজি স্কিমের ফাঁদে। বাস্তবে কোনও ব্যবসা না থাকলেও মোটা রিটার্নের প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারকরা হাতিয়ে নেয় বিপুল অর্থ। ইতিহাসে এমন বহু ঘটনা রয়েছে, যা আজও সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করে।

পনজি স্কিম কী? প্রতারণার সহজ ফর্মুলা
পনজি স্কিমে কোনও প্রকৃত ব্যবসা থাকে না। নতুন বিনিয়োগকারীদের টাকা দিয়েই পুরনোদের লাভ দেওয়া হয়, ফলে প্রথমে সবকিছু ঠিকঠাক মনে হলেও একসময় পুরো কাঠামো ভেঙে পড়ে।
শুরুটা যাঁর হাত ধরে—Charles Ponzi
১৯২০ সালে আন্তর্জাতিক পোস্টাল কুপনে বিনিয়োগের নাম করে তিনি বিপুল অর্থ তোলেন। মাত্র কয়েক মাসেই মিলিয়ন ডলারের প্রতারণা করেন, আর সেখান থেকেই “পনজি স্কিম” নামের উৎপত্তি।
বিনোদন জগতের আড়ালে প্রতারণা—Lou Pearlman
খ্যাতনামা বয় ব্যান্ডের ম্যানেজার হয়েও তিনি ভুয়ো নথি ব্যবহার করে ৩০০ মিলিয়ন ডলারের প্রতারণা করেন। শেষমেশ ২৫ বছরের জেল হয় তাঁর।

ধর্মের আড়ালে বড় ফাঁদ—Gerald Payne
চার্চের মাধ্যমে ‘Double Your Blessings’ স্কিম চালিয়ে হাজার হাজার মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি ডলার তোলেন। পরে ধরা পড়ে এই প্রতারণা।
প্রযুক্তি উদ্যোক্তার কেলেঙ্কারি—Reed Slatkin
ইন্টারনেট ব্যবসার আড়ালে প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ডলারের প্রতারণা করেন। দীর্ঘদিন ধরে এই স্কিম চালিয়েছিলেন তিনি।
আইনি ফাঁদে বিনিয়োগ—Scott Rothstein
ভুয়ো আইনি সেটেলমেন্টের নাম করে বিনিয়োগকারীদের ঠকান। শত শত মিলিয়ন ডলারের এই কেলেঙ্কারি বড় আলোড়ন তোলে।
ব্যবসার নাম করে হাজার কোটি প্রতারণা—Tom Petters
পণ্য কেনাবেচার নামে প্রায় ৩.৭ বিলিয়ন ডলারের প্রতারণা করেন। শেষমেশ ৫০ বছরের কারাদণ্ড হয়।
আন্তর্জাতিক কেলেঙ্কারি—R. Allen Stanford
ভুয়ো ব্যাংকিং স্কিমের মাধ্যমে ১০০-রও বেশি দেশের বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলার তোলেন।
ইতিহাসের সবচেয়ে বড় পনজি স্কিম—Bernie Madoff
প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের প্রতারণা করে তিনি বিশ্বজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেন। ২০০৮ সালে গ্রেফতার হয়ে ১৫০ বছরের জেল হয়।
পনজি স্কিম এমন এক প্রতারণা যেখানে নতুন বিনিয়োগকারীর টাকা দিয়ে পুরনোদের লাভ দেখানো হয়। ইতিহাসে Charles Ponzi থেকে Bernie Madoff—অনেক বড় কেলেঙ্কারি সামনে এসেছে। জেনে নিন এমন ৮টি পনজি স্কিম, যা কোটি কোটি টাকার প্রতারণায় কাঁপিয়েছে বিশ্বকে।











