পৌষমেলা ২০২৫: বিশ্বভারতীর উদ্যোগে বোলপুর শান্তিনিকেতনে শুরু হয়েছে এ বছরের ঐতিহ্যবাহী পৌষমেলার প্রস্তুতি। পূর্বপল্লীর মেলার মাঠে বহুদিনের চাহিদা পূরণ করে স্থায়ী কংক্রিটের মঞ্চের আয়তন ২৫ ফুট থেকে বাড়িয়ে প্রায় ৪০ ফুট করা হচ্ছে, যাতে ছৌ, রায়বেশে, মুখোশ নৃত্য-সহ নানা লোকশিল্প নির্বিঘ্নে পরিবেশনা করতে পারেন। বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য প্রবীর কুমার ঘোষের নির্দেশেই এই সম্প্রসারণের কাজ চলছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই স্টল বণ্টন শুরু হওয়ার সম্ভাবনা।
ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে তৎপর বিশ্বভারতী প্রশাসন
শান্তিনিকেতনের পৌষমেলা বরাবরই বাংলার লোকসংস্কৃতির অন্যতম বৃহৎ মিলনক্ষেত্র। গত কিছু বছর নানা কারণে আয়োজন বাধাপ্রাপ্ত হলেও ২০২৫ সালে আবারও পূর্ণমাত্রায় ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।পূর্বপল্লীর মাঠ পরিষ্কার, পথচিহ্ন নির্ধারণ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা—সবকিছুতেই গতি এসেছে। মেলার উপসমিতি ও শান্তিনিকেতন ট্রাস্ট যৌথভাবে প্রস্তুতি তদারক করছে।
![]()
২৫ ফুট থেকে ৪০ ফুট—লোকশিল্পীদের জন্য বড় হচ্ছে মঞ্চ
দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ ছিল, স্থায়ী মঞ্চের আকার ছোট হওয়ায় বড় দলীয় লোকনৃত্য উপস্থাপন করতে সমস্যা হতো।বিশ্বভারতীর উপাচার্য প্রবীর কুমার ঘোষের নির্দেশে চলতি বছর সেই মঞ্চকে বাড়িয়ে ৪০ ফুট করা হচ্ছে যাতে নাচ, গান, মুখোশ নৃত্য, ছৌ বা রায়বেশে নির্বিঘ্নে পরিবেশিত হতে পারে।শিল্পীরা জানিয়েছেন, বড় পরিসরে নাচের ধাপ, দাপ, ঘূর্ণি—সবই সাবলীলভাবে দেখাতে পারবেন এবার।
প্রস্তুতি তুঙ্গে—উপসমিতির বৈঠক ও চূড়ান্ত পরিকল্পনা
বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতি–নির্ধারক কমিটির বৈঠকে মেলার ট্রাফিক, নিরাপত্তা, পারফরমেন্স স্লট, লাইট–সাউন্ড ব্যবস্থা—সবই খতিয়ে দেখা হয়েছে।মেলার উপসমিতি ইতিমধ্যেই গঠিত হয়েছে এবং প্রত্যেকের দায়িত্ব বণ্টন সম্পন্ন। মাঠ পরিষ্কার, বিদ্যুত্ সংযোগ পরীক্ষা ও জল সরবরাহের ব্যবস্থাও চলছে।জনসংযোগ আধিকারিক অতিগ ঘোষ জানান, "শিল্পীদের সুবিধাই আমাদের প্রথম লক্ষ্য।"
![]()
খুশির হাওয়া—ছৌ ও রায়বেশে শিল্পীদের প্রতিক্রিয়া
ছৌ শিল্পীরা বলেন, এতদিন ছোট মঞ্চে অনুশীলন ও প্রদর্শনে অসুবিধা হতো। এবার বড় মঞ্চে সচ্ছন্দে পরিবেশনা করা যাবে।রায়বেশে শিল্পী অভিষেক দত্ত জানিয়েছেন, মঞ্চ বৃদ্ধির দাবি বহুদিনের। এবার সেই দাবি পূরণ হওয়ায় শিল্পী মহলে উৎসাহ দ্বিগুণ।
স্টল বণ্টনের অপেক্ষায় হস্তশিল্পীরা
শান্তিনিকেতন, বোলপুর ও পার্শ্ববর্তী এলাকার বহু হস্তশিল্পী, ব্যবসায়ী এবং খাবারের স্টল মালিকেরা অপেক্ষা করছেন স্টল বণ্টনের ঘোষণার জন্য।প্রস্তুতির গতি দেখে অনুমান, খুব শীঘ্রই স্টল বরাদ্দ প্রক্রিয়া শুরু হবে।
![]()
পৌষমেলা ২০২৫-এর প্রস্তুতি জোরকদমে চলছে শান্তিনিকেতনে। লোকশিল্পীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে পূর্বপল্লীর স্থায়ী কংক্রিটের মঞ্চ ২৫ ফুট থেকে বাড়িয়ে প্রায় ৪০ ফুট করা হচ্ছে। মঞ্চ সম্প্রসারণে খুশি ছৌ, রায়বেশে-সহ বিভিন্ন শিল্পীরা। শীঘ্রই স্টল বণ্টনও শুরু হবে।









