প্রশান্ত কিশোর বিহার বিধানসভার পর্যটন শিল্প সংক্রান্ত কমিটির সদস্য

জন সুরাজের প্রতিষ্ঠাতা ও বাঁকিপুরের বিধায়ক প্রশান্ত কিশোরকে বিহার বিধানসভার পর্যটন শিল্প সংক্রান্ত কমিটির সদস্য করা হয়েছে। জেডিইউ বিধায়ক মনোরঞ্জন সিং ওরফে ধুমল সিং কমিটির সভাপতি এবং কমিটিতে মোট প্রায় সাত মাসের জন্য নির্ধারিত হয়েছে।
প্রশান্ত কিশোর বিহার বিধানসভার পর্যটন শিল্প সংক্রান্ত কমিটির সদস্য
Photo Credit / Attribution: Google

জন সুরাজ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা এবং বাঁকিপুরের বিধায়ক প্রশান্ত কিশোরকে বিহার বিধানসভায় পর্যটন শিল্প সংক্রান্ত কমিটির সদস্য করা হয়েছে। বিধানসভা সচিবালয়ের জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, জনতা দল ইউনাইটেডের বিধায়ক মনোরঞ্জন সিং ওরফে ধুমল সিং এই কমিটির সভাপতি। প্রশান্ত কিশোরের কমিটিতে মেয়াদ ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাকি প্রায় সাত মাসের জন্য নির্ধারিত হয়েছে।

বিধানসভা কমিটিতে প্রশান্ত কিশোরের দায়িত্ব

বিধানসভায় প্রথমবার পৌঁছনোর পর প্রশান্ত কিশোর একটি বিষয়ভিত্তিক কমিটিতে কাজ করার সুযোগ পেলেন। পর্যটন ও শিল্প সংক্রান্ত এই কমিটি রাজ্যের পর্যটন ক্ষেত্রের উন্নয়ন, সংশ্লিষ্ট শিল্প এবং নীতিগত বিষয় নিয়ে আলোচনা করে।

বিধানসভার কমিটিগুলিতে শাসক পক্ষের পাশাপাশি বিরোধী দল ও অন্যান্য দলের বিধায়কদেরও প্রতিনিধিত্ব দেওয়া হয়। বিভিন্ন বিভাগ ও বিষয়ের সঙ্গে যুক্ত বিষয়গুলি পর্যালোচনার মাধ্যমে কমিটিগুলি কাজ করে। কমিটির সদস্য হিসেবে প্রশান্ত কিশোর পর্যটন ও শিল্প সংক্রান্ত বিষয় উত্থাপন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলির পর্যালোচনায় অংশ নিতে পারবেন।

বিহারে পর্যটন ক্ষেত্রের বিভিন্ন বিষয়

বিহারে বৌদ্ধ, জৈন, হিন্দু, শিখ এবং সুফি ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থান রয়েছে। গয়া, বোধগয়া, রাজগির, নালন্দা, বৈশালী, পাটনা সাহিব, পাওয়াপুরি এবং মিথিলাঞ্চলের বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক স্থান দেশ-বিদেশের পর্যটকদের আকর্ষণ করে।

পর্যটন শিল্প সংক্রান্ত কমিটিতে প্রশান্ত কিশোরের সামনে রাজ্যের পর্যটন ক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কাজ করার সুযোগ থাকবে। পর্যটনকেন্দ্রগুলিতে পরিকাঠামো, যোগাযোগ ব্যবস্থা, পর্যটকদের নিরাপত্তা, হোটেল এবং স্থানীয় ব্যবসার প্রসারের মতো বিষয় কমিটির স্তরে আলোচনায় আসতে পারে।

পর্যটন ও স্থানীয় কর্মসংস্থান

পর্যটন শিল্পের সঙ্গে স্থানীয় কর্মসংস্থানের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। কোনও এলাকায় পর্যটকের সংখ্যা বাড়লে হোটেল, রেস্তোরাঁ, পরিবহণ, হস্তশিল্প, স্থানীয় বাজার এবং অন্যান্য ছোট ব্যবসা উপকৃত হয়। বিহারের মতো রাজ্যে ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় পর্যটনকে উন্নত পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত করে স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার সম্ভাবনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা হয়েছে।

প্রশান্ত কিশোর দীর্ঘদিন ধরে বিহারে কর্মসংস্থান, শিক্ষা, অভিবাসন এবং উন্নয়নের মতো বিষয় নিয়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছেন। বিধানসভা কমিটিতে দায়িত্ব পাওয়ার পর এই বিষয়গুলিকে বিধানসভার প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মধ্যেও উত্থাপনের সুযোগ তাঁর থাকবে।

কমিটির সদস্যদের তালিকা

বিধানসভা সচিবালয়ের জারি করা তালিকা অনুযায়ী, পর্যটন শিল্প সংক্রান্ত কমিটির সভাপতি মনোরঞ্জন সিং ওরফে ধুমল সিং। কমিটির সদস্যরা হলেন সুনীল কুমার পিন্টু, অনিল সিং, বীরেন্দ্র কুমার, সঞ্জয় কুমার সিং, বশিষ্ঠ সিং, রামানন্দ মণ্ডল, বাবলু কুমার, গৌতম কৃষ্ণ এবং প্রশান্ত কিশোর। কমিটিতে মোট ১০ জন সদস্য রয়েছেন।

মনোরঞ্জন সিং ওরফে ধুমল সিংয়ের নেতৃত্বে কমিটির সদস্যরা পর্যটন ও শিল্প সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কাজ করবেন। প্রশান্ত কিশোর এখন কমিটির বৈঠক এবং সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবেন।

বিধানসভা কমিটিতে প্রশান্ত কিশোরের ভূমিকা

প্রশান্ত কিশোরের রাজনৈতিক যাত্রা বিধানসভার সদস্য হওয়ার পর নতুন পর্যায়ে পৌঁছেছে। নির্বাচনী কৌশলবিদ হিসেবে জাতীয় স্তরে পরিচিতি পাওয়ার পর তিনি বিহারে জন সুরাজ অভিযান শুরু করেন। পরে সেটিকে রাজনৈতিক দলের রূপ দেওয়া হয়। এখন বিধানসভার সদস্য হিসেবে তাঁর ভূমিকা তাঁর রাজনৈতিক যাত্রার একটি পৃথক অধ্যায়।

বিধানসভার কমিটিগুলি পরিষদীয় কার্যপ্রণালীর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিধানসভায় প্রতিটি বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার জন্য পর্যাপ্ত সময় থাকে না। তাই কমিটিগুলি নির্দিষ্ট বিভাগ বা বিষয় নিয়ে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করতে পারে। সদস্যরা সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের কাছ থেকে তথ্য নেওয়া এবং বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনার সুযোগ পান।

পর্যটন পরিকাঠামো ও যোগাযোগ

পর্যটন শিল্প কমিটির সামনে বিহারের পর্যটন পরিকাঠামোর সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন বিষয় আসতে পারে। রাজ্যে এমন বহু ঐতিহাসিক স্থান রয়েছে যেখানে পর্যটনের সম্ভাবনা রয়েছে, কিন্তু সেখানে পৌঁছনো, থাকার ব্যবস্থা এবং স্থানীয় পরিষেবা নিয়ে প্রশ্নও উঠেছে।

পর্যটনকেন্দ্রগুলিতে সড়ক, রেল এবং বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হলে পর্যটকদের যাতায়াত বাড়তে পারে। এর পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা, পানীয় জল, শৌচাগার, পার্কিং এবং তথ্যকেন্দ্রের মতো মৌলিক পরিষেবাও পর্যটন প্রসারে ভূমিকা রাখে।

ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পর্যটন

ধর্মীয় পর্যটন বিহারের পর্যটন শিল্পের একটি বড় অংশ। বোধগয়ায় বৌদ্ধ ধর্মের সঙ্গে যুক্ত আন্তর্জাতিক পর্যটকরা আসেন। রাজগির ও নালন্দার ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে। পাটনা সাহিব শিখ সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় স্থানগুলির মধ্যে রয়েছে। গয়ায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ পিণ্ডদানের জন্য আসেন।

এছাড়া বিহারের মিথিলাঞ্চল ও সীমাঞ্চল এলাকাতেও সাংস্কৃতিক ও প্রাকৃতিক পর্যটনের সম্ভাবনা রয়েছে। স্থানীয় শিল্প, খাদ্য, লোকঐতিহ্য এবং ঐতিহাসিক স্থানগুলিকে পর্যটন সার্কিটের সঙ্গে যুক্ত করলে গ্রামীণ অর্থনীতি উপকৃত হতে পারে।

কমিটিতে প্রশান্ত কিশোরের ভূমিকা

কমিটির সদস্য হিসেবে প্রশান্ত কিশোর এই বিষয়গুলি কীভাবে উত্থাপন করেন, তার দিকেও রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের নজর থাকবে। তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সরকারের নীতি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার ওপর প্রশ্ন তোলা একটি প্রধান বিষয় হিসেবে থেকেছে। এখন বিধানসভা কমিটির মঞ্চে বিভাগীয় পরিকল্পনা এবং পর্যটন সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনার সুযোগ তাঁর থাকবে।

কমিটির নামেই পর্যটনের পাশাপাশি শিল্পের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বিহারে পর্যটনভিত্তিক শিল্পের বিকাশের সম্ভাবনা রয়েছে। হোটেল, হোমস্টে, স্থানীয় পরিবহণ, হস্তশিল্প, খাদ্য শিল্প এবং স্মারক সামগ্রীর মতো ক্ষেত্রগুলির প্রসারের মাধ্যমে স্থানীয় মানুষের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা যেতে পারে।

ঐতিহাসিক স্থাপনা সংরক্ষণ ও পর্যটন

রাজ্যের ঐতিহাসিক শহরগুলিতে ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং পর্যটনকে একসঙ্গে এগিয়ে নেওয়াও একটি চ্যালেঞ্জ। পুরনো ভবন ও ঐতিহাসিক স্থান সংরক্ষণের পাশাপাশি সেগুলিকে পর্যটকদের জন্য সুবিধাজনক করে তোলা প্রয়োজন। এর জন্য সরকারি বিনিয়োগের পাশাপাশি বেসরকারি ক্ষেত্রের অংশগ্রহণও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

কমিটির আলোচনায় পর্যটন বিভাগের পরিকল্পনা, বাজেট, প্রকল্পগুলির অগ্রগতি এবং সেগুলির বাস্তব প্রভাবের মতো বিষয়ও সামনে আসতে পারে। বিধানসভা কমিটির কাজ শুধু পরিকল্পনার তথ্য নেওয়া নয়, সেগুলির বাস্তবায়নের পরিস্থিতি বোঝা এবং প্রয়োজন হলে পরামর্শ দেওয়াও।

পর্যটন সার্কিট ও ডিজিটাল পরিষেবা

বিহারে পর্যটন প্রসারের জন্য নতুন পর্যটন সার্কিট তৈরি করার প্রয়োজনও দীর্ঘদিন ধরে অনুভূত হয়েছে। ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক স্থানগুলিকে একে অপরের সঙ্গে যুক্ত করে পর্যটকদের জন্য বহুদিনের ভ্রমণ পরিকল্পনা তৈরি করা যেতে পারে।

বোধগয়া, রাজগির এবং নালন্দাকে একটি সার্কিটে যুক্ত করলে আন্তর্জাতিক পর্যটকদের জন্য ভ্রমণ সহজ হতে পারে। একইভাবে পাটনা, বৈশালী এবং পাটনা সাহিবকে যুক্ত করে ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক পর্যটন প্রসারিত করা যেতে পারে।

পর্যটন ক্ষেত্রে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহারও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। অনলাইন টিকিটিং, ডিজিটাল গাইড, বহুভাষিক তথ্য, ম্যাপিং এবং পর্যটক সহায়তা কেন্দ্রের মাধ্যমে পর্যটকদের অভিজ্ঞতা উন্নত করা যেতে পারে।

প্রশান্ত কিশোরের সাত মাসের দায়িত্ব

প্রশান্ত কিশোরকে কমিটিতে সাত মাসের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এই সময়ে কমিটির বৈঠকে তাঁর অংশগ্রহণ এবং তিনি যে বিষয়গুলি উত্থাপন করবেন, তা গুরুত্বপূর্ণ থাকবে। তবে কমিটির সদস্য হওয়া কোনও বিভাগের মন্ত্রী বা সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী পদ নয়। বিধানসভার প্রক্রিয়ার অধীনে কমিটি পর্যালোচনা ও পরামর্শ দেওয়ার কাজ করে।

রাজনৈতিকভাবে এই নিয়োগকে প্রশান্ত কিশোরের বিধায়ক হিসেবে ভূমিকার সম্প্রসারণ হিসেবেও দেখা হচ্ছে। বিধানসভায় তাঁর দলের প্রতিনিধিত্ব সীমিত হলেও তাঁকে কমিটিতে স্থান দেওয়া হয়েছে। এর ফলে তিনি বিধানসভার নিয়মিত কমিটি-সংক্রান্ত কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।

পর্যটন ও শিল্পের সঙ্গে কর্মসংস্থানের সম্পর্ক

প্রশান্ত কিশোরের জন্য এই দায়িত্বের সঙ্গে পর্যটন ও শিল্প—দুই ক্ষেত্রেরই সম্পর্ক রয়েছে, যেগুলির সঙ্গে কর্মসংস্থান এবং রাজ্যের অর্থনৈতিক কার্যকলাপ যুক্ত। বিহারে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো নিয়ে তিনি ধারাবাহিকভাবে প্রশ্ন তুলে এসেছেন। ফলে কমিটির মধ্যে পর্যটনভিত্তিক কর্মসংস্থান এবং শিল্পের উন্নয়ন সংক্রান্ত বিষয় তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

আগামী মাসগুলিতে কমিটি কোন কোন বিষয় নিয়ে বৈঠক করে এবং কী কী পরামর্শ সামনে আসে, তা নজরে থাকবে। পর্যটনকেন্দ্রগুলির বর্তমান পরিস্থিতি, প্রকল্পগুলির অগ্রগতি এবং শিল্পের জন্য উপলব্ধ সুযোগ-সুবিধার পর্যালোচনা কমিটির কাজের অংশ হতে পারে।

জন সুরাজের প্রতিষ্ঠাতা এবং বাঁকিপুরের বিধায়ক প্রশান্ত কিশোরকে বিহার বিধানসভার পর্যটন শিল্প সংক্রান্ত কমিটির সদস্য করা হয়েছে। জেডিইউ বিধায়ক মনোরঞ্জন সিং ওরফে ধুমল সিং এই কমিটির সভাপতি এবং প্রশান্ত কিশোর-সহ মোট ১০ জন সদস্য রয়েছেন। তাঁর মেয়াদ ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাকি প্রায় সাত মাসের জন্য নির্ধারিত হয়েছে।

Leave a comment