অখিলেশ যাদবের সৎভাই প্রতীক যাদবের লখনউতে মৃত্যু, বয়স ৩৮

সমাজবাদী পরিবারের সদস্য এবং অখিলেশ যাদবের সৎভাই প্রতীক যাদবের ৩৮ বছর বয়সে লখনউতে মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে এখনও মৃত্যুর কারণ নিয়ে কোনও সরকারি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি।
অখিলেশ যাদবের সৎভাই প্রতীক যাদবের লখনউতে মৃত্যু, বয়স ৩৮
Photo Credit / Attribution: Google

সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব-এর সৎভাই এবং মুলায়ম সিং যাদব পরিবারের সদস্য প্রতীক যাদবের মৃত্যুতে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। ৩৮ বছর বয়সে লখনউতে তাঁর মৃত্যুর খবর সামনে আসার পর সমাজবাদী পরিবারের সদস্য, দলীয় কর্মী, সমর্থক এবং ঘনিষ্ঠদের মধ্যে শোক ছড়িয়ে পড়ে।

সূত্রের দাবি, প্রতীক যাদবের শারীরিক অবস্থার হঠাৎ অবনতি হয়। তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকেরা তাঁকে বাঁচাতে পারেননি। হাসপাতালে মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়ার পর পরিবারের সদস্যদের মধ্যে শোকের পরিবেশ তৈরি হয়।

খবর পেয়ে অখিলেশ যাদব দ্রুত পোস্টমর্টেম হাউসে পৌঁছন। সেখানে পরিবারের অন্যান্য সদস্য, আত্মীয় এবং সমাজবাদী পার্টির একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতা উপস্থিত ছিলেন। পুরো পরিবেশে শোক ও নীরবতা দেখা যায়।

প্রতীক যাদবের স্ত্রী অপর্ণা যাদব গভীর শোকের মধ্যে রয়েছেন বলে পরিবারের ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে। হাসপাতাল এবং পোস্টমর্টেম হাউসের বাইরে সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ীদের ভিড় জমে।

রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য হলেও প্রতীক যাদব সক্রিয় রাজনীতি থেকে দূরে ছিলেন। ব্যবসা, ফিটনেস এবং লাইফস্টাইল সংক্রান্ত কর্মকাণ্ডে তাঁর আগ্রহ বেশি ছিল। সামাজিক মাধ্যমে তাঁর ফিটনেস এবং বিলাসবহুল জীবনযাপন নিয়ে প্রায়ই আলোচনা হত।

লখনউতে তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সমাজবাদী পার্টির কার্যালয় এবং যাদব পরিবারের ঘনিষ্ঠদের মধ্যে শোকের পরিবেশ তৈরি হয়। একাধিক নেতা ফোন এবং সামাজিক মাধ্যমে শোকবার্তা প্রকাশ করেছেন।

সূত্রের দাবি, প্রতীক যাদব গত কিছু সময় ধরে স্বাস্থ্যজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। তবে মৃত্যুর কারণ নিয়ে পরিবারের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও সরকারি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি। পোস্টমর্টেম রিপোর্ট প্রকাশের পর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হতে পারে বলে জানা গেছে।

উত্তর প্রদেশের রাজনীতিতে যাদব পরিবারের প্রভাব উল্লেখযোগ্য বলে মনে করা হয়। সেই প্রেক্ষিতে প্রতীক যাদবের আকস্মিক মৃত্যু রাজনৈতিক মহলেও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

যোগী আদিত্যনাথ-সহ একাধিক রাজনৈতিক নেতা শোক প্রকাশ করেছেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা সামাজিক মাধ্যমে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেছেন।

সমাজবাদী পার্টির কর্মীদের বক্তব্য, এটি পরিবারের জন্য অত্যন্ত কঠিন সময়। বহু কর্মী হাসপাতাল এবং পরিবারের বাসভবনের বাইরে পৌঁছে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন।

মুলায়ম সিং যাদব পরিবারের সদস্য হওয়ায় প্রতীক যাদব নিয়মিত আলোচনায় থাকতেন। তবে তিনি কখনও সক্রিয় নির্বাচনী রাজনীতিতে প্রবেশের চেষ্টা করেননি।

স্থানীয়দের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রতীক যাদব শান্ত এবং মিশুক স্বভাবের ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ফিটনেসের প্রতি তাঁর বিশেষ আগ্রহ ছিল এবং জিম ও স্বাস্থ্যচর্চা নিয়ে তিনি প্রায়ই আলোচনায় থাকতেন।

সামাজিক মাধ্যমেও বহু মানুষ তাঁর পুরনো ছবি ও ভিডিও ভাগ করে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন। কম বয়সে মৃত্যুর ঘটনায় একাধিক ব্যবহারকারী শোক প্রকাশ করেছেন।

বহু সমর্থক এবং রাজনৈতিক নেতার উপস্থিতির সম্ভাবনার কারণে লখনউতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানো হয়েছে। পুলিশ ও প্রশাসন পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে।

পরিবারের ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, শেষকৃত্যের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। আত্মীয়স্বজন এবং ঘনিষ্ঠদের বাড়িতে পৌঁছনো অব্যাহত রয়েছে।

বর্তমানে যাদব পরিবারে শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে। সমাজবাদী পার্টির কর্মী ও সমর্থকেরা পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে চলেছেন। লখনউ থেকে উত্তর প্রদেশের বিভিন্ন অংশে এই ঘটনা নিয়ে আলোচনা চলছে।

Leave a comment