অখিলেশ যাদবের সৎভাই প্রতীক যাদবের লখনউয়ে মৃত্যু

সমাজবাদী পার্টি প্রধান অখিলেশ যাদবের সৎভাই এবং প্রয়াত মুলায়ম সিং যাদবের ছেলে প্রতীক যাদব বুধবার লখনউয়ে মারা গেছেন। তিনি দীর্ঘদিন সক্রিয় রাজনীতি থেকে দূরে থেকে ব্যবসা, ফিটনেস এবং ব্যক্তিগত জীবনে মনোনিবেশ করেছিলেন।

উত্তর প্রদেশের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত যাদব পরিবারে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। সমাজবাদী পার্টির প্রধান Akhilesh Yadav-এর সৎভাই এবং প্রয়াত নেতা Mulayam Singh Yadav-এর ছেলে Prateek Yadav বুধবার সকালে লখনউয়ে মারা গেছেন। তিনি দীর্ঘদিন সক্রিয় রাজনীতি থেকে দূরে থেকে ব্যবসা, ফিটনেস এবং ব্যক্তিগত জীবনে মনোনিবেশ করেছিলেন।

পরিবারের ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, প্রতীক যাদব লখনউয়ের একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর মৃত্যুর খবর সামনে আসার পর রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে শোকপ্রকাশ করা হচ্ছে।

যাদব পরিবারের রাজনৈতিক প্রভাব থাকা সত্ত্বেও প্রতীক যাদব সক্রিয় রাজনীতি থেকে দূরত্ব বজায় রেখেছিলেন। তিনি নিজের কর্মজীবনকে ব্যবসা এবং ফিটনেস ইন্ডাস্ট্রির দিকে নিয়ে যান। লখনউয়ে তাঁর একাধিক ফিটনেস সেন্টার এবং জিম পরিচালিত হত, যেখানে তিনি নিজেও ফিটনেস ট্রেনিং এবং স্বাস্থ্যচর্চার রুটিন নিয়ে সক্রিয় ছিলেন।

শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি তাঁর বিশেষ আগ্রহ ছিল। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং জনজীবনে সীমিত উপস্থিতি বজায় রাখতেন এবং রাজনৈতিক মন্তব্য থেকেও দূরে থাকতেন।

ঘনিষ্ঠদের বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন এবং ফিটনেস নিয়ে অত্যন্ত সচেতন ছিলেন। সেই কারণে তরুণদের মধ্যে তাঁর পরিচিতি গড়ে উঠেছিল একজন ফিটনেস অনুরাগী এবং উদ্যোক্তা হিসেবে।

অখিলেশ যাদবের সৎভাই প্রতীক যাদবের লখনউয়ে মৃত্যু

প্রতীক যাদব ছিলেন প্রয়াত সমাজবাদী নেতা মুলায়ম সিং যাদব এবং তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী সাধনা গুপ্তার ছেলে। তিনি কখনও সক্রিয় রাজনৈতিক ভূমিকা পালন না করলেও সময়ে সময়ে তাঁর রাজনীতিতে প্রবেশের জল্পনা তৈরি হয়েছিল।

২০১২ সালে সমাজবাদী পার্টির কিছু কর্মী তাঁকে আজমগড় লোকসভা কেন্দ্র থেকে নির্বাচনে লড়ানোর দাবি তুলেছিলেন। সে সময় পরিবারের কয়েকজন সদস্যও তাঁকে সমর্থন করেছিলেন। তবে দলীয় নেতৃত্ব তাঁকে নির্বাচনী রাজনীতিতে আনেনি। এরপরও প্রতীক যাদব রাজনীতিতে যোগ না দিয়ে ব্যক্তিগত ব্যবসা এবং ফিটনেস ক্ষেত্রেই মনোযোগ ধরে রাখেন।

প্রতীক যাদবের স্ত্রী Aparna Yadav বর্তমানে ভারতীয় জনতা পার্টির সঙ্গে যুক্ত এবং উত্তর প্রদেশ রাজ্য মহিলা কমিশনের সহ-সভাপতির পদেও ছিলেন। দু’জনের বিয়ে ২০১১ সালে সাইফাইয়ে পারিবারিক অনুষ্ঠানের মধ্যে সম্পন্ন হয়েছিল। সেই অনুষ্ঠানে যাদব পরিবারের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সদস্য উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের বিয়ে সে সময় রাজনৈতিক এবং সামাজিক মহলে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছিল।

ফিটনেসের পাশাপাশি প্রতীক যাদবের পরিচিতি ছিল উচ্চমানের স্পোর্টস কারের প্রতি আগ্রহের কারণেও। লখনউয়ের রাস্তায় তাঁকে একাধিকবার দামী বিলাসবহুল গাড়ি চালাতে দেখা গিয়েছিল। তাঁর সংগ্রহে একাধিক প্রিমিয়াম স্পোর্টস কার ছিল, যার মধ্যে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ইঞ্জিন এবং সুপারকার শ্রেণির গাড়িও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

রিপোর্ট অনুযায়ী, তাঁর গাড়ির সংগ্রহে ইতালীয় সুপারকার এবং Lamborghini-র মতো বিলাসবহুল ব্র্যান্ডের গাড়িও ছিল। একটি সাক্ষাৎকারে তিনি রসিকতার সুরে বলেছিলেন যে, তিনি নিজের একটি সুপারকার ঋণ নিয়ে কিনেছিলেন। অটোমোবাইলের প্রতি তাঁর আগ্রহ প্রায়ই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং গাড়িপ্রেমীদের মধ্যে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠত।

 

Leave a comment