ট্রাম্পের ইরানকে সতর্কবার্তা ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা ও জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বৃদ্ধি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে সতর্কবার্তা দেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা, তেলের দামের বৃদ্ধি, হরমুজ প্রণালি ঘিরে নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং যুক্তরাষ্ট্র-চীন কূটনৈতিক আলোচনার সম্ভাবনা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump ইরানকে সতর্ক করে বলেছেন, চলমান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র “যেকোনো পরিস্থিতিতে জয় অর্জন করবে।” তিনি বলেন, ইরানকে হয় সমঝোতায় আসতে হবে, নয়তো গুরুতর পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে। ট্রাম্প আরও বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সব ধরনের সামরিক ও কূটনৈতিক বিকল্প রয়েছে।

চীন সফরে রওনা হওয়ার আগে ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন। সফরকালে তাঁর চীনের প্রেসিডেন্ট Xi Jinping-এর সঙ্গে বৈঠক নির্ধারিত রয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা ও সামরিক তৎপরতায় যুক্তরাষ্ট্র বিপুল ব্যয় করেছে। প্রায় ৭৪ দিনের সময়কালে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ২৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এই অর্থ মূলত অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জামে ব্যয় করা হয়েছে। তবে যুদ্ধ-সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো ও ঘাঁটির ক্ষয়ক্ষতি এই হিসাবের অন্তর্ভুক্ত নয়।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী Pete Hegseth কংগ্রেসে অতিরিক্ত প্রতিরক্ষা বাজেটের দাবি জানিয়ে বলেছেন, বৈশ্বিক সামরিক শক্তি বজায় রাখতে যুক্তরাষ্ট্রকে আরও বিনিয়োগ করতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনার সরাসরি প্রভাব বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে দেখা গেছে। অপরিশোধিত তেলের দামে ৩ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি রেকর্ড করা হয়েছে। ব্রেন্ট ক্রুড এবং ডব্লিউটিআই—উভয়ের দাম বেড়েছে, যার ফলে বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

এছাড়া, সরবরাহ সংকট ও মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে যুক্তরাষ্ট্র সরকার কৌশলগত পেট্রোলিয়াম মজুত থেকে ৫ কোটি ৩৩ লাখ ব্যারেল তেল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

Strait of Hormuz ঘিরেও উত্তেজনা বেড়েছে। ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড (IRGC) এটিকে ৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত একটি “অপারেশন জোন” ঘোষণা করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপ বৈশ্বিক তেল সরবরাহের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে, কারণ এটি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন রুট।

ট্রাম্পের ইরানকে সতর্কবার্তা ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা ও জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বৃদ্ধি

ইসরায়েল ও লেবানন সীমান্ত এলাকায়ও উত্তেজনা বেড়েছে, যেখানে সাম্প্রতিক সময়ে বিমান হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেছে।

পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়েও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিতর্ক বৃদ্ধি পেয়েছে। কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, পাকিস্তান ইরানি সামরিক বিমানকে তাদের বিমানঘাঁটিতে অবস্থানের অনুমতি দিয়েছে। তবে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।

মার্কিন নেতাদের মধ্যে সিনেটর Lindsey Graham-সহ একাধিক ব্যক্তি বলেছেন, অভিযোগগুলো সত্য প্রমাণিত হলে পাকিস্তানের ভূমিকা পর্যালোচনা করা উচিত। অন্যদিকে ট্রাম্প পাকিস্তানের মধ্যস্থতার প্রশংসা করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় দেশটি ইতিবাচক ভূমিকা পালন করছে।

ট্রাম্পের চীন সফরের সময় ইরান সংকটও আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয় হতে পারে। তাঁর সঙ্গে শি জিনপিংয়ের বৈঠকে বাণিজ্যের পাশাপাশি ইরান যুদ্ধ ও হরমুজ সংকট নিয়েও আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

চীনও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে এবং পাকিস্তানকে মধ্যস্থতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে।

ইরান সতর্ক করে বলেছে, তাদের ওপর পুনরায় হামলা হলে তারা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ৯০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়াতে পারে। এতে পারমাণবিক সংকট আরও জটিল হতে পারে।

এদিকে ইসরায়েল লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে একাধিক বিমান হামলা চালিয়েছে, যার ফলে আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি শুধু সামরিক সংঘাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং বৈশ্বিক জ্বালানি, বাণিজ্য এবং কূটনৈতিক ভারসাম্যেও প্রভাব ফেলছে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের আসন্ন আলোচনা এই সংকটের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে এবং আগামী দিনগুলোতে আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও জ্বালানি বাজারে এর বিস্তৃত প্রভাব দেখা যেতে পারে।

 

Leave a comment