সময় বাঁচাতে আজকাল প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই প্রেশার কুকারের ব্যবহার বেড়েছে। তবে অনেকের মনেই প্রশ্ন, কুকারে রান্না করলে কি খাবারের পুষ্টিগুণ কমে যায়? আবার কেউ কেউ মনে করেন, উচ্চ তাপমাত্রা ও চাপের কারণে খাবারের স্বাদ এবং গুণাগুণ নষ্ট হয়ে যায়। এই ধারণার কতটা সত্যি? বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এর উত্তর নির্ভর করছে কী রান্না করছেন এবং কীভাবে রান্না করছেন তার উপর।
সব খাবারের পুষ্টিগুণ একভাবে নষ্ট হয় না
পুষ্টিবিদ ও রায়দিঘি কলেজের পুষ্টিবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপিকা অরবিন্দা স্ব-এর মতে, প্রেশার কুকারে রান্না মানেই পুষ্টিগুণ নষ্ট হয়ে যাওয়া—এই ধারণার কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। বরং অনেক ক্ষেত্রে কম সময়ে রান্না হওয়ার ফলে কিছু পুষ্টি উপাদান বেশি অক্ষত থাকে। বিশেষ করে ভাত, ডাল কিংবা মাংসের মতো খাবার দ্রুত সিদ্ধ হওয়ায় দীর্ঘক্ষণ আগুনে রাখার প্রয়োজন হয় না।
ভাত ও মাংস কুকারে রান্না করা যায়, ব্যাকটেরিয়াও ধ্বংস হয়
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রেশার কুকারে ভাত রান্না করলে তার প্রোটিন, স্টার্চ ও ফাইবারের মতো প্রধান পুষ্টি উপাদান সাধারণত বজায় থাকে। উচ্চচাপ ও উচ্চ তাপমাত্রার কারণে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক ধ্বংস হওয়ার সম্ভাবনাও বেশি থাকে। একইভাবে মাংসও কুকারে নিরাপদে রান্না করা যায় এবং কম সময়ে নরম হওয়ায় জ্বালানিও সাশ্রয় হয়।
অ্যালুমিনিয়ামের কুকার নিয়ে কী বলছেন বিশেষজ্ঞ?
আগের দিনে অধিকাংশ প্রেশার কুকার অ্যালুমিনিয়ামের তৈরি হলেও বর্তমানে স্টেইনলেস স্টিল বা বিভিন্ন মিশ্র ধাতুর কুকারের ব্যবহার বেড়েছে। পুষ্টিবিদের মতে, আধুনিক মানসম্মত কুকার ব্যবহার করলে খাবারের পুষ্টিগুণের উপর উল্লেখযোগ্য নেতিবাচক প্রভাব পড়ে না। তবে পুরনো বা ক্ষতিগ্রস্ত অ্যালুমিনিয়ামের কুকার দীর্ঘদিন ব্যবহার না করাই ভালো।
কোন খাবার কুকারে রান্না না করাই ভালো?
বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু খাবার প্রেশার কুকারে রান্না না করাই শ্রেয়। দুগ্ধজাত খাবার উচ্চচাপে সহজেই ফেটে যেতে পারে এবং স্বাদ ও গঠন নষ্ট হতে পারে। একইভাবে কিছু শাকসবজি দীর্ঘ সময় উচ্চ তাপমাত্রায় থাকলে তাপ-সংবেদনশীল ভিটামিন, বিশেষ করে ভিটামিন সি ও কিছু বি-ভিটামিনের পরিমাণ কমে যেতে পারে। ডিমও অনেক ক্ষেত্রে কুকারে রান্না করার বদলে অন্য পদ্ধতিতে রান্না করাই বেশি উপযোগী।
ভাতের ফ্যান নিয়ে কী পরামর্শ দিচ্ছেন পুষ্টিবিদ?
পুষ্টিবিদের মতে, কুকারে ভাত রান্না করলে ফ্যান বা মাড় পুরোপুরি ভাতের সঙ্গে মিশে গেলে অনেকেই তা খেয়ে নেন। তবে কারও যদি ওজন নিয়ন্ত্রণ বা নির্দিষ্ট স্বাস্থ্যগত লক্ষ্য থাকে, তাহলে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী ভাত রান্নার পদ্ধতি বেছে নেওয়া উচিত। সবার জন্য একই নিয়ম প্রযোজ্য নয়, কারণ খাদ্যাভ্যাস ব্যক্তিভেদে আলাদা হতে পারে।
প্রেশার কুকারে রান্না করলে সব খাবারের পুষ্টিগুণ নষ্ট হয়—এমন ধারণা পুরোপুরি সঠিক নয়। কোন খাবার কুকারে রান্না করা নিরাপদ, আর কোন খাবার এড়িয়ে চলাই ভালো, সে বিষয়ে জানালেন পুষ্টিবিদ ও পুষ্টিবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপিকা।













