ব্যস্ত জীবনে অনেকেই দ্রুত রান্নার জন্য প্রেশার কুকারের ওপর ভরসা করেন। তবে কুকারে ভাত রান্নার সময় সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো ভাতের সঠিক টেক্সচার বজায় রাখা। সামান্য ভুলেই ভাত মণ্ডের মতো নরম হয়ে যেতে পারে বা ঠিকমতো সেদ্ধ না-ও হতে পারে। জেনে নিন প্রেশার কুকারে ঝরঝরে ভাত রান্নার সঠিক নিয়ম।
ভাত রান্নার আগে চাল কীভাবে প্রস্তুত করবেন?
ঝরঝরে ভাতের প্রথম শর্ত হলো চাল ভালোভাবে ধোয়া। চাল ২ থেকে ৩ বার পরিষ্কার পানিতে ধুয়ে অতিরিক্ত স্টার্চ বের করে নিতে হবে। এরপর অন্তত ৩০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা চাল ভিজিয়ে রাখলে দানা ভালোভাবে ফুলে ওঠে এবং রান্নার পর ভাত ঝরঝরে হয়।
চাল ও জলের সঠিক অনুপাত
প্রেশার কুকারে ভাত রান্নার ক্ষেত্রে চাল ও জলের অনুপাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
১ কাপ সেদ্ধ চালের জন্য সাধারণত ২ কাপ জল ব্যবহার করা যায়।
যদি চাল মোটা দানার হয়, তাহলে সামান্য বেশি জল প্রয়োজন হতে পারে।
বাসমতি বা সরু দানার চাল হলে ২ কাপের তুলনায় অল্প কম জল দিলেই ভালো ফল পাওয়া যায়।
একই মাপের কাপ বা বাটি ব্যবহার করলে অনুপাত ঠিক রাখা সহজ হয়।
কতটি সিটি দিলে ভাত ঠিকমতো সেদ্ধ হবে?
চালের ধরন অনুযায়ী সিটির সংখ্যা কিছুটা পরিবর্তিত হতে পারে।
মোটা সেদ্ধ চাল: উচ্চ আঁচে ২টি সিটি হওয়ার পর আঁচ কমিয়ে তৃতীয় সিটি আসার আগেই গ্যাস বন্ধ করে দিন।
সরু বা বাসমতি চাল: প্রথম সিটির পর আঁচ কমিয়ে দ্বিতীয় সিটি হওয়ার আগেই চুলা বন্ধ করে দিন।
এরপর কুকারের ভেতরের চাপ স্বাভাবিকভাবে পুরোপুরি বের না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। তাড়াহুড়ো করে ঢাকনা খুললে ভাতের দানা ভেঙে যেতে পারে।
ঝরঝরে ভাতের জন্য আরও কিছু কার্যকর টিপস
ভাত আরও সুন্দর ও আলাদা দানার করতে চাইলে রান্নার জলে—
১ চা-চামচ লেবুর রস মেশাতে পারেন, এতে ভাতের রং উজ্জ্বল দেখায়।
১ চা-চামচ তেল বা ঘি দিলে ভাতের দানাগুলো একে অপরের সঙ্গে কম লেগে থাকে।
রান্না শেষ হওয়ার পর অন্তত ১০–১২ মিনিট কুকারের চাপ নিজে থেকে কমতে দিন। এরপর ঢাকনা খুলে হালকা করে কাঁটাচামচ বা ভাতের চামচ দিয়ে নেড়ে পরিবেশন করুন।
প্রেশার কুকারে ভাত রান্না করলে সময় বাঁচে, কিন্তু চাল ও জলের অনুপাত ঠিক না হলে ভাত কখনও গলে যায়, আবার কখনও শক্ত থেকে যায়। সঠিক পরিমাণ জল, সিটির সংখ্যা এবং কয়েকটি সহজ কৌশল মেনে চললে খুব সহজেই ঝরঝরে সেদ্ধ ভাত তৈরি করা সম্ভব।













