টমেটো এমন একটি খাদ্য উপাদান, যা প্রায় প্রতিটি পরিবারের রান্নাঘরে নিয়মিত ব্যবহার করা হয়। লাল টুকটুকে এই সবজি শুধু খাবারের স্বাদই বাড়ায় না, বরং শরীরের জন্যও উপকারী। তবে অনেকেরই অজানা, বাংলায় টমেটোর একটি পুরোনো ও ঐতিহাসিক নাম রয়েছে—'বিলিতি বেগুন'।
টমেটোর বাংলা নাম কী?
টমেটোর প্রচলিত বাংলা নাম 'বিলিতি বেগুন'। অতীতে বাংলায় এই নামেই টমেটো পরিচিত ছিল। বিদেশ থেকে আসা এবং দেখতে ছোট আকৃতির বেগুনের মতো হওয়ায় এর নামকরণ করা হয়েছিল 'বিলিতি বেগুন'। যদিও বর্তমানে 'টমেটো' নামটিই সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়।
টমেটোর নামের উৎপত্তি
'টমেটো' শব্দটি এসেছে স্প্যানিশ শব্দ Tomate থেকে। এরও আগে অ্যাজটেকদের নাহুয়াতল ভাষায় টমেটোর নাম ছিল Tomatl। গবেষকদের মতে, এই শব্দ থেকেই ধীরে ধীরে 'টমেটো' নামটির জন্ম হয়।ইতালিতে পৌঁছানোর পর টমেটোকে একসময় Pomodoro বলা হতো, যার অর্থ 'সোনালি আপেল'। পরবর্তীতে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে উচ্চারণের পরিবর্তনের মাধ্যমে বর্তমান'Tomato' নামটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
কোথায় প্রথম জন্ম টমেটোর?
টমেটোর উৎপত্তিস্থল দক্ষিণ আমেরিকা। বর্তমান পেরু, ইকুয়েডর এবং আশপাশের অঞ্চলে হাজার হাজার বছর আগে বুনো টমেটো জন্মাত। পরে মেক্সিকোর অ্যাজটেক সভ্যতা টমেটোকে চাষের মাধ্যমে খাদ্য হিসেবে জনপ্রিয় করে তোলে।ষোড়শ শতকে স্প্যানিশ অভিযাত্রীরা আমেরিকা থেকে টমেটো ইউরোপে নিয়ে যান। এরপর ধীরে ধীরে এটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং রান্নার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদানে পরিণত হয়।
টমেটোর পুষ্টিগুণ
টমেটো ভিটামিন সি, পটাশিয়াম এবং লাইকোপেনের ভালো উৎস। লাইকোপেন একটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা কোষকে ক্ষতিকর ফ্রি-র্যাডিকেলের প্রভাব থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে। এছাড়া টমেটো ত্বকের সুস্থতা বজায় রাখতে এবং সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
টমেটো পরিষ্কার করার সঠিক উপায়
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু পানি দিয়ে ধুলেই সব ধরনের রাসায়নিক অবশিষ্টাংশ দূর হয় না। টমেটো ভালোভাবে পরিষ্কার করতে লবণ মিশ্রিত পানিতে কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রেখে পরে পরিষ্কার পানিতে ধুয়ে নেওয়া যেতে পারে। তবে এটি সব ধরনের কীটনাশক সম্পূর্ণ অপসারণের নিশ্চয়তা দেয় না।
প্রতিদিনের রান্না, স্যালাড, ভর্তা কিংবা সসে টমেটো অপরিহার্য উপাদান। কিন্তু এই পরিচিত সবজিটির বাংলা নাম কী—এ প্রশ্নের উত্তর অনেকেই জানেন না। একসময় বাংলায় টমেটোকে বলা হতো 'বিলিতি বেগুন'। এর নামের ইতিহাস যেমন চমকপ্রদ, তেমনি রয়েছে পুষ্টিগুণ ও বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ার দীর্ঘ গল্প।













