মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার প্রভাবে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর জেরে ভারতে রান্নার গ্যাসের দামও বেড়েছে। ফলে অনেক পরিবার গ্যাস বাঁচাতে প্রেশার কুকারে বেশি করে রান্না করছেন। কিন্তু রান্নাঘরের এই সাধারণ যন্ত্রটিই অসতর্ক ব্যবহারে বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। তাই প্রেশার কুকার ব্যবহার করার সময় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অবশ্যই মনে রাখা দরকার।
গ্যাস সাশ্রয়ে বাড়ছে প্রেশার কুকারের ব্যবহার
রান্নার গ্যাসের দাম বাড়ার পর অনেকেই দ্রুত রান্না করার জন্য প্রেশার কুকারের উপর নির্ভর করছেন। এতে কম সময়ে খাবার রান্না হয় এবং গ্যাসও কম খরচ হয়। তবে নিরাপত্তার নিয়ম মানা না হলে এটি বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।
হুইসেল ও সেফটি ভালভ আগে পরীক্ষা করুন
কুকার গ্যাসে বসানোর আগে হুইসেল ও সেফটি ভালভ ভালোভাবে পরীক্ষা করা জরুরি।
হুইসেলের মধ্যে ময়লা জমে গেলে বা সেফটি ভালভ ঠিকমতো কাজ না করলে কুকারের ভেতরে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে।
প্রয়োজনের বেশি জল দেবেন না
অনেকেই তাড়াহুড়ো করে কুকারে অতিরিক্ত জল দিয়ে দেন। এতে কুকারের ভেতরে চাপের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে। তাই সব সময় নির্দেশ অনুযায়ী পরিমাণে জল ব্যবহার করা উচিত।
রবার গ্যাসকেট নিয়মিত পরীক্ষা করা জরুরি
প্রেশার কুকারের ঢাকনার রবার বা গ্যাসকেট যদি কেটে যায় বা ঢিলে হয়ে যায়, তবে সেটি অবিলম্বে বদলানো উচিত। ক্ষতিগ্রস্ত রবার ব্যবহার করলে কুকার ফেটে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
কুকার খোলার সময় তাড়াহুড়ো করবেন না
রান্না শেষ হওয়ার পর অনেকেই দ্রুত কুকার খুলে ফেলেন। কিন্তু কুকারের ভেতরে চাপ পুরোপুরি না কমলে হঠাৎ করে গরম বাষ্প বেরিয়ে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই চাপ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা উচিত।
রান্নাঘরের নিরাপত্তায় সতর্কতা জরুরি
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রেশার কুকার রান্নাঘরের একটি কার্যকর যন্ত্র হলেও এর নিরাপত্তা নিয়ম মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি। নিয়মিত পরিষ্কার রাখা, যন্ত্রাংশ পরীক্ষা করা এবং সঠিকভাবে ব্যবহার করলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।
রান্নার গ্যাসের দাম বাড়ায় অনেকেই এখন বেশি করে প্রেশার কুকার ব্যবহার করছেন। এতে গ্যাস কম লাগে এবং দ্রুত রান্না হয়। তবে অসতর্কভাবে ব্যবহার করলে প্রেশার কুকার বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কয়েকটি সাধারণ নিয়ম মেনে চললে এই ঝুঁকি সহজেই এড়ানো সম্ভব।











