প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শনিবার অসম এবং পশ্চিমবঙ্গে ৪২,০০০ কোটি টাকার বেশি মূল্যের উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করবেন। দুই দিনের এই সফরের প্রথম পর্যায়ে তিনি অসমের শিলচরে পৌঁছাবেন, যেখানে ২৩,৫০০ কোটি টাকার বেশি মূল্যের বিভিন্ন প্রকল্পের সূচনা হবে। পরে তিনি পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় প্রায় ১৮,৬৮০ কোটি টাকার প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন। সফরের সময় প্রধানমন্ত্রী উভয় রাজ্যে জনসভাতেও ভাষণ দেবেন।
অসমে অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প
প্রধানমন্ত্রী সকাল প্রায় ১০:৪৫ মিনিটে শিলচরে পৌঁছাবেন এবং সড়ক, রেল, শিক্ষা ও কৃষি খাতের একাধিক প্রকল্পের সূচনা করবেন। এই প্রকল্পগুলির লক্ষ্য উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সংযোগ ব্যবস্থা উন্নত করা, বাণিজ্য ও শিল্প কার্যক্রমে গতি আনা এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য অবকাঠামোগত সুবিধা বৃদ্ধি করা।
শিলচর–গুয়াহাটি এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের শিলান্যাস করবেন প্রধানমন্ত্রী। প্রায় ২২,০০০ কোটি টাকার এই প্রকল্পটির দৈর্ঘ্য ১৬৬ কিলোমিটার। প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে শিলচর ও গুয়াহাটির মধ্যে যাতায়াতের সময় কমে প্রায় ৪ থেকে ৪.৫ ঘণ্টা হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর ফলে অঞ্চলে বাণিজ্য, পর্যটন এবং পরিবহন ব্যবস্থায় উন্নতি হতে পারে।

শিলচরে ৫৬৩ কোটি টাকার একটি ফ্লাইওভার নির্মাণের শিলান্যাসও করবেন প্রধানমন্ত্রী, যা শহরের যানজট কমাতে সহায়তা করতে পারে। এছাড়া পাথারকান্দিতে ১২২ কোটি টাকার ব্যয়ে তিনটি কৃষি মহাবিদ্যালয় স্থাপনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে। এই প্রতিষ্ঠানগুলো অঞ্চলে কৃষি শিক্ষা ও গবেষণাকে উৎসাহিত করবে।
রেলওয়ে খাতে প্রধানমন্ত্রী শিলচর–চুরাইবাড়ি রেল বিদ্যুতায়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন। প্রায় ৬৫৫ কোটি টাকার এই প্রকল্প সম্পন্ন হলে রেল পরিষেবা দ্রুততর ও অধিক শক্তি-দক্ষ হবে এবং যাত্রীদের জন্য সময়নিষ্ঠ পরিষেবা প্রদান সম্ভব হবে।
পশ্চিমবঙ্গে জাতীয় সড়ক ও সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প
অসমের কর্মসূচির পর প্রধানমন্ত্রী কলকাতায় পৌঁছাবেন, যেখানে তিনি প্রায় ১৮,৬৮০ কোটি টাকার প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করবেন। এর মধ্যে ৪২০ কিলোমিটারের বেশি দৈর্ঘ্যের জাতীয় সড়ক প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যার ব্যয় প্রায় ১৬,৯৯০ কোটি টাকা। এনএইচ–১৯ এবং এনএইচ–১১৪-এর একাধিক অংশের উন্নয়ন করা হবে, যার ফলে সড়ক নিরাপত্তা উন্নত হবে এবং যানজট কমতে পারে।
কলকাতা সফরের সময় প্রধানমন্ত্রী ব্রিগেড ময়দানে একটি জনসভায় ভাষণ দেবেন। এই সমাবেশটি বিজেপির “পরিবর্তন যাত্রা”-র সমাপনী কর্মসূচি হিসেবে আয়োজন করা হচ্ছে এবং এটিকে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই মঞ্চ থেকে প্রধানমন্ত্রী রাজ্যে উন্নয়ন এবং রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে বক্তব্য রাখতে পারেন।










