বাংলার ঐতিহ্যবাহী জরী শিল্প আবারও নতুন করে সম্ভাবনার আলো দেখাচ্ছে। হাওড়া জেলার উলুবেড়িয়া, বাগনান, পাঁচলা ও সাঁকরাইল অঞ্চলে একসময় এই শিল্পের উপর নির্ভর করেই জীবিকা নির্বাহ করতেন বহু মানুষ। বর্তমানে সেই শিল্প নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়লেও, সঠিক পরিকল্পনা ও আধুনিক বিপণন কৌশল গ্রহণ করলে এখানেই তৈরি হতে পারে লাভজনক ব্যবসার সুযোগ—এমনটাই মনে করছেন রাষ্ট্রপতি পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রবীণ জরী শিল্পী গোবিন্দ বর।
একসময়ের ঐতিহ্য, আজ নতুন সম্ভাবনার সন্ধানে
হাওড়ার বিভিন্ন এলাকায় বহু বছর ধরে জরী শিল্প ছিল গুরুত্বপূর্ণ কুটির শিল্প। কিন্তু গত দুই দশকে আয় কমে যাওয়া, বাজারের পরিবর্তন এবং নতুন প্রজন্মের অনাগ্রহের কারণে বহু দক্ষ কারিগর এই পেশা ছেড়ে অন্য কাজে চলে গিয়েছেন।
ফলে একসময়ের সমৃদ্ধ এই শিল্প আজ অস্তিত্বের লড়াইয়ে দাঁড়িয়ে।
বিশ্ববাজারে এখনও রয়েছে চাহিদা
প্রবীণ জরী শিল্পী গোবিন্দ বরের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে এখনও বাংলার হাতে তৈরি জরী কাজের যথেষ্ট কদর রয়েছে। বিশেষ করে হ্যান্ডক্রাফ্ট, কাস্টমাইজড ডিজাইন এবং ঐতিহ্যবাহী সূচিশিল্পের প্রতি বিদেশি ক্রেতাদের আগ্রহ বাড়ছে।তাঁর মতে, বাজারের চাহিদা বুঝে পণ্যের নকশা ও উপস্থাপনায় পরিবর্তন আনতে পারলে আয়ের নতুন দরজা খুলতে পারে।
শুধু পোশাক নয়, তৈরি করা যায় শিল্পকর্মও
গোবিন্দ বরের পরামর্শ, জরী শিল্পকে শুধুমাত্র শাড়ি বা পোশাকের অলংকরণে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না।
তিনি জানান, কাপড়ের ক্যানভাসে জরী দিয়ে—
শিল্পকর্ম
দেওয়াল সাজানোর ফ্রেম
ডেকোরেটিভ প্যানেল
উপহার সামগ্রী
কাস্টমাইজড ডিজাইন
তৈরি করেও নতুন বাজার তৈরি করা সম্ভব।
সৃজনশীলতাই হতে পারে সাফল্যের চাবিকাঠি
এই শিল্পে সফল হতে গেলে শুধু কারিগরি দক্ষতা নয়, নতুন ভাবনা এবং আধুনিক ডিজাইনের উপরও জোর দেওয়ার কথা বলেছেন তিনি।
ঐতিহ্যবাহী জরীর কাজের সঙ্গে সমসাময়িক নকশার মেলবন্ধন ঘটাতে পারলে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক—দুই বাজারেই ভালো সুযোগ তৈরি হতে পারে।
'সরকারি চাকরির থেকেও বেশি আয়'—দাবি কতটা বাস্তব?
জরী শিল্প থেকে উল্লেখযোগ্য আয় করা সম্ভব হলেও, 'সরকারি চাকরির থেকেও বেশি আয়'—এমন দাবি সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রযোজ্য নয়।
আয় নির্ভর করে একাধিক বিষয়ের উপর, যেমন—
কারিগরের দক্ষতা
পণ্যের মান
ডিজাইনের বৈচিত্র্য
বাজার ও ক্রেতার চাহিদা
বিপণন ও রপ্তানির সুযোগ
অর্থাৎ সঠিক পরিকল্পনা ও বাজার তৈরি করতে পারলে উচ্চ আয়ের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে, তবে তা ব্যক্তি ও ব্যবসাভেদে ভিন্ন হবে।
একসময় হাওড়ার লক্ষাধিক মানুষের জীবিকার অন্যতম ভরসা ছিল জরী শিল্প। সময়ের সঙ্গে এই ঐতিহ্যবাহী শিল্পে ভাটা পড়লেও এখন নতুন সম্ভাবনার কথা বলছেন রাষ্ট্রপতি পুরস্কারপ্রাপ্ত জরী শিল্পী গোবিন্দ বর। তাঁর মতে, আধুনিক ডিজাইন, সৃজনশীলতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারকে লক্ষ্য করে কাজ করলে জরী শিল্প থেকেই উল্লেখযোগ্য আয়ের সুযোগ তৈরি হতে পারে।












