পিএসআইটি-তে সিকিউরিটি মানি ও উপস্থিতি নিয়ম ঘিরে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, ৬ জন বহিষ্কার

কানপুরের পিএসআইটি কলেজে ২০ হাজার টাকার সিকিউরিটি মানি, ৯০ শতাংশ উপস্থিতির নিয়ম এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ৬ জন শিক্ষার্থীকে বহিষ্কারের পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়েছে।
পিএসআইটি-তে সিকিউরিটি মানি ও উপস্থিতি নিয়ম ঘিরে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, ৬ জন বহিষ্কার
Photo Credit / Attribution: Google

কানপুরের অন্যতম বেসরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং ও ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান পিএসআইটি-তে শিক্ষার্থী ও কলেজ প্রশাসনের মধ্যে নিরাপত্তা আমানত, উপস্থিতির নিয়ম এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে বিরোধ তীব্র আকার নিয়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের বাইরে নেমে বিক্ষোভ প্রদর্শন শুরু করে। পরে এই ইস্যু সামাজিক মাধ্যম থেকে শুরু করে কলেজ চত্বরে ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, কলেজ প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২০ হাজার টাকা সিকিউরিটি মানি জমা দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে। তাদের দাবি, এই অর্থ হঠাৎ এবং কঠোরভাবে দাবি করা হয়েছে, যার ফলে আর্থিকভাবে দুর্বল পরিবারের শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে। একাধিক শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, টিউশন ফি, হোস্টেল খরচ এবং অন্যান্য ব্যয়ের পর এত বড় অঙ্কের অর্থ জমা দেওয়া তাদের পক্ষে সহজ নয়।

বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সিকিউরিটি মানি সংক্রান্ত বিষয়ে কলেজ প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি। কয়েকজন শিক্ষার্থী দাবি করেছেন, অর্থ জমা না দিলে তাদের পরীক্ষা, ক্লাস এবং অন্যান্য শিক্ষামূলক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ থেকে বিরত রাখার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে ধীরে ধীরে ক্ষোভ বাড়তে থাকে এবং বহু শিক্ষার্থী প্রকাশ্যে কলেজ প্রশাসনের বিরোধিতা শুরু করেন।

পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যখন শিক্ষার্থীরা কলেজ ক্যাম্পাসের বাইরে গিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। রাস্তায় নেমে তারা কলেজ প্রশাসনের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন এবং সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানান। বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের বক্তব্য, কলেজে পড়াশোনার চেয়ে নিয়ম ও চাপের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের হয়রানি করা হচ্ছে। বিক্ষোভে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী অংশ নেওয়ায় কিছু সময়ের জন্য এলাকায় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

শিক্ষার্থীদের একটি বড় অভিযোগ ৯০ শতাংশ উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করার নিয়ম নিয়েও। তাদের বক্তব্য, কলেজে আগে থেকেই অত্যন্ত কঠোর উপস্থিতির নিয়ম কার্যকর রয়েছে এবং এখন সিকিউরিটি মানিকেও উপস্থিতির সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের দাবি, কারও উপস্থিতি ৯০ শতাংশের কম হলে তার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। অনেক শিক্ষার্থী এই নিয়মকে অবাস্তব বলে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন, অসুস্থতা, পারিবারিক সমস্যা বা অন্যান্য কারণে অনেক সময় ক্লাস মিস হয়, কিন্তু কলেজ প্রশাসন কোনও ধরনের ছাড় দিতে রাজি নয়।

বিতর্ক আরও গভীর হয় যখন কলেজ প্রশাসন বিক্ষোভে অংশ নেওয়া কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া শুরু করে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ছয়জন শিক্ষার্থীকে কলেজ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে আরও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের বক্তব্য, নিজেদের দাবি তুলে ধরা কোনও অপরাধ নয় এবং কলেজ প্রশাসন শিক্ষার্থীদের সমস্যা শোনার পরিবর্তে তাদের দমন করার চেষ্টা করছে।

বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীদের সমর্থনেও বহু শিক্ষার্থী সামনে আসেন। সামাজিক মাধ্যমে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে একাধিক পোস্ট ও ভিডিও ভাইরাল হতে শুরু করে। কিছু শিক্ষার্থী দাবি করেছেন, দীর্ঘদিন ধরেই কলেজে শৃঙ্খলার নামে অতিরিক্ত কঠোরতা আরোপ করা হচ্ছে। কয়েকজন অভিভাবকও উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ এমন হওয়া উচিত যেখানে শিক্ষার্থীরা স্বাধীনভাবে নিজেদের বক্তব্য রাখতে পারে, ভয় বা চাপের মধ্যে পড়াশোনা করতে না হয়।

তবে কলেজ প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভিন্ন অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে। প্রশাসনের বক্তব্য, প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা ও শিক্ষার মান বজায় রাখতে নিয়ম প্রয়োজন। কলেজের দাবি, সিকিউরিটি মানি এবং উপস্থিতি সংক্রান্ত নিয়ম প্রতিষ্ঠানটির নীতির অংশ এবং তা আগেই শিক্ষার্থীদের জানানো হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে বিক্ষোভ চলাকালীন কয়েকজন শিক্ষার্থী শৃঙ্খলাভঙ্গ করেছেন, যার কারণে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

তবুও শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ কমেনি। বহু শিক্ষার্থী বলেছেন, কলেজ প্রশাসন যদি আগে আলোচনা করত এবং শিক্ষার্থীদের আর্থিক ও বাস্তব সমস্যাগুলি বোঝার চেষ্টা করত, তাহলে পরিস্থিতি এতদূর গড়াত না। কিছু শিক্ষার্থীর অভিযোগ, কলেজে অভিযোগ শোনার কার্যকর ব্যবস্থা নেই, যার ফলে ছোট সমস্যা বড় বিরোধে পরিণত হচ্ছে।

এই ঘটনা এখন শুধু একটি কলেজের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বাড়তি ফি, কঠোর নিয়ম এবং শিক্ষার্থীদের ওপর বাড়তে থাকা চাপ নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, শৃঙ্খলা গুরুত্বপূর্ণ হলেও শিক্ষার্থীদের মানসিক অবস্থা, আর্থিক পরিস্থিতি এবং বাস্তব সমস্যাগুলিকেও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। শুধুমাত্র কঠোর নিয়ম প্রয়োগ করলে শিক্ষার পরিবেশ উন্নত হয় না, বরং অনেক ক্ষেত্রে উত্তেজনা ও অসন্তোষ বাড়তে পারে।

অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের বক্তব্য, তারা পড়াশোনার বিরুদ্ধে নয়, বরং এমন নিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছেন যা তাদের মানসিক ও আর্থিকভাবে চাপে ফেলছে। তাদের দাবি, কলেজ প্রশাসনের উচিত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আরও বেশি সংলাপ বাড়ানো এবং নতুন কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে শিক্ষার্থীদের মতামত শোনা।

বর্তমানে নজর রয়েছে এই বিরোধের সমাধান কোন পথে হয় তার দিকে। সময়মতো আলোচনা ও সমঝোতার পথ না বের হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে। আপাতত ক্যাম্পাসের পরিবেশ উত্তেজনাপূর্ণ রয়েছে এবং শিক্ষার্থীরা বহিষ্কৃত সহপাঠীদের পুনর্বহাল ও বিতর্কিত নিয়মে শিথিলতার দাবিতে অনড় রয়েছেন।

Leave a comment