কাশ্মীর বা দার্জিলিং নয়, এবার শীতের চমক পুরুলিয়ায়। টানা কয়েক দিন ধরে জেলার বিভিন্ন এলাকায় ভোরবেলায় ঘাস, খড়ের গাদা, লোহার পাইপ এমনকি চারচাকা গাড়ির ছাদে জমে উঠছে সাদা বরফের মতো আস্তরণ। অথচ সর্বনিম্ন তাপমাত্রা জিরো ডিগ্রির অনেক উপরে। তাহলে কীভাবে সম্ভব এই ‘বরফ’?
জিরোর উপরে তাপমাত্রা, তবুও সাদা চাদর
চলতি শীতের মরশুমে পুরুলিয়ার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমেছে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। রবিবার তা ছিল ৫ ডিগ্রি। এই তাপমাত্রা দার্জিলিং, কালিম্পং ও গ্যাংটকের থেকেও অনেক সময় কাছাকাছি বা কম। বুধবার থেকে টানা কয়েক দিন এই পরিস্থিতি বজায় থাকায় ভোরের দিকে জেলার বিভিন্ন এলাকায় দেখা যাচ্ছে সাদা তুষারের মতো আস্তরণ।
এটি তুষারপাত নয়, কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা
পুরুলিয়া জেলা বিজ্ঞান কেন্দ্রের আধিকারিক ধ্রবজ্যোতি চট্টোপাধ্যায় জানাচ্ছেন, “একে তুষারপাত বলা যাবে না। এটি ‘গ্রাউন্ড ফ্রস্ট’ বা ভূমি তুহিন। সাধারণত সর্বনিম্ন তাপমাত্রা শূন্যের উপরে থাকলেও ৫ ডিগ্রির নিচে নামলে, বিশেষ পরিস্থিতিতে এমন সাদা বরফ জমতে পারে।”
কীভাবে তৈরি হয় ‘গ্রাউন্ড ফ্রস্ট’
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনার জন্য একাধিক শর্ত একসঙ্গে পূরণ হতে হয়—
আকাশ থাকতে হবে সম্পূর্ণ মেঘমুক্ত
বাতাস থাকতে হবে প্রায় স্থির
দূষণের মাত্রা কম হতে হবে
শিশিরাঙ্ক (Dew Point) শূন্য ডিগ্রির নিচে নামতে হবে
এই অবস্থায় বাতাসে থাকা জলীয়বাষ্প জলকণায় পরিণত না হয়ে সরাসরি বরফকণায় রূপ নেয় এবং মাটির উপর, ঘাস বা বস্তুর গায়ে জমে যায়।
কোথায় কোথায় দেখা গেল এই দৃশ্য
অযোধ্যা পাহাড়ের সীতাকুণ্ড এলাকা, বেগুনকোদর, বান্দোয়ানের ডাঙা গ্রাম, ঝালদা-খামার যাওয়ার পথ, সত্যমেলা অঞ্চল—সব জায়গাতেই ভোরবেলা দেখা গিয়েছে তুষারের মতো সাদা আস্তরণ। অযোধ্যা হিলটপে ঘাসের উপর জমে থাকা বরফে ঢাকা পড়ে রিসর্টের গাড়ির ছাদও।
আগেও ঘটেছিল এমন ঘটনা
এই প্রথম নয়। ২০১৯ সালের ২৮ ডিসেম্বর বেগুনকোদর এলাকায় একই ধরনের তুষার জমার ঘটনা ঘটেছিল। তবে এবছর শীতের তীব্রতা আরও বেশি। কৃষি দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, পুরুলিয়ার ইতিহাসে এই প্রথম সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রিতে নেমেছে।
স্থানীয়দের উচ্ছ্বাস
স্থানীয় বাসিন্দা বিমল কুইরি ও ঠাকুরদাস মাহাতো বলেন, “পুরুলিয়াতেই বরফ দেখা যাবে ভাবিনি। খড়ের গাদার উপর একেবারে সাদা চাদর—শীতটা বেশ উপভোগ করছি।”
পুরুলিয়ায় জিরো ডিগ্রির নিচে তাপমাত্রা নামেনি, তবুও পাহাড়ি ও গ্রামীণ এলাকায় ঘাস, খড়, গাড়ির ছাদে জমছে সাদা বরফের আস্তরণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি তুষারপাত নয়, বরং বিরল আবহাওয়া পরিস্থিতিতে তৈরি হওয়া ‘গ্রাউন্ড ফ্রস্ট’ বা ভূমি তুহিন।








