পকেটে খুচরো নেই? কোনও সমস্যা নেই—স্মার্টফোন বার করে দোকানের QR Code স্ক্যান করলেই মুহূর্তে হয়ে যাচ্ছে পেমেন্ট। শহর থেকে গ্রাম—সব জায়গাতেই এখন এই ডিজিটাল লেনদেনের দাপট। কিন্তু এই সহজ ব্যবস্থার আড়ালেই লুকিয়ে রয়েছে সাইবার জালিয়াতির বড় ঝুঁকি। বিশেষজ্ঞদের মতে, সামান্য অসাবধানতাই আপনার কষ্টার্জিত অর্থকে প্রতারকদের হাতে তুলে দিতে পারে।
স্টিকার লাগানো কোড দেখলে সতর্ক
প্রথমেই ভালো করে দেখে নিন কিউআর কোডের উপর কোনও স্টিকার বা আলাদা কাগজ লাগানো আছে কি না। অনেক সময় প্রতারকেরা আসল কোডের ওপর নিজেদের কোড বসিয়ে দেয়। তাই টাকা দেওয়ার আগে কোডটি খুঁটিয়ে পরীক্ষা করা জরুরি। সামান্য সন্দেহ হলেই সেই কোড ব্যবহার না করাই নিরাপদ।
নাম যাচাই না করে পেমেন্ট নয়
কোড স্ক্যান করার পর স্ক্রিনে যে নাম বা অ্যাকাউন্টের তথ্য দেখা যায়, তা মন দিয়ে যাচাই করুন। দোকানের নামের সঙ্গে মিলছে কি না, তা নিশ্চিত হয়ে তবেই পেমেন্ট করুন। মনে রাখবেন, টাকা পাওয়ার জন্য কখনও কিউআর কোড স্ক্যান করতে হয় না। কেউ যদি টাকা পাঠানোর অজুহাতে কোড স্ক্যান করতে বলে, তা হলে বুঝবেন এটি প্রতারণার ফাঁদ।
শুধুমাত্র বিশ্বস্ত অ্যাপ ব্যবহার করুন
ডিজিটাল পেমেন্টের ক্ষেত্রে সবসময় নির্ভরযোগ্য অ্যাপ ব্যবহার করা উচিত। যেমন— Google Pay, PhonePe বা Paytm। অচেনা বা সন্দেহজনক অ্যাপ দিয়ে কিউআর কোড স্ক্যান করলে ফোনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হ্যাকারদের হাতে চলে যেতে পারে।
সন্দেহজনক লিঙ্কে ক্লিক করবেন না
স্ক্যান করার পরে যদি কোনও পপ-আপ মেসেজ বা অচেনা লিঙ্কে ক্লিক করতে বলা হয়, তা হলে সঙ্গে সঙ্গে লেনদেন বন্ধ করুন। সাইবার বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত ইউপিআই পিন পরিবর্তন করা এবং ব্যাঙ্কের নিরাপত্তা সেটিংস আপডেট রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রতারণা হলে কোথায় অভিযোগ করবেন
যদি কোনওভাবে সাইবার জালিয়াতির শিকার হন, তবে সময় নষ্ট না করে ব্যাঙ্কের হেল্পলাইনে যোগাযোগ করুন। পাশাপাশি National Cyber Crime Reporting Portal-এ অভিযোগ জানানো যেতে পারে। দ্রুত পদক্ষেপ নিলে অনেক ক্ষেত্রেই টাকা উদ্ধার করা সম্ভব।
ডিজিটাল পেমেন্টের যুগে QR Code স্ক্যান করে টাকা দেওয়া এখন অত্যন্ত সহজ। কিন্তু এই সুবিধাকেই কাজে লাগিয়ে প্রতারকেরা নতুন ফাঁদ পাতছে। সামান্য অসতর্ক হলেই মুহূর্তে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা উধাও হয়ে যেতে পারে। তাই স্ক্যান করার আগে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা নিয়ম জানা জরুরি।










