খারাপ আবহাওয়া ছিল সবার জন্যই সমান। তবু কেন রাঁচি থেকে ওড়া বড় দুই যাত্রীবাহী বিমান নিরাপদে দিল্লি পৌঁছল, আর এয়ার অ্যাম্বুল্যান্স কয়েক মিনিটের মধ্যেই বিধ্বস্ত হল? এই প্রশ্নই এখন তদন্তের কেন্দ্রে।
একই সময়ে উড্ডয়ন, ভিন্ন পরিণতি
সোমবার রাতে প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেই রাঁচি বিমানবন্দর থেকে পরপর তিনটি বিমান উড্ডয়ন করে। সূত্রের খবর, এয়ার অ্যাম্বুল্যান্স দুর্ঘটনার প্রায় আট মিনিট আগে ইন্ডিগোর একটি বিমান ছাড়ে। একই সময়ে এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইটও উড্ডয়ন করে এবং প্রতিকূল আবহাওয়া সত্ত্বেও নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে যায়।অন্যদিকে, ছোট এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সটি উড্ডয়নের কিছুক্ষণের মধ্যেই বিপর্যস্ত হয়।
কিউমুলোনিম্বাস মেঘ ও তীব্র টার্বুলেন্স
উড্ডয়নের সময় রাঁচির আকাশে ঘন কিউমুলোনিম্বাস মেঘ প্রায় ৩,০০০ ফুট পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। এই ধরনের মেঘ বজ্রঝড়, প্রবল বায়ুপ্রবাহ ও তীব্র টার্বুলেন্স সৃষ্টি করতে পারে।
এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সটি ৬,০০০ ফুট উচ্চতায় ওঠার পর খারাপ আবহাওয়া এড়াতে ডাইভারশনের অনুমতি চেয়েছিল। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
ছোট বিমান, বড় ঝুঁকি
দুর্ঘটনাগ্রস্ত বিমানটি ছিল বিচক্রাফ্ট সি৯০—একটি ছোট টার্বোপ্রপ এয়ারক্রাফ্ট। বড় বাণিজ্যিক জেটের তুলনায় এ ধরনের ছোট বিমানের স্থিতিশীলতা কম এবং প্রবল বায়ুচাপে নিয়ন্ত্রণ রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় জেট বিমানে উন্নত আবহাওয়া রাডার, শক্তিশালী ইঞ্জিন ও বেশি ওজন থাকায় ঝোড়ো পরিস্থিতি সামলানো তুলনামূলক সহজ হয়।
রোগী নিয়ে দিল্লির পথে
এই এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সটি গুরুতর দগ্ধ এক রোগীকে দিল্লিতে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাচ্ছিল। উড্ডয়নের কয়েক মিনিটের মধ্যেই দুর্ঘটনা ঘটে।
তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখছেন, আবহাওয়া সতর্কতা, ফ্লাইট পরিকল্পনা ও পাইলটের সিদ্ধান্ত—কোনও পর্যায়ে ত্রুটি ছিল কি না।
তদন্তে নজর আবহাওয়া ও সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়ায়
প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, আকস্মিক টার্বুলেন্স, মেঘস্তরের ঘনত্ব এবং ছোট বিমানের সীমাবদ্ধতাই বড় কারণ হতে পারে। তবে ব্ল্যাক বক্সের তথ্য বিশ্লেষণের পরই প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে।একই আবহাওয়ায় অন্য বিমানগুলি নিরাপদে পৌঁছনোয় প্রশ্ন উঠছে—ফ্লাইট রুট, উচ্চতা নির্বাচন বা ডাইভারশনের সময়ে কোনও গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য ছিল কি না।
ঝাড়খণ্ডের চাতরায় এয়ার অ্যাম্বুল্যান্স দুর্ঘটনার পর উঠছে একাধিক প্রশ্ন। রাঁচির Birsa Munda Airport থেকে প্রায় একই সময়ে উড্ডয়ন করা IndiGo ও Air India-র বিমান নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছালেও, ছোট বিচক্রাফ্ট সি৯০ এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সটি খারাপ আবহাওয়ায় ভেঙে পড়ে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিমানের আকার, আবহাওয়ার তীব্রতা ও প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতাই বড় কারণ হতে পারে।










