আজ বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা রণবীর সিং। তবে এই সাফল্য একদিনে আসেনি। আর্থিকভাবে স্বচ্ছল পরিবারে বড় হলেও নিজের পরিচয় গড়ে তুলতে কঠিন পথই বেছে নিয়েছিলেন তিনি। নিরাপদ চাকরি ছেড়ে অভিনয়ের স্বপ্নকে আঁকড়ে ধরে একের পর এক অডিশন দিয়েছেন। সেই সাহস আর অধ্যবসায়ই তাঁকে পৌঁছে দিয়েছে সাফল্যের শিখরে।
ছোটবেলা থেকেই অভিনয়ের প্রতি ছিল গভীর টান
১৯৮৫ সালের ৬ জুলাই মুম্বইয়ের এক সিন্ধি ব্যবসায়ী পরিবারে জন্ম রণবীর সিংয়ের। ছোটবেলা থেকেই সিনেমা, নাটক এবং মঞ্চাভিনয়ের প্রতি ছিল প্রবল আগ্রহ। স্কুলজীবনে নাটক ও বিতর্ক প্রতিযোগিতায় নিয়মিত অংশ নিতেন। তখনই অভিনয়কে ভবিষ্যতের পেশা হিসেবে বেছে নেওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন।
বিদেশে পড়াশোনা, তবু স্বপ্নের লক্ষ্য বদলায়নি
উচ্চশিক্ষার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটি ব্লুমিংটনে ভর্তি হন রণবীর। সেখানে টেলিযোগাযোগ ও নাট্যকলায় পড়াশোনার পাশাপাশি থিয়েটারের সঙ্গে যুক্ত হন। নিজের খরচ সামলাতে পার্ট-টাইম কাজও করেছেন। সেই অভিজ্ঞতাই তাঁকে বাস্তব জীবনের লড়াইয়ের জন্য আরও প্রস্তুত করে।
চাকরি ছেড়ে নেন জীবনের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি
ভারতে ফিরে একটি বিজ্ঞাপনী সংস্থায় কপিরাইটার ও ক্রিয়েটিভ পেশাজীবী হিসেবে কাজ শুরু করেন রণবীর। চাকরি স্থায়ী হলেও মন পড়ে থাকত অভিনয়ে। শেষ পর্যন্ত নিরাপদ ক্যারিয়ার ছেড়ে সম্পূর্ণভাবে অডিশনের জগতে ঝাঁপিয়ে পড়েন। সেই সিদ্ধান্তই তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
'ব্যান্ড বাজা বারাত' বদলে দেয় ভাগ্য
যশ রাজ ফিল্মসের 'ব্যান্ড বাজা বারাত'-এ বিট্টু শর্মার চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পান রণবীর। প্রথম ছবিতেই প্রাণবন্ত অভিনয় দর্শক ও সমালোচকদের নজর কেড়ে নেয়। সেই ছবির জন্য তিনি ফিল্মফেয়ার সেরা নবাগত অভিনেতার সম্মানও অর্জন করেন।
একের পর এক সুপারহিটে প্রতিষ্ঠা পাকা
এরপর 'লুটেরা', 'গোলিওঁ কি রাসলীলা রাম-লীলা', 'বাজিরাও মাস্তানি', 'পদ্মাবত', 'গলি বয়' এবং 'সিম্বা'-সহ একাধিক ছবিতে ভিন্নধর্মী চরিত্রে অভিনয় করে নিজের বহুমুখী প্রতিভার প্রমাণ দেন। বর্তমানে তিনি বলিউডের সর্বাধিক জনপ্রিয় ও সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত অভিনেতাদের অন্যতম।
উচ্চবিত্ত সিন্ধি পরিবারে জন্ম হলেও পারিবারিক ব্যবসার পথে হাঁটেননি রণবীর সিং। অভিনয়ের স্বপ্ন পূরণ করতে পড়াশোনার পাশাপাশি পার্ট-টাইম কাজ করেছেন, বিজ্ঞাপনী সংস্থায় চাকরি করেছেন, তারপর ঝুঁকি নিয়ে নেমেছেন অডিশনের লড়াইয়ে। জন্মদিনে ফিরে দেখা সেই অনুপ্রেরণার যাত্রাপথ।









