রেখার ৭১তম জন্মদিন: প্রতিকূলতা পেরিয়ে যেভাবে তিনি হলেন বলিউডের স্টাইল আইকন

আজ অভিনেত্রী রেখার ৭১তম জন্মদিন। শ্যামলা গায়ের রঙ ও শারীরিক গঠন নিয়ে সমালোচিত হয়েও কীভাবে তিনি বলিউডের অন্যতম সফল অভিনেত্রী ও স্টাইল আইকন হয়ে উঠলেন? তাঁর বর্ণময় কেরিয়ারের সংগ্রাম ও সফলতার গল্প পড়ুন।

অভিনেত্রী রেখা আজ তাঁর ৭১তম জন্মদিন উদযাপন করছেন। ভারতীয় সিনেমার অন্যতম আইকনিক অভিনেত্রী রেখার সৌন্দর্য, ফিটনেস এবং স্টাইল আজও আলোচনার বিষয়। কিন্তু এই সাফল্য ও প্রশংসা সহজে আসেনি। 

এন্টারটেইনমেন্ট নিউজ: তেলুগু ছবিতে শিশু শিল্পী হিসেবে নিজের কর্মজীবন শুরু করা রেখার পরিবারও শিল্পের সঙ্গে যুক্ত ছিল, তাঁর বাবা জেমিনি গণেশন এবং মা পুষ্পাভল্লিও চমৎকার শিল্পী ছিলেন। যখন রেখা হিন্দি ছবিতে এলেন, তখন তাঁর শারীরিক গঠন ও শ্যামলা গায়ের রঙ নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করা শুরু হয়। এছাড়াও, তাঁর পোশাক পরিচ্ছদ এবং মেকআপ নিয়েও ঠাট্টা করা হতো। এমনও বলা হয়েছিল যে তিনি এমন একজন নায়িকা যাকে ছবিতে পুতুলের মতো রাখা হয়, যার থেকে অভিনয়ের দক্ষতা প্রত্যাশা করা হয় না।

কর্মজীবনের শুরু এবং প্রাথমিক সংগ্রাম

তেলুগু ছবিতে শিশুশিল্পী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করা রেখার বাবা-মা জেমিনি গণেশন এবং পুষ্পাভল্লিও ছিলেন সুপরিচিত শিল্পী। হিন্দি ছবিতে পা রাখার সাথে সাথেই রেখার শ্যামলা গায়ের রঙ এবং ছিপছিপে শারীরিক গঠন নিয়ে অনেক সমালোচনা হয়েছিল। সেই সময়ে চলচ্চিত্র সাংবাদিক, প্রযোজক এবং পরিচালকরা এমনও বলেছিলেন যে রেখা “ছবিতে পুতুলের মতো রাখা হয়, তাঁর কাছ থেকে অভিনয়ের প্রত্যাশা করা হয় না।”

এই মন্তব্যগুলি রেখার আত্মবিশ্বাসকে চ্যালেঞ্জ করেছিল। বারবার তাঁকে হেমা মালিনীর মতো অভিনেত্রীদের সঙ্গে তুলনা করা হতো এবং সেটে তাঁকে 'বোল্ড' ও 'বিন্দাস' বলা হতো। চলচ্চিত্র পত্রিকাগুলো লিখেছিল যে রেখা গম্ভীর নন, এই কারণে কেউ তাঁকে গুরুত্ব সহকারে নেয় না।

কর্মজীবনের মোড় – ছবিগুলি বদলে দিল চিত্র

রেখা নিজেকে বদলানোর সিদ্ধান্ত নিলেন। তিনি যোগা এবং ফিটনেস গ্রহণ করলেন, ওজন কমালেন এবং নিজের সাজসজ্জার দিকে মনোযোগ দিলেন। ১৯৭৭ সালের আশেপাশে তিনি ছবি নির্বাচনের ক্ষেত্রেও সতর্কতা অবলম্বন করলেন। এখন তিনি এমন চরিত্র বেছে নিলেন যা তাঁর অভিনয় প্রতিভাকে তুলে ধরতে পারে। ১৯৭৮ সালে রেখার ছবি ‘ঘর’ মুক্তি পায়, যেখানে তিনি একজন ধর্ষণের শিকারের চরিত্রে অভিনয় করেন। তাঁর আবেগপূর্ণ এবং সংবেদনশীল অভিনয় সমালোচকদের প্রভাবিত করতে সক্ষম হয়েছিল। এরপর আসে ‘মুকদ্দর কা সিকন্দর’, যেখানে তিনি অমিতাভ বচ্চনের সাথে দারুণ রসায়ন দেখিয়েছিলেন।

এরপর তিনি তওয়াইফের (গণিকা) চরিত্রের মাধ্যমে দর্শকদের হৃদয়ে নিজের জায়গা করে নিলেন। অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে তাঁর অন-স্ক্রিন জুটি হিট প্রমাণিত হয়েছিল এবং তাঁদের কথিত প্রেমের গুঞ্জনও বেশ আলোচনায় ছিল।

স্মরণীয় ছবিগুলি 

১৯৮০ সালে হৃষিকেশ মুখার্জির ছবি ‘খুবসুরত’-এ রেখা একজন চঞ্চল মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করে প্রমাণ করেছিলেন যে তিনি একা একটি ছবিকে সফল করতে পারেন। এরপর তিনি ‘উমরাও জান’, ‘উৎসব’ এবং শ্যাম বেনেগালের ‘কলযুগ’-এর মতো ছবিতে নিজের অভিনয়ের দক্ষতা দেখিয়েছিলেন। রেখা প্রতিটি ভূমিকায় তাঁর নিজস্ব স্টাইল এবং শক্তিশালী পারফরম্যান্স দিয়ে বলিউডে নিজের এক অনন্য পরিচয় তৈরি করেছেন।

তিনি দক্ষিণ ভারত থেকে আসা একজন মেয়ে ছিলেন, যাকে উচ্চারণ এবং পোশাকের জন্য সমালোচনার সম্মুখীন হতে হয়েছিল, আজ তিনি ভারতীয় সিনেমার স্টাইল আইকন এবং প্রতিভাবান অভিনেত্রী হিসেবে পরিচিত।

Leave a comment