Republic Day 2026 Special: প্রজাতন্ত্র দিবস মানেই জাতীয় গর্ব, আর সেই গর্বের ইতিহাস বহন করে আজও দাঁড়িয়ে রয়েছে মুর্শিদাবাদের বহরমপুর ব্যারাক স্কোয়ার। যেখানে এক সময়ে জ্বলে উঠেছিল ইংরেজ বিরোধী আন্দোলনের প্রথম অগ্নিস্ফূলিঙ্গ, সেই ময়দান আজও স্বাধীনতার স্মৃতি বুকে নিয়ে প্রজাতন্ত্র দিবসে নতুন করে আলোয় ভরে ওঠে।
বহরমপুর ব্যারাক স্কোয়ার: শহরের ফুসফুস ও ইতিহাসের দর্পণ
বহরমপুর শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ব্যারাক স্কোয়ার শুধু সবুজ ময়দান নয়, এটি শহরের ইতিহাসের নীরব সাক্ষী। ১৭৫৭ সালের পলাশীর যুদ্ধের পর ভারতবর্ষে যে দীর্ঘ ব্রিটিশ শাসনের অন্ধকার নেমে এসেছিল, তার বিরুদ্ধে প্রথম প্রতিবাদের বীজ রোপিত হয়েছিল এই মাটিতেই।
১৮৫৭-র বিদ্রোহের সূতিকাগার
ইতিহাসবিদদের মতে, ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহের প্রথম স্ফুলিঙ্গ জ্বলে উঠেছিল বহরমপুর ব্যারাক স্কোয়ার থেকেই। ২৬ জানুয়ারি, ১৮৫৭—এই ময়দান থেকেই বিদ্রোহের আগুন প্রথম ছড়িয়ে পড়ে ব্যারাকপুরে এবং ধীরে ধীরে গোটা ভারতবর্ষে। এনফিল্ড রাইফেলের টোটাকে কেন্দ্র করে ব্রিটিশ শাসনের অন্যায় ও শোষণের বিরুদ্ধে বিদ্রোহে ফেটে পড়েন বহরমপুর সেনা ছাউনির একাংশ।
মঙ্গল পাণ্ডের বিদ্রোহে অনুপ্রেরণা
বহরমপুরের বিদ্রোহ থেকেই অনুপ্রাণিত হয়ে ব্যারাকপুর সেনা ছাউনির সিপাহী মঙ্গল পাণ্ডে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে গর্জে ওঠেন। এই বিদ্রোহে আতঙ্কিত হয়ে ইংরেজ শাসকরা মঙ্গল পাণ্ডেকে গ্রেপ্তার করে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দেয়। আজও বহরমপুর ব্যারাক স্কোয়ারে মঙ্গল পাণ্ডের মূর্তি সেই আত্মবলিদানের স্মৃতি বহন করে চলেছে।
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কৌশল ও ক্যান্টনমেন্ট
পলাশীর যুদ্ধের পর ইংরেজরা মুর্শিদাবাদকে রাজধানী করতে ভয় পেয়েছিল। ফলে রাজধানী সরে যায় কলকাতায়। তবে নবাবদের উপর নজরদারি চালাতে ব্যারাক স্কোয়ার সংলগ্ন প্রায় ৪০০ বিঘা জমি লিজ নিয়ে ১২০ বিঘা এলাকাজুড়ে ক্যান্টনমেন্ট গড়ে তোলে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি। আজও সেই ক্যান্টনমেন্ট ও চারদিকে স্থাপিত কামানগুলি ইতিহাসের সাক্ষ্য বহন করছে।
প্রজাতন্ত্র দিবসে ইতিহাসের নতুন করে স্মরণ
প্রতি বছর প্রজাতন্ত্র দিবসে বহরমপুর ব্যারাক স্কোয়ার নতুন করে ইতিহাসের আলোয় উদ্ভাসিত হয়। জাতীয় পতাকা উত্তোলন, স্মরণ সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা হয় স্বাধীনতা সংগ্রামের এই গৌরবময় অধ্যায়।
মুর্শিদাবাদের বহরমপুর ব্যারাক স্কোয়ার শুধু একটি ময়দান নয়, ভারতের প্রথম স্বাধীনতা আন্দোলনের এক গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী। ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহের সূতিকাগার হিসেবে পরিচিত এই ঐতিহাসিক প্রান্তর আজও প্রজাতন্ত্র দিবসে ইতিহাসের গৌরব বুকে নিয়ে উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। মঙ্গল পাণ্ডে থেকে শুরু করে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের বহু স্মৃতি আজও জড়িয়ে আছে এই ময়দানের প্রতিটি ইঞ্চিতে।












