মাছের চপ হবে একেবারে দোকানের মতো মুচমুচে! পুরে ২ চামচ এই মশলা দিলেই স্বাদে বাজিমাত, রইল সহজ রেসিপি

বাড়িতেই কীভাবে রেস্তোরাঁর মতো মুচমুচে মাছের চপ বানাবেন? জানুন মাছের পুর, মশলা, ডাবল কোটিং ও ভাজার সহজ রেসিপি।

ফিশ ফ্রাই, ফিশ ফিঙ্গার কিংবা কাটলেট তো অনেক খেয়েছেন। এবার বাড়িতেই বানিয়ে ফেলুন সুস্বাদু ও মুচমুচে মাছের চপ। চায়ের আড্ডা, অতিথি আপ্যায়ন কিংবা বিকেলের জলখাবার—সব ক্ষেত্রেই এই পদ জমিয়ে দিতে পারে আসর। সঠিক মশলার ব্যবহার আর ডাবল কোটিংয়ের কৌশল মেনে চললেই চপ হবে বাইরের মতো ক্রিসপি।

কোন মাছ দিয়ে চপ বানালে ভালো হবে?

প্রায় যে কোনও মাছ দিয়েই মাছের চপ তৈরি করা যায়। তবে তেলযুক্ত এবং তুলনামূলক কম কাঁটাযুক্ত মাছ ব্যবহার করলে পুর বেশি সুস্বাদু হয়। রুই, কাতলা বা আড় মাছ দিয়ে এই চপ তৈরি করা যেতে পারে।মাছ রান্না করার আগে ভালো করে পরিষ্কার করে নিন। সামান্য তেল মাখিয়ে মাছ মাইক্রোওয়েভে রান্না করতে পারেন অথবা অল্প ভাপিয়ে নিতে পারেন। মাছ সেদ্ধ হয়ে গেলে ঠান্ডা করে একেবারে সাবধানে সব কাঁটা বেছে বাদ দিতে হবে।

প্রথমে তৈরি করুন মশলাদার মাছের পুর

মাছ রান্না হওয়ার সময়ই পুর তৈরির প্রস্তুতি নিয়ে নিন। এর জন্য পেঁয়াজ, আদা, রসুন এবং কাঁচালঙ্কা খুব মিহি করে কুচিয়ে রাখুন।কড়াইয়ে সর্ষের তেল গরম করে প্রথমে পেঁয়াজ দিন। পেঁয়াজ ভালোভাবে ভেজে হালকা বাদামি করে নিন। এরপর আদা ও রসুন কুচি দিয়ে ভালো করে ভাজুন।

এই মশলাতেই আসবে আসল স্বাদ

পেঁয়াজ-আদা-রসুন ভালোভাবে ভাজা হয়ে গেলে এবার মশলা দেওয়ার পালা। ধনে গুঁড়ো, জিরে গুঁড়ো, হলুদ এবং কাশ্মীরি লঙ্কার গুঁড়ো মেশান।টক-মিষ্টি স্বাদের ভারসাম্য আনতে আমচুর গুঁড়ো দিতে পারেন। আমচুর না থাকলে অল্প লেবুর রস বা ভিনিগার ব্যবহার করা যেতে পারে। এরপর স্বাদ অনুযায়ী নুন ও সামান্য চিনি দিয়ে সব মশলা ভালোভাবে কষিয়ে নিন।সবশেষে কাঁচালঙ্কা এবং কাঁটা ছাড়ানো মাছ দিয়ে মশলার সঙ্গে ভালো করে মিশিয়ে নিন। যতক্ষণ না মিশ্রণটি বেশ মাখো-মাখো হয়ে আসছে, ততক্ষণ নাড়তে থাকুন।

পুর ঠান্ডা করে চপের আকার দিন

পুর তৈরি হয়ে গেলে কড়াই থেকে নামিয়ে সম্পূর্ণ ঠান্ডা হতে দিন। এরপর হাতে অল্প তেল মেখে বা পরিষ্কার হাতে পুর নিয়ে চপের আকার দিন।প্রতি চপে প্রায় ৫০ গ্রাম পুর ব্যবহার করলে ভালো মাপের চপ তৈরি হবে। চপকে লম্বাটে ডিমের মতো আকার দিতে পারেন।

মুচমুচে কোটিংয়ের আসল কৌশল

এবার তিনটি আলাদা পাত্রে ময়দা, ফেটানো ডিম এবং বিস্কুটের গুঁড়ো রাখুন। প্রতিটিতে সামান্য নুন ও গোলমরিচের গুঁড়ো মিশিয়ে নিতে পারেন।একটি চপ প্রথমে ময়দায় ভালোভাবে মাখিয়ে নিন। এরপর ফেটানো ডিমে ডুবিয়ে বিস্কুটের গুঁড়োয় গড়িয়ে নিন।এখানেই রয়েছে ক্রিসপি চপের গুরুত্বপূর্ণ কৌশল। একবার কোটিং করার পর আবার ডিমে ডুবিয়ে দ্বিতীয়বার বিস্কুটের গুঁড়ো মাখান। এতে বাইরের আবরণ মোটা হবে এবং ভাজার পর চপ আরও মুচমুচে হবে।

এবার গরম তেলে ভেজে নিন

কড়াইয়ে পর্যাপ্ত তেল গরম করে ছাঁকা তেলে চপগুলি ছেড়ে দিন। আঁচ এমন রাখুন যাতে বাইরে সুন্দর বাদামি রং আসে কিন্তু ভিতরের পুরও ভালোভাবে গরম হয়।চপগুলি সোনালি-বাদামি ও ক্রিসপি হয়ে গেলে তেল থেকে তুলে নিন। অতিরিক্ত তেল ঝরিয়ে গরম গরম পরিবেশন করুন।

সঙ্গে রাখুন কাসুন্দি ও স্যালাড

মাছের চপের সঙ্গে শসা, পেঁয়াজ ও বিটরুটের স্যালাড পরিবেশন করতে পারেন। সঙ্গে একটু কাসুন্দি থাকলে স্বাদ আরও জমে যাবে।সন্ধ্যার চা বা কফির সঙ্গে যেমন পরিবেশন করা যায়, তেমনই অতিথি আপ্যায়ন বা খাবারের আগে স্টার্টার হিসেবেও এই মাছের চপ রাখা যেতে পারে।

সন্ধ্যার জলখাবারে মাছের চপ বাঙালির অন্যতম পছন্দের স্ন্যাক্স। রেস্তোরাঁ বা দোকানের মতো মুচমুচে মাছের চপ বাড়িতেও তৈরি করা যায়। এর জন্য দরকার ভালো করে তৈরি করা মাছের পুর এবং সঠিক কোটিং। রইল সহজ ঘরোয়া রেসিপি ও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ টিপস।

Leave a comment