অনেকেই মনে করেন ভাত খাওয়া মানেই ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ানো। কিন্তু সাম্প্রতিক পরামর্শে পুষ্টিবিদরা জানাচ্ছেন, ভাত নয়, বরং খাওয়ার ধরনটাই আসল সমস্যা। সঠিক নিয়ম মেনে ভাত খেলে তা শরীরের জন্য উপকারীও হতে পারে—এমনটাই মত বিশেষজ্ঞদের।

ভাত খেলে ঘুম ভালো হয়! জানালেন পুষ্টিবিদ
পুষ্টিবিদ কবিতা দেবগণের মতে, রাতে ভাত খেলে ঘুমের মান উন্নত হতে পারে। কারণ ভাত মস্তিষ্কে সেরোটোনিন ও মেলাটোনিনের মাত্রা বাড়াতে সাহায্য করে, যা ভালো ঘুমের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই রাতের খাবারে ভাত রাখা সম্পূর্ণভাবে এড়িয়ে যাওয়ার প্রয়োজন নেই।
রান্নার সময় সামান্য ঘি—বড় উপকার
ভাত রান্নার সময় এক চা চামচ ঘি যোগ করলে তা শরীরে ধীরে শর্করা মুক্ত করতে সাহায্য করে। ফলে হঠাৎ করে ব্লাড সুগার বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমে। পাশাপাশি এটি দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতেও সহায়ক।

গরম ভাত নয়, ঠান্ডা ভাতেই লুকিয়ে উপকার
বিশেষজ্ঞদের মতে, রান্না করা ভাত ঠান্ডা করে খেলে তাতে ‘রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ’ তৈরি হয়, যা অন্ত্রের জন্য ভালো এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। তাই ডায়াবেটিস থাকলে গরম ভাতের বদলে ঠান্ডা ভাত খাওয়া বেশি উপকারী।
খাওয়ার সঠিক ক্রমই বদলে দিতে পারে ফলাফল
খাবার শুরু করুন স্যালাড বা সবজি দিয়ে, এরপর প্রোটিন (ডাল, ডিম, মাংস) এবং সবশেষে ভাত খান। এই পদ্ধতিতে ভাতের পরিমাণ কমে এবং শরীরে শর্করা শোষণের গতি ধীর হয়, ফলে সুগার স্পাইক কম হয়।
পরিমাণ নিয়ন্ত্রণই আসল চাবিকাঠি
একবারে বেশি ভাত না খেয়ে অল্প পরিমাণে খাওয়াই ভালো। দিনের বেলায় তুলনামূলক বেশি এবং রাতে কম ভাত খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এতে শরীর সহজে হজম করতে পারে এবং সুগার লেভেল স্থিতিশীল থাকে।
গাঁজন করা ভাত—অন্ত্রের জন্য সুপারফুড
ইডলি, দোসা বা পান্তা ভাতের মতো গাঁজন করা চালজাত খাবার অন্ত্রের স্বাস্থ্য উন্নত করে। এতে থাকা প্রোবায়োটিক উপাদান হজম শক্তি বাড়ায় এবং শরীরকে আরও সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।

ভাত মানেই রক্তে শর্করা বেড়ে যাওয়ার ভয়—এই ধারণা পুরোপুরি সঠিক নয়। পুষ্টিবিদদের মতে, সঠিক পদ্ধতিতে ভাত খেলে ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব, এমনকি অন্ত্রের স্বাস্থ্যও ভালো থাকে।













