চালের কৌটো খুলতেই যদি ছোট ছোট পোকা চোখে পড়ে, তাহলে বিরক্ত হওয়ারই কথা। বিশেষ করে বর্ষাকালে বাতাসের আর্দ্রতা বাড়লে চাল সংরক্ষণ করা আরও কঠিন হয়ে ওঠে। তবে কয়েকটি সহজ অভ্যাস মেনে চললে চালের মধ্যে পোকার উপদ্রব কমানোর চেষ্টা করা যায়। রান্নাঘরে সহজে পাওয়া কয়েকটি জিনিসও এ ক্ষেত্রে কাজে লাগতে পারে।
প্রথমেই নজর দিন চাল রাখার পাত্রে
চাল সংরক্ষণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল আর্দ্রতা থেকে চালকে দূরে রাখা। সামান্য জল বা স্যাঁতসেঁতে পরিবেশেও চালের মধ্যে পোকামাকড়ের সমস্যা বাড়তে পারে।তাই চাল রাখার আগে পাত্রটি ভালোভাবে পরিষ্কার করে সম্পূর্ণ শুকিয়ে নিন। সম্ভব হলে এমন বায়ুরোধী পাত্র ব্যবহার করুন, যাতে বাইরের আর্দ্রতা সহজে ভিতরে ঢুকতে না পারে।
শুকনো নিম পাতা রাখতে পারেন
চালের পাত্রে কয়েকটি সম্পূর্ণ শুকনো নিম পাতা রাখা একটি প্রচলিত ঘরোয়া পদ্ধতি। এক পাত্র চালের ক্ষেত্রে প্রায় ৮-১০টি শুকনো নিম পাতা ব্যবহার করা যেতে পারে।তবে পাতাগুলি যেন একেবারেই ভেজা না থাকে। কারণ চালের মধ্যে অতিরিক্ত আর্দ্রতা ঢুকে গেলে উল্টে পোকার সমস্যা বাড়তে পারে।
তেজপাতাও হতে পারে সহজ বিকল্প
নিম পাতা হাতের কাছে না থাকলে কয়েকটি শুকনো তেজপাতা চালের পাত্রে রাখা যায়। তেজপাতার নিজস্ব গন্ধ পোকামাকড় দূরে রাখতে সহায়ক হতে পারে।এটিও মূলত সংরক্ষণের একটি ঘরোয়া পদ্ধতি। তাই তেজপাতা ব্যবহারের পাশাপাশি চাল শুকনো ও পরিষ্কার জায়গায় রাখার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে হবে।
শুকনো লঙ্কা ব্যবহার করার রীতি রয়েছে
চালের কৌটোতে ৩-৪টি গোটা শুকনো লঙ্কা রাখার পরামর্শও দেওয়া হয়। লঙ্কার ঝাঁঝালো গন্ধ কিছু পোকামাকড়কে দূরে রাখতে সাহায্য করতে পারে বলে প্রচলিত ধারণা রয়েছে।এক্ষেত্রেও লঙ্কা অবশ্যই শুকনো হতে হবে। কোনওভাবেই ভেজা বা স্যাঁতসেঁতে লঙ্কা চালের সঙ্গে রাখা উচিত নয়।
কয়েকটি লবঙ্গ রাখতে পারেন
রান্নাঘরের আর একটি সহজলভ্য উপাদান হল লবঙ্গ। চালের পাত্রে কয়েকটি শুকনো লবঙ্গ রাখলে এর তীব্র গন্ধ পোকামাকড়ের উপদ্রব কমাতে সহায়ক হতে পারে।তবে মনে রাখতে হবে, এগুলি ঘরোয়া সংরক্ষণ পদ্ধতি। পোকা ইতিমধ্যেই ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লে শুধু এই উপায়গুলির উপর নির্ভর না করে আক্রান্ত চাল আলাদা করে পরীক্ষা করা জরুরি।
ভেজা হাতে বা চামচে চাল নেবেন না
চাল সংরক্ষণের সময় একটি ছোট ভুল থেকেই বড় সমস্যা তৈরি হতে পারে। তাই ভেজা হাত, ভেজা কাপ বা ভেজা চামচ দিয়ে কখনও চাল তুলবেন না।
চাল নেওয়ার জন্য আলাদা শুকনো চামচ ব্যবহার করা ভালো। পাত্রের ভিতরে জল ঢুকে গেলে চাল স্যাঁতসেঁতে হয়ে যেতে পারে এবং তখন পোকার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
নিয়মিত চালের কৌটো পরীক্ষা করুন
একবার চাল ভরে রেখে দিলেই দায়িত্ব শেষ নয়। মাঝেমধ্যে কৌটো খুলে চালের অবস্থা দেখে নেওয়া উচিত। পাত্রের ভিতরে কোনও আর্দ্রতা, অস্বাভাবিক গন্ধ বা পোকামাকড়ের উপস্থিতি রয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করুন।আবহাওয়া শুকনো ও রোদেলা থাকলে প্রচলিতভাবে চাল কিছুক্ষণ রোদে শুকিয়ে নেওয়া হয়। তবে চাল যাতে ধুলো, পোকা বা অন্য কোনও দূষণের সংস্পর্শে না আসে, সেদিকেও খেয়াল রাখা জরুরি।
রান্নাঘরে চাল দীর্ঘদিন রেখে দিলে আর্দ্রতার কারণে পোকামাকড়ের সমস্যা দেখা দিতে পারে। পরিষ্কার ও বায়ুরোধী পাত্রে চাল রাখার পাশাপাশি শুকনো নিম পাতা, তেজপাতা, শুকনো লঙ্কা ও লবঙ্গ ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কীভাবে এগুলি ব্যবহার করবেন, জেনে নিন।













