ভারতীয় ক্রিকেটে নিজের ব্যাটিং ও লড়াকু মানসিকতার জন্য পরিচিত ঋষভ পন্থ এবার অন্য এক কারণে শিরোনামে। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ২৩ কোটি ৮৪ লক্ষ টাকা আয়কর দিয়ে তিনি উত্তরাখণ্ডের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত করদাতার স্বীকৃতি পেয়েছেন। তবে এই সাফল্যের পিছনে রয়েছে দীর্ঘ সংগ্রামের এক আবেগঘন ইতিহাস।
গুরুদ্বারে রাত কাটিয়ে শুরু হয়েছিল স্বপ্নের পথচলা
ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে উত্তরাখণ্ড থেকে দিল্লিতে এসেছিলেন ঋষভ পন্থ। নতুন শহরে থাকার জায়গা না থাকায় তিনি মতিবাগ গুরুদ্বারে রাত কাটাতেন। সেখানকার লঙ্গরে খাবার খেয়ে প্রতিদিন অনুশীলনে যেতেন। পরিবারের উপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ না বাড়াতেই তিনি এই কঠিন পথ বেছে নিয়েছিলেন।
তারক সিনহার হাত ধরেই ক্রিকেটে উত্থান
দিল্লির বিখ্যাত সনেট ক্রিকেট ক্লাবে প্রশিক্ষক তারক সিনহা প্রথম ঋষভ পন্থের প্রতিভা চিনতে পারেন। ক্লাবে সুযোগ পাওয়ার আগে পর্যন্ত গুরুদ্বার থেকেই যাতায়াত করতেন পন্থ। পরে একটি ভাড়া বাড়িতে উঠে নিয়মিত অনুশীলন শুরু করেন এবং ধীরে ধীরে বয়সভিত্তিক ক্রিকেট থেকে জাতীয় দলের দরজায় পৌঁছে যান।
২৩.৮৪ কোটি টাকা আয়কর, উত্তরাখণ্ডে নজির
২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ঋষভ পন্থ ব্যক্তিগতভাবে ২৩ কোটি ৮৪ লক্ষ টাকা আয়কর দিয়েছেন। এর ফলে তিনি উত্তরাখণ্ডের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত করদাতা হয়েছেন। একই সময়ে কর্পোরেট বিভাগে ওএনজিসি ১৩,৫৬৪ কোটি টাকা কর দিয়ে রাজ্যের শীর্ষ করদাতা হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে।
আইপিএল, বিসিসিআই ও ব্র্যান্ড থেকে বিপুল আয়
আইপিএল ২০২৫-এ লখনউ সুপারজায়ান্টস ঋষভ পন্থকে রেকর্ড ২৭ কোটি টাকায় দলে নেয়। এছাড়া তিনি বিসিসিআই-এর গ্রেড 'এ' চুক্তির আওতায় বছরে ৫ কোটি টাকা রিটেনার পান। বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বিজ্ঞাপন ও এন্ডোর্সমেন্ট থেকেও প্রতি বছর কয়েক কোটি টাকা আয় করেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সংগ্রাম থেকে সাফল্যের প্রতীক
১৯৯৭ সালের ৪ অক্টোবর হরিদ্বারে জন্ম ঋষভ পন্থের। রুরকি তাঁর আদি নিবাস। ২০১৭ সালে বাবার মৃত্যুর পরও তিনি ক্রিকেট থেকে সরে দাঁড়াননি। কঠিন সময় পেরিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের জায়গা তৈরি করেছেন। আজ তাঁর জীবন প্রমাণ করে, প্রতিভার সঙ্গে কঠোর পরিশ্রম থাকলে সাফল্য একদিন আসবেই।
একসময় দিল্লির গুরুদ্বারে রাত কাটিয়ে লঙ্গর খেয়ে ক্রিকেট অনুশীলনে যেতেন ঋষভ পন্থ। সেই তরুণ ক্রিকেটারই আজ ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ২৩ কোটি ৮৪ লক্ষ টাকা আয়কর দিয়ে উত্তরাখণ্ডের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত করদাতা হয়েছেন। সংগ্রাম, পরিশ্রম এবং সাফল্যের এই কাহিনি বহু তরুণের কাছে অনুপ্রেরণা।









