বয়স, বিরতি কিংবা ফর্ম—কোনও কিছুই যেন রোহিত শর্মাকে থামাতে পারে না। প্রায় সাত বছরের বেশি সময় পর বিজয় হাজারে ট্রফিতে মুম্বইয়ের হয়ে মাঠে নেমেই ইতিহাস লিখলেন ‘হিটম্যান’। জয়পুরের সওয়াই মানসিং স্টেডিয়ামে সিকিমের বিরুদ্ধে এলিট গ্রুপ সি ম্যাচে মাত্র ৬২ বলে শতরান করে আবারও প্রমাণ করলেন, বড় মঞ্চে বড় ইনিংস খেলাই তাঁর স্বভাব।
দ্রুততম শতরানে নতুন মাইলফলক
এই ম্যাচে রোহিত শর্মা মাত্র ৬২ বলে শতরান করে নিজের আগের দ্রুততম শতরানের রেকর্ড ভেঙে দেন। দীর্ঘ বিরতির পর ঘরোয়া ক্রিকেটে ফিরেও যে তাঁর ব্যাটের ধার একটুও কমেনি, তা এই ইনিংসেই স্পষ্ট হয়ে যায়। গ্যালারি থেকে শুরু করে ক্রিকেট বিশেষজ্ঞ—সবার নজর কাড়ে রোহিতের সাবলীল ও আক্রমণাত্মক ব্যাটিং।
১৫৫ রানের বিধ্বংসী ইনিংস
এদিন রোহিত খেলেন ৯৪ বলে ১৫৫ রানের দুরন্ত ইনিংস। তাঁর ব্যাট থেকে আসে ১৮টি চার ও ৯টি ছয়। স্ট্রাইক রেট, টাইমিং আর পাওয়ার—সবকিছুর নিখুঁত মেলবন্ধনে সিকিমের বোলারদের কার্যত অসহায় করে দেন তিনি। রোহিতের এই ইনিংসের জোরেই মুম্বই সহজেই ৮ উইকেটে ম্যাচ জিতে নেয়।
ওয়ার্নারের বিশ্বরেকর্ডে ভাগ
এই ইনিংসের সুবাদে রোহিত শর্মা লিস্ট-এ ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি ১৫০ বা তার বেশি রানের ইনিংস খেলার বিশ্বরেকর্ডে ডেভিড ওয়ার্নারের পাশে নিজের নাম লেখান। রোহিতের ঝুলিতে এখন মোট ৯টি ১৫০+ স্কোর—এর মধ্যে ৮টি ভারতের হয়ে ওয়ানডেতে এবং একটি বিজয় হাজারে ট্রফিতে মুম্বইয়ের জার্সিতে।
ইতিহাসের পাতায় রোহিত বনাম ওয়ার্নার
ডেভিড ওয়ার্নার ২০০৭ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ২১০টি লিস্ট-এ ম্যাচে ৯ বার ১৫০+ রান করেছিলেন। দীর্ঘদিন সেই রেকর্ড অক্ষত থাকলেও এবার রোহিত শর্মা সেই উচ্চতায় পৌঁছে গেলেন। উল্লেখযোগ্যভাবে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে একাধিক ডাবল সেঞ্চুরির মালিক রোহিত এবার ঘরোয়া ক্রিকেটেও নিজের শ্রেষ্ঠত্বের ছাপ রাখলেন।
বয়সকে হার মানানো আরেক নজির
এই শতরানের ফলে আরেকটি কীর্তি গড়েন রোহিত শর্মা। ৩৮ বছর ২৩৮ দিন বয়সে তিনি বিজয় হাজারে ট্রফির ইতিহাসে শতরান করা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বয়সী ক্রিকেটার হয়ে ওঠেন। অভিজ্ঞতা, ফিটনেস ও মানসিক দৃঢ়তার অনন্য উদাহরণ হয়ে আবারও প্রমাণ করলেন—বয়স শুধুই একটি সংখ্যা।
প্রায় সাত বছর পর বিজয় হাজারে ট্রফিতে মুম্বইয়ের জার্সিতে নেমেই নজির গড়লেন রোহিত শর্মা। সিকিমের বিরুদ্ধে বিধ্বংসী ১৫৫ রানের ইনিংসে ডেভিড ওয়ার্নারের বিশ্বরেকর্ডে ভাগ বসালেন ভারতীয় তারকা।













