ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমে ৯০ ছাড়িয়ে গেলেও Rupee-Dollar Exchange Rate: পরিস্থিতির মধ্যেই নতুন সম্ভাবনার দিক দেখছেন অর্থনীতিবিদরা। কোথায়—বিশ্ববাজারে; কখন—চলতি অর্থবর্ষের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকের শক্তিশালী রিপোর্টের পর; কে—ভারতের অর্থনীতি; কীভাবে—রফতানি, আইটি পরিষেবা, ফার্মাসিউটিক্যাল এবং রেমিট্যান্স বৃদ্ধির মাধ্যমে; কেন—টাকার দর কমলে ভারতীয় পণ্য ও পরিষেবা আরও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে ওঠে। ফলে ক্ষতির পাশাপাশি অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য সুবিধা আসতে পারে বলেই বিশ্লেষকদের মত।
টাকার দর কমলেও ভারতীয় অর্থনীতির চাকা ঘুরছে শক্তিশালীভাবে
ডিসেম্বরে বাজারে উৎসাহ কম থাকলেও কেন্দ্র ক্রমাগত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে জনমানসে আস্থা ফেরাতে। জিএসটি কমানো, সুদের হার হ্রাস, রেপো রেট কমানো—এই সব পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য মানুষের হাতে বাড়তি অর্থ রাখা। অতিরিক্ত আয় মানেই বেশি কেনাকাটা, আর কেনাকাটা বাড়লেই ত্বরান্বিত হবে অর্থনীতির গতি।এদিকে বিশ্বজুড়ে মন্দার আশঙ্কা থাকলেও দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে ভারতের অর্থনৈতিক বৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৮.২ শতাংশ—যা রিজার্ভ ব্যাঙ্কের ৭ শতাংশের পূর্বাভাসকে ছাপিয়ে গিয়েছে অনেকটাই। যদিও শেয়ারবাজার এই ইতিবাচক রিপোর্টে খুব একটা সাড়া দেয়নি।
ডলার শক্তিশালী, টাকা দুর্বল—কতটা ক্ষতি, কতটা লাভ?
টাকার দাম কমে ডলারপিছু ৯০ ছোঁয়ার পর দেশজুড়ে উদ্বেগ তৈরি হলেও অর্থনীতির কিছু খাতে এটি বড় সুবিধার কারণ হয়ে উঠতে পারে। টাকার দুর্বলতা মানে ভারতীয় পণ্য বিদেশে আরও সস্তা হওয়া। ফলে রফতানি বৃদ্ধি পাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।দাম কমলে আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতীয় পণ্যের প্রতিযোগিতা বাড়বে, বাড়বে বিক্রি। রফতানিমুখী সংস্থাগুলোর আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে বলে আশা বিশেষজ্ঞদের।
আইটি ও ফার্মা—দুই খাতেই বড় সুবিধা
ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ আইটি পরিষেবা রফতানিকারক দেশ। টাকার দাম কমলে বিদেশে পরিষেবা খরচ কমে যায়, ফলে ভারতীয় আইটি কোম্পানিগুলির আয় বৃদ্ধি পায়। একইভাবে ফার্মাসিউটিক্যাল খাতেও ভারতের দাপট রয়েছে আন্তর্জাতিক বাজারে। টাকার দর কমে যাওয়ায় এই খাতেও আয় বাড়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।এই দুই ক্ষেত্রের শক্তিশালী বৃদ্ধি সামগ্রিক অর্থনীতিকে আরও স্থিতিশীল করতে সহায়ক হবে।
রেমিট্যান্স বাড়ার সম্ভাবনায় স্বস্তি দেখছে কেন্দ্র
বিদেশে থাকা ভারতীয়রা যখন দেশে টাকা পাঠান, ডলারের তুলনায় টাকার দর কমে গেলে সেই অর্থ রুপিতে রূপান্তরিত হওয়ার সময় বেশি মূল্য দেয়। ফলে পরিবারগুলির হাতে বেশি টাকা আসে এবং দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও শক্তিশালী হয়।২০২৫ সালে এখনও পর্যন্ত টাকার দাম কমেছে ৫ শতাংশের বেশি, যা এটিকে এশিয়ার অন্যতম দুর্বল মুদ্রায় পরিণত করেছে। তবুও রেমিট্যান্স প্রবাহ শক্তিশালী থাকলে অর্থনীতি স্থিতিশীলতা পেতে পারে।
ডলারের তুলনায় টাকার দর কমে ৯০ ছুঁলেও অর্থনীতির সামনে খুলছে নতুন সুযোগ। রফতানি সস্তা হওয়ায় বাড়তে পারে ভারতের পণ্যের চাহিদা। আইটি ও ফার্মাসিউটিক্যাল খাতে আয় আরও বাড়ার সম্ভাবনা। রেমিট্যান্সও বৃদ্ধি পেতে পারে, যা সামগ্রিকভাবে অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।











