রাশিয়ার শ্রম ঘাটতি পূরণে ভারতের দক্ষ কর্মী: নতুন দিগন্তে ভারত-রাশিয়া সম্পর্ক

জনসংখ্যার অভাবে ভোগা রাশিয়া এখন ভারতের দক্ষ কর্মীদের দিকে তাকিয়ে। আসন্ন ভারত-রাশিয়া শীর্ষ সম্মেলনে কর্মসংস্থান সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি হতে পারে, যা দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন মাত্রা দেবে।

জনসংখ্যা কমে যাওয়া এবং শ্রমিকের অভাবে ভুগতে থাকা রাশিয়া এখন ভারতের দিকে আশাপূর্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। রাশিয়া চায় তার শিল্প ও পরিষেবা ক্ষেত্রগুলিতে ভারতীয় দক্ষ কর্মীদের অংশগ্রহণ বাড়ানো হোক।

নয়াদিল্লি: ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে সম্পর্কে একটি নতুন অধ্যায় যুক্ত হতে চলেছে। রাশিয়া (Russia) এখন ভারতের দক্ষ কর্মীদের (Skilled Indian Workers) জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ খুলতে চায়। জনসংখ্যা কমে যাওয়ায় ভুগতে থাকা রাশিয়া আগামী বছরগুলিতে বিপুল সংখ্যক ভারতীয় কর্মীকে তার দেশে কর্মসংস্থান দেওয়ার পরিকল্পনা করছে।

সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে যে, এই ইস্যুতে ডিসেম্বর ২০২৫-এ অনুষ্ঠিত হতে চলা ভারত-রাশিয়া বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলন (India-Russia Annual Summit 2025) চলাকালীন একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক চুক্তি (Employment Agreement) হতে পারে। এই চুক্তির উদ্দেশ্য হলো রাশিয়ায় কর্মরত ভারতীয়দের অধিকার রক্ষা করা এবং তাদের কর্মসংস্থানকে প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা প্রদান করা।

রাশিয়ার প্রয়োজন ভারতের দক্ষ কর্মী

রাশিয়ার হ্রাসপ্রাপ্ত জনসংখ্যা এবং দ্রুত সংকুচিত হতে থাকা শ্রম বাজার সেখানকার শিল্পগুলির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য রাশিয়া এখন ভারতের দিকে তাকিয়ে আছে। ইকোনমিক টাইমস (ET) এর রিপোর্ট অনুযায়ী, রাশিয়া চায় ভারতের দক্ষ কর্মীরা যন্ত্রপাতি, ইলেকট্রনিক্স, নির্মাণ এবং বস্ত্র শিল্পে কাজ করুক।

বর্তমানে বেশিরভাগ ভারতীয় কর্মী রাশিয়ার নির্মাণ ও বস্ত্র শিল্পের সাথে যুক্ত, কিন্তু রাশিয়া এখন তাদের প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রগুলিতেও অন্তর্ভুক্ত করতে চায়। রাশিয়ার শ্রম মন্ত্রকের কোটা অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ রাশিয়ায় কর্মরত ভারতীয়দের সংখ্যা ৭০,০০০ এর বেশি হবে। এই সংখ্যা বর্তমান সংখ্যার প্রায় দ্বিগুণ।

রাশিয়ার শ্রম ঘাটতি পূরণে ভারতের দক্ষ কর্মী: নতুন দিগন্তে ভারত-রাশিয়া সম্পর্ক

ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে বাড়বে অংশীদারিত্ব

গত সপ্তাহে দোহায় আয়োজিত একটি আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানে ভারতের শ্রম মন্ত্রী ড. মনসুখ মাণ্ডভিয়া তাঁর রাশিয়ান প্রতিপক্ষের সাথে দেখা করেছিলেন। সূত্র অনুযায়ী, এই আলোচনায় ভারতীয় কর্মীদের নিরাপত্তা, আইনি অধিকার এবং কাজের সুযোগ নিয়ে বিশেষ আলোচনা হয়েছে। রাশিয়ার বিষয়ে অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত থেকে ক্রমবর্ধমান দক্ষ জনশক্তির উপস্থিতি আগামী বছরগুলিতে ভারত-রাশিয়া অংশীদারিত্বের নতুন স্তম্ভ হতে পারে।

দুই দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক সহযোগিতাও এই দিকে একটি শক্তিশালী ইঙ্গিত দিচ্ছে। বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি এবং খনির মতো ক্ষেত্রগুলিতে ইতিমধ্যেই দুই দেশের মধ্যে গভীর সম্পর্ক রয়েছে।

হীরা ও সোনার ব্যবসায় নতুন রেকর্ড

ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে হীরা (Diamond) এবং সোনা (Gold) এর ব্যবসায়েও অভূতপূর্ব বৃদ্ধি রেকর্ড করা হয়েছে। রাশিয়ান মিডিয়া আরআইএ নভোস্তি (RIA Novosti) এর একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, এই বছর ২০২৫ সালের আগস্টে ভারতে রাশিয়ার হীরা রপ্তানি ৩১.৩ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। যা গত বছরের আগস্টের ১৩.৪ মিলিয়ন ডলারের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।

যদিও, এই বছরের প্রথম আট মাসে রাশিয়া থেকে ভারতে হীরার মোট সরবরাহে প্রায় ৪০% হ্রাস রেকর্ড করা হয়েছিল, যার কারণ পশ্চিমা দেশগুলির নিষেধাজ্ঞা নীতি (Sanctions)।

পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মধ্যে শক্তিশালী হচ্ছে ভারত-রাশিয়া সম্পর্ক

রাশিয়া বিশ্বের বৃহত্তম কাঁচা হীরা উৎপাদনকারী দেশ এবং ঐতিহাসিকভাবে ভারতের হীরা শিল্পের (Diamond Industry) প্রধান সরবরাহকারী ছিল।
কিন্তু আমেরিকা ও ইউরোপীয় দেশগুলির দ্বারা রাশিয়ার বৃহত্তম খনি কোম্পানি আলরোসা (Alrosa) এর উপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার পর ভারতীয় শিল্পের উপর বড় প্রভাব পড়েছে।

এছাড়াও, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত ৫০% শুল্ক ভারতীয় হীরা শিল্পকে আরও সমস্যায় ফেলেছে। এই প্রেক্ষাপটে ভারত-রাশিয়ার মধ্যে ক্রমবর্ধমান সহযোগিতা উভয় দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণিত হতে পারে। ভারত-রাশিয়া বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলন ২০২৫ (২৩তম সংস্করণ) এই বছর ৪ থেকে ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত নয়াদিল্লিতে আয়োজিত হবে। এই সম্মেলনে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন (Vladimir Putin) অংশ নেবেন, যেখানে ভারতের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আতিথিয়তা করবেন।

Leave a comment