ক্রিমিয়ায় রাশিয়ার An-26 সামরিক বিমান দুর্ঘটনায় ২৯ জন নিহত

ক্রিমিয়ায় রাশিয়ার একটি An-26 সামরিক পরিবহন বিমান দুর্ঘটনায় ২৩ যাত্রী ও ৬ ক্রুসহ মোট ২৯ জন নিহত হয়েছেন। প্রাথমিক তদন্তে প্রযুক্তিগত ত্রুটির সম্ভাবনা উল্লেখ করা হয়েছে এবং কোনো বাহ্যিক হামলার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ক্রিমিয়ায় একটি An-26 সামরিক পরিবহন বিমান দুর্ঘটনায় পতিত হয়ে বিমানে থাকা ২৯ জনের সবাই নিহত হয়েছেন। প্রাথমিক তদন্তে প্রযুক্তিগত ত্রুটির আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে এবং কোনো বাহ্যিক হামলার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিমানটি ক্রিমিয়ার একটি কৌশলগত এলাকায় নিয়মিত মিশনে ছিল। স্থানীয় সময় সন্ধ্যা প্রায় ৬টার দিকে বিমানের সঙ্গে হঠাৎ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, এরপরই অনুসন্ধান অভিযান শুরু করা হয়। কিছু সময় পর উদ্ধারকারী দল দুর্ঘটনাস্থল শনাক্ত করে এবং দেখতে পায় যে বিমানটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, দুর্ঘটনার সময় বিমানটি আকাশেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল।

মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে বিমানে ২৩ জন যাত্রী এবং ৬ জন ক্রু সদস্য ছিলেন এবং কেউ বেঁচে নেই। দুর্ঘটনার পর মৃতদের পরিবারের প্রতি শোক ও সমবেদনা জানানো হয়েছে এবং সরকার পক্ষ থেকে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

ক্রিমিয়ায় রাশিয়ার An-26 সামরিক বিমান দুর্ঘটনায় ২৯ জন নিহত

প্রাথমিক তদন্তে দুর্ঘটনার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে প্রযুক্তিগত ত্রুটির কথা বলা হয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত কোনো মিসাইল, ড্রোন বা অন্য কোনো বাহ্যিক প্রভাবের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ফলে এটিকে সামরিক হামলার ফল নয় বরং অভ্যন্তরীণ প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের জন্য একটি সামরিক কমিশন গঠন করা হয়েছে, যা বিমানের ব্ল্যাক বক্স, রক্ষণাবেক্ষণের নথি এবং উড়ানের পরিস্থিতি পরীক্ষা করবে। তদন্ত সম্পূর্ণ হওয়ার পরই দুর্ঘটনার চূড়ান্ত কারণ নির্ধারণ করা হবে।

মিডিয়া প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই An-26 বিমানটি ২০১৪ সালে ইউক্রেন থেকে রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে আসে, যখন ক্রিমিয়া দখলের সময় একাধিক সামরিক সম্পদ রাশিয়ার হাতে যায়। যদিও এই তথ্যের বিস্তারিত সরকারি নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি, তবে প্রতিবেদনে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

An-26 একটি টুইন-ইঞ্জিন টার্বোপ্রপ সামরিক পরিবহন বিমান, যা মূলত সেনা পরিবহন ও সামরিক অভিযানের জন্য তৈরি। এটি প্রায় ৪০ জন সৈন্য বহন করতে সক্ষম এবং প্যারাট্রুপার নামানো ও আহত সেনাদের সরিয়ে নেওয়ার কাজে ব্যবহৃত হয়। দীর্ঘদিন ধরে এটি রাশিয়া ও সোভিয়েত সামরিক বহরের অংশ এবং বিভিন্ন দেশে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

 

Leave a comment