ক্রিকেট মাঠে তাঁর ব্যাটিং যেমন কিংবদন্তি, তেমনই সচিন তেন্ডুলকরের ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও মানুষের কৌতূহলের শেষ নেই। বিশেষ করে তাঁর মুম্বইয়ের বিলাসবহুল বাংলো বরাবরই চর্চার কেন্দ্রে। এবার সেই আলোচনাতেই নতুন সংযোজন—লোনাভালায় প্রায় ৭০ কোটি টাকা মূল্যের ৩.৮৬ একর জমি কিনেছেন সচিন। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, নতুন সম্পত্তির জন্য কি এবার বান্দ্রার পুরনো বাড়ি ছাড়বেন তিনি?
২০০৭ সালে ৩৯ কোটি টাকায় কেনা হয়েছিল বাংলো
মুম্বইয়ের পশ্চিম বান্দ্রার পেরি রোডের এই বাংলো সচিনের অন্যতম পরিচিত সম্পত্তি। জানা যায়, ২০০৭ সালে প্রায় ৩৯ কোটি টাকা দিয়ে বাড়িটি কিনেছিলেন তিনি।বাড়িটির ইতিহাসও বেশ পুরনো। ১৯২৬ সালে নির্মিত এই প্রাসাদোপম বাড়িটির পুরনো নাম ছিল ‘ডোরাব ভিলা’। সচিনের পরিবারের হাতে আসার পর দীর্ঘ সময় ধরে সংস্কারের কাজ চলে। প্রায় চার বছর সংস্কারের পর ২০১১ সালে পরিবার সেখানে বসবাস শুরু করে।
৬,০০০ বর্গফুটের বাংলো যেন স্বপ্নের বাড়ি
প্রায় ৬,০০০ বর্গফুটের এই বাংলোর ভিতর-বাহির দু’দিকেই রয়েছে আভিজাত্যের ছাপ। বাড়ির চারপাশে প্রচুর সবুজ গাছপালা। বিশাল কাঠের মূল দরজা পেরিয়ে ঢুকলেই চোখে পড়ে সাজানো বাগান।গাছপালার প্রতি সচিনের আলাদা টান রয়েছে। বিভিন্ন সময় তাঁকে নিজের বাগানের পরিচর্যা করতেও দেখা গিয়েছে। অবসর জীবনে এই সবুজ জায়গাটিই তাঁর পছন্দের কোণগুলির একটি বলে জানা যায়।
বসার ঘরে সাজানো সচিনের স্মৃতি
বাংলোর অন্দরসজ্জাতেও রয়েছে আভিজাত্য। সাদা ও বাদামি রঙের ছোঁয়ায় সাজানো বসার ঘরে রয়েছে সোফা, রঙিন কুশন এবং বড় চামড়ার চেয়ার।ক্রিম রঙের মার্বেল মেঝের সঙ্গে ঘরের সাজে রয়েছে একাধিক বিশেষ আলো ও সাজসজ্জার সামগ্রী। তবে সবচেয়ে নজরকাড়া বিষয়গুলির মধ্যে রয়েছে সচিনের ক্রিকেটজীবনের নানা পুরস্কার ও স্মারক, যা বাড়ির ভিতরেই সুন্দরভাবে সাজানো।
ডাইনিং স্পেসেও রাজকীয় ছোঁয়া
বসার ঘরের সঙ্গে যুক্ত ডাইনিং এলাকাটিও বেশ আকর্ষণীয়। সেখানে রয়েছে বড় সেগুন কাঠের ডাইনিং টেবিল এবং বাদামি রঙের চেয়ার।সচিন নিজেও মাঝেমধ্যে বাড়ির ডাইনিং টেবিল থেকে খাবারের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেন। ফলে ভক্তদের কাছে তাঁর বাড়ির এই অংশটিও বেশ পরিচিত।
বাগানই সচিনের সবচেয়ে প্রিয় জায়গা
বাড়ির বিভিন্ন অংশের মধ্যে বাগানের প্রতি সচিনের টান সবচেয়ে বেশি। নিজের হাতে গাছের যত্ন নেওয়া থেকে শুরু করে পরিবারের পোষ্যদের সঙ্গে সময় কাটানো—এই সবুজ জায়গাতেই অবসর সময় কাটাতে দেখা যায় তাঁকে।বাগানের একদিকে রয়েছে বসার জন্য আলাদা আরামদায়ক জায়গা। নিরিবিলিতে কিছুটা সময় কাটানোর জন্য সেটিও তাঁর পছন্দের জায়গা বলে জানা যায়।
লোনাভালায় ৭০ কোটির জমি, কিন্তু বাংলো ছাড়ার খবর নেই
সম্প্রতি লোনাভালায় প্রায় ৩.৮৬ একর জমি কিনেছেন সচিন তেন্ডুলকর। সম্পত্তিটির মূল্য প্রায় ৭০ কোটি টাকা বলে জানা গিয়েছে।এই খবর প্রকাশ্যে আসার পরই জল্পনা শুরু হয়, তবে কি এবার মুম্বই ছেড়ে লোনাভালায় নতুন বাড়ি করবেন সচিন? কিন্তু এখনও পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বান্দ্রার বাংলো ছেড়ে যাওয়ার কোনও পরিকল্পনা তাঁর নেই।
বান্দ্রা-কুরলা কমপ্লেক্সেও রয়েছে সম্পত্তি
শুধু বাংলোই নয়, সচিন ও তাঁর স্ত্রী অঞ্জলি তেন্ডুলকরের নামে মুম্বইয়ের বান্দ্রা-কুরলা কমপ্লেক্সের রুস্তমজি সিজনসে একটি বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্টও রয়েছে।জানা যায়, প্রায় ১,৬০০ বর্গফুটের ওই অ্যাপার্টমেন্টটি ২০১৮ সালে প্রায় ৭.১৫ কোটি টাকা দিয়ে কেনা হয়েছিল। বান্দ্রার বাংলোয় ওঠার আগে তেন্ডুলকর পরিবার সেখানে থাকতেন বলেও জানা যায়।
ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার পর পরিবারকে নিয়ে মুম্বইতেই সময় কাটান সচিন তেন্ডুলকর। সম্প্রতি লোনাভালায় প্রায় ৭০ কোটি টাকা দিয়ে ৩.৮৬ একর জমি কেনার খবর সামনে আসতেই প্রশ্ন উঠেছে, এবার কি তবে বান্দ্রার প্রাসাদোপম বাংলো ছেড়ে নতুন ঠিকানায় যাবেন মাস্টার ব্লাস্টার? জানা যাচ্ছে, আপাতত এমন কোনও পরিকল্পনা নেই। বরং বান্দ্রার ঐতিহাসিক বাংলোই এখনও তাঁর পরিবারের অন্যতম প্রধান ঠিকানা।










