পুজোর ছুটি মানেই কোথাও ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা। কিন্তু জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রে পা রাখার জায়গা নেই, হোটেল-রেস্তোরাঁয় ভিড়, রাস্তায় যানজট—এমন পরিস্থিতি অনেকেরই ছুটির আনন্দ মাটি করে দেয়। আপনি যদি বরং সমুদ্রের ধারে নির্জন প্রকৃতির মাঝে একটু অন্যরকম অভিজ্ঞতা চান, তাহলে নজরে রাখতে পারেন জম্বুদ্বীপকে। কলকাতা থেকে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বকখালি-ফ্রেজারগঞ্জের দিকে গেলেই এই অফবিট গন্তব্যের কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়া যায়।
কোথায় রয়েছে জম্বুদ্বীপ?
জম্বুদ্বীপ দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার বকখালি ও ফ্রেজারগঞ্জের দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে বঙ্গোপসাগরের মধ্যে অবস্থিত। বকখালি বা ফ্রেজারগঞ্জ থেকে জলপথে এই দ্বীপের দিকে যাওয়া যায়।নামটির মধ্যেও রয়েছে প্রকৃতির ছোঁয়া। ‘জম্বুদ্বীপ’ শব্দের অর্থ হিসেবে ‘জাম গাছের দ্বীপ’-এর উল্লেখ পাওয়া যায়।
কীভাবে যাবেন?
জম্বুদ্বীপে পৌঁছনোর প্রধান মাধ্যম নৌকা বা বোট। ফ্রেজারগঞ্জ থেকে জলপথে যেতে আনুমানিক ৩০-৪০ মিনিট সময় লাগতে পারে। বকখালির কাছে বেনফিশ এলাকা থেকেও ভুটভুটি নৌকায় যাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।ফ্রেজারগঞ্জ জেটিঘাট থেকেও বোটে করে দ্বীপের আশপাশ ঘোরার সুযোগ পাওয়া যায়। তবে জোয়ার-ভাটা, আবহাওয়া এবং স্থানীয় প্রশাসনের নিয়ম অনুযায়ী যাত্রার সময় ও পরিষেবা পরিবর্তিত হতে পারে।
সাদা বালির তট আর চারপাশে শুধু জল
জম্বুদ্বীপের চারপাশে রয়েছে সাদা বালির বিস্তৃত তট। প্রায় ১,৯৫০ হেক্টর আয়তনের এই এলাকা বর্তমানে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।দূর থেকে বোটে দ্বীপটিকে দেখতে গেলে চোখে পড়বে সবুজ গাছপালা, বিস্তীর্ণ জলরাশি এবং সমুদ্রের মাঝে দাঁড়িয়ে থাকা এক নির্জন ভূখণ্ড। শহুরে কোলাহল থেকে সম্পূর্ণ আলাদা এই পরিবেশই জম্বুদ্বীপের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ।
একসময় মৎস্যজীবীদের আনাগোনা ছিল
আজ যে দ্বীপটি প্রায় জনমানবহীন, অতীতে সেখানে মৎস্যজীবীদের আনাগোনা ছিল। একসময় জম্বুদ্বীপে মাছ শুকনোর কাজও করা হত।পরবর্তীতে উপকূলীয় বিধিনিষেধের কারণে সেখানে মৎস্যজীবীদের বিভিন্ন কার্যকলাপ বন্ধ হয়ে যায়। ধীরে ধীরে জায়গাটি পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে এবং প্রকৃতি নিজের মতো করে দ্বীপটিকে ঢেকে নেয়।
এখন পরিযায়ী পাখিদেরও আশ্রয়স্থল
মানুষের আনাগোনা কম থাকায় বর্তমানে জম্বুদ্বীপের পরিবেশ অনেকটাই প্রাকৃতিক। দ্বীপের বিভিন্ন অংশ গাছপালায় ভরে উঠেছে। পরিযায়ী পাখিদেরও এই এলাকায় দেখা যায়।বোটে করে দ্বীপের আশপাশ দিয়ে যাওয়ার সময় দিগন্তজোড়া সমুদ্র, সবুজ বনভূমি এবং জলজ প্রাণীর পাশাপাশি বিভিন্ন পাখি ও লাল কাঁকড়ার উপস্থিতি চোখে পড়তে পারে।
তবে পর্যটকেরা দ্বীপে নামতে পারবেন না
জম্বুদ্বীপকে সাধারণ পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে দেখার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল—সেখানে গিয়ে ইচ্ছেমতো দ্বীপে নামা যায় না।পরিবেশগত কারণ এবং আদালতের নির্দেশের কারণে সাধারণ মানুষের প্রবেশে বিধিনিষেধ রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাই বোটে করে দ্বীপের চারপাশ ঘুরে প্রকৃতি দেখাই মূল অভিজ্ঞতা।
পুজোর ছুটিতে যাওয়ার আগে যা মাথায় রাখবেন
জম্বুদ্বীপের ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসন ও বন/পরিবেশ সংক্রান্ত বিধিনিষেধ মেনে চলা জরুরি। সমুদ্রে বোট চলাচল আবহাওয়ার উপরও নির্ভরশীল। তাই যাওয়ার আগে স্থানীয়ভাবে বোট পরিষেবা, আবহাওয়া এবং দ্বীপের আশপাশে যাওয়ার অনুমতি সংক্রান্ত নিয়ম জেনে নেওয়া ভালো।এখানে মূল আকর্ষণ কোনও ভিড়ভাট্টার বাজার বা পর্যটন পরিকাঠামো নয়—বরং নির্জন সমুদ্র, প্রকৃতি এবং দূর থেকে দ্বীপ দেখার অভিজ্ঞতা।
পুজোর ছুটিতে দিঘা, মন্দারমণি বা বকখালির ভিড় এড়িয়ে একটু নিরিবিলি পরিবেশে সময় কাটাতে চাইলে জম্বুদ্বীপ হতে পারে অন্যরকম গন্তব্য। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফ্রেজারগঞ্জ-বকখালির কাছেই বঙ্গোপসাগরের বুকে অবস্থিত এই জনমানবহীন দ্বীপ। তবে পরিবেশগত কারণে সাধারণ পর্যটকদের দ্বীপে নামার অনুমতি নেই। বোটে করে দ্বীপের চারপাশ ঘুরেই উপভোগ করতে হয় এখানকার প্রকৃতি।













