ভারতীয় ব্যাডমিন্টনের ইতিহাসে যে নামটি লড়াই, সাফল্য ও অনুপ্রেরণার প্রতীক—সেই সাইনা নেহওয়াল অবশেষে থামালেন তাঁর র্যাকেট। দীর্ঘদিন ধরে বাতের ব্যথা, হাঁটুর সমস্যা এবং একাধিক চোটের সঙ্গে লড়াই চালিয়ে গেলেও, শরীর আর সঙ্গ দিচ্ছে না—এই বাস্তবতাকেই মেনে নিয়ে অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন লন্ডন অলিম্পিকের ব্রোঞ্জজয়ী তারকা।
ব্যথার কাছে হার মানল অদম্য মানসিকতা
সাইনা নেহওয়ালের কেরিয়ারের শেষ অধ্যায়টি লেখা হচ্ছিল অনেক দিন ধরেই। বাতের ব্যথা ও হাঁটুর যন্ত্রণায় কার্যত জর্জরিত হয়ে পড়েছিলেন তিনি। নিয়মিত অনুশীলন করলেই শুরু হচ্ছিল তীব্র ব্যথা, যা ধীরে ধীরে তাঁকে কোর্ট থেকে দূরে সরিয়ে দেয়।
শেষ ম্যাচ ২০২৩, ঘোষণা এল ২০২৬-এ
২০১২ লন্ডন অলিম্পিকে ব্রোঞ্জজয়ী এই শাটলার শেষবার প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলেছিলেন ২০২৩ সালের সিঙ্গাপুর ওপেনে। তবে তখনই অবসরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেননি। এবার স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন—আন্তর্জাতিক স্তরে খেলতে যে শারীরিক সক্ষমতা দরকার, তাঁর শরীর আর তা দিতে পারছে না।
‘নিজের শর্তেই এসেছি, নিজের শর্তেই বেরিয়ে যাচ্ছি’
একটি পডকাস্টে সাইনা বলেন,“আমি দু’বছর আগেই খেলা বন্ধ করে দিয়েছিলাম। আমার মনে হয়েছে, নিজের শর্তেই খেলায় এসেছিলাম, নিজের শর্তেই বেরিয়ে যাব।”তাঁর মতে, আলাদা করে অবসর ঘোষণা করাটা জরুরি নয়—সময়ই বলে দেবে যে তিনি আর খেলছেন না।
দিনে ৮–৯ ঘণ্টার প্র্যাকটিস অসম্ভব
সাইনা স্পষ্ট করে জানান, বিশ্ব ব্যাডমিন্টনে টিকে থাকতে হলে প্রতিদিন ৮–৯ ঘণ্টা কঠোর অনুশীলন দরকার। কিন্তু বর্তমানে তাঁর শরীর সর্বোচ্চ ২ ঘণ্টার বেশি অনুশীলনের ধকল নিতে পারছে না। এই অবস্থায় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা কার্যত অসম্ভব।
পরিবার ও কোচকে আগেই জানিয়েছিলেন সিদ্ধান্ত
সাইনা জানান, মা-বাবা ও কোচকে তিনি আগেই নিজের অবস্থার কথা জানিয়ে দিয়েছিলেন। সামান্য অনুশীলনের পরই হাঁটুতে ব্যথা শুরু হয়ে যায়। একাধিক পুরনো চোট এবং ফিটনেস ধরে রাখার লড়াই তাঁকে মানসিকভাবেও ক্লান্ত করে তুলেছিল।
আর্থ্রাইটিসই শেষ পর্যন্ত কাল হল
২০২৪ সালেই সাইনা প্রকাশ্যে জানান, তাঁর হাঁটুতে আর্থ্রাইটিস রয়েছে এবং কার্টিলেজ ক্ষয়ে গেছে। এই শারীরিক সমস্যাই শেষ পর্যন্ত তাঁর বর্ণাঢ্য কেরিয়ারের ইতি টানল।
হাঁটুর আর্থ্রাইটিস ও দীর্ঘদিনের শারীরিক যন্ত্রণার কাছে হার মানতে বাধ্য হলেন ভারতের তারকা ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড় সাইনা নেহওয়াল। আন্তর্জাতিক স্তরের ফিটনেস ধরে রাখা অসম্ভব হয়ে পড়ায়, ৩৫ বছর বয়সেই জীবনের অন্যতম কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রতিযোগিতামূলক ব্যাডমিন্টনকে বিদায় জানালেন তিনি।













