আলো, ক্যামেরা, পুরস্কারের মঞ্চ—সব পেরিয়ে আজ জীবনের অন্য লড়াই। একসময় যাঁর অভিনয় ভারতীয় সিনেমাকে পৌঁছে দিয়েছিল অস্কারের দরজায়, সেই জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেতাই আজ বেঙ্গালুরুর রাস্তায় অটো চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন।
অস্কার-মনোনীত ছবির মুখ, জাতীয় পুরস্কারের মঞ্চে দাঁড়িয়ে ছিলেন যিনি
১৯৮৮ সালে মুক্তি পাওয়া মীরা নায়ার পরিচালিত Salaam Bombay! ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে এক অনন্য মাইলফলক। ফুটপাথের শিশুদের কঠিন বাস্তবতাকে কোনও রোমান্টিকতা ছাড়াই তুলে ধরা এই ছবি ভারতের হয়ে অস্কারে মনোনীত হয়েছিল।
‘কৃষ্ণ’ চরিত্রে অভিনয়, রাতারাতি খ্যাতি
ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্র ছিল ১২ বছরের কিশোর কৃষ্ণ ওরফে সাই বাবা। সেই চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন শফিক সাইদ। তাঁর স্বাভাবিক অভিনয়, চোখের ভাষা দর্শক ও সমালোচকদের মুগ্ধ করেছিল। সেই অভিনয়ের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি জাতীয় পুরস্কারে সেরা শিশুশিল্পীর সম্মান পান।
পুরস্কারের পরেও খুলে যায়নি সুযোগের দরজা
এত বড় স্বীকৃতি পাওয়ার পরও শফিকের জীবনে প্রত্যাশিত পরিবর্তন আসেনি। Salaam Bombay!-এর পর তিনি অভিনয় করেন মাত্র আরও একটি ছবিতে—১৯৯৪ সালের Pathang। তারপর ধীরে ধীরে চলচ্চিত্র জগতের মূল স্রোত থেকে হারিয়ে যান তিনি।
২০ টাকার পারিশ্রমিক, আন্তর্জাতিক খ্যাতি অথচ অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ
বেঙ্গালুরুতে জন্ম শফিকের। শুটিং চলাকালীন দৈনিক পারিশ্রমিক ছিল মাত্র ২০ টাকা, সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে একটি ভাদা। আন্তর্জাতিক প্রশংসা এলেও নিয়মিত কাজ বা আর্থিক নিরাপত্তা তাঁর জীবনে আসেনি।
বেঙ্গালুরুতে ফিরে অটো চালিয়েই জীবিকা
নব্বইয়ের দশকে তিনি ফিরে আসেন বেঙ্গালুরুতে। সিনেমায় কাজ না পেয়ে অটো চালিয়ে সংসার চালানো শুরু করেন। কখনও কন্নড় টেলিভিশন ধারাবাহিকে ক্যামেরা অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবেও কাজ করেছেন। বর্তমানে মা, স্ত্রী ও চার সন্তানকে নিয়ে একটি ছোট বাড়িতে তাঁর জীবন কাটে।
একসময় জাতীয় পুরস্কার জেতা অভিনেতা, মীরা নায়ারের অস্কার-মনোনীত ছবি Salaam Bombay!-এর কেন্দ্রীয় চরিত্র—আজ বেঙ্গালুরুর রাস্তায় অটো চালিয়ে সংসার চালান। শফিক সাইদের জীবন বলিউডের নির্মম বাস্তবতারই এক নীরব দলিল।













