ভারতীয় নারীদের দৈনন্দিন পোশাকের মধ্যে শাড়ি অন্যতম। কিন্তু এই ঐতিহ্যবাহী পোশাকই কখনও কখনও বিপদের কারণ হয়ে উঠতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে একইভাবে কোমরে আঁটসাঁট করে শাড়ি পরলে ত্বকের উপর ক্রমাগত ঘর্ষণ সৃষ্টি হয়, যা পরে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

‘শাড়ি ক্যানসার’ আসলে কী?
‘শাড়ি ক্যানসার’ কোনও আলাদা রোগ নয়, বরং এটি স্কোয়ামাস সেল কার্সিনোমা-এর একটি বিরল রূপ। সাধারণত কোমরের যে অংশে শাড়ি শক্ত করে বাঁধা হয়, সেই জায়গায় দীর্ঘদিন ঘর্ষণের ফলে ত্বকের কোষে পরিবর্তন ঘটে এবং ধীরে ধীরে ক্ষত তৈরি হয়।
কীভাবে তৈরি হয় এই সমস্যা?
এই রোগ রাতারাতি হয় না। বছরের পর বছর একই জায়গায় চাপ ও ঘর্ষণের ফলে ত্বক প্রথমে রুক্ষ ও কালচে হয়ে যায়। এরপর চুলকানি, জ্বালা এবং ছোট ক্ষত তৈরি হয়। এই ক্ষতগুলো দীর্ঘদিন অবহেলা করলে তা আলসারে পরিণত হয়ে ক্যানসারের দিকে এগোতে পারে।

কোন লক্ষণগুলো দেখলেই সতর্ক হবেন?
প্রথমদিকে সাধারণ সমস্যা মনে হলেও কিছু লক্ষণ বিপদের ইঙ্গিত দেয়—
কোমরের ত্বক কালো বা পুরু হয়ে যাওয়া
বারবার চুলকানি বা জ্বালাভাব
ছোট ক্ষত বা ঘা তৈরি হওয়া
ক্ষত দীর্ঘদিনেও না শুকানো
রক্তপাত বা ব্যথা
এই লক্ষণগুলির একটিও দীর্ঘদিন থাকলে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

প্রতিরোধের সহজ উপায়
এই ঝুঁকি এড়াতে দৈনন্দিন অভ্যাসে কিছু পরিবর্তন জরুরি—
শাড়ি ঢিলেঢালাভাবে পরুন, খুব টাইট করবেন না
প্রতিদিন একই জায়গায় শাড়ি বাঁধবেন না
কোমরের অংশ পরিষ্কার ও শুকনো রাখুন
নরম কাপড় বা চওড়া ফিতা ব্যবহার করুন
ত্বকে কোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যান

শাড়ি আমাদের সংস্কৃতির অংশ হলেও, দীর্ঘদিন আঁটসাঁট করে পরার ফলে কোমরের ত্বকে বিরল ধরনের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়তে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি আসলে স্কোয়ামাস সেল কার্সিনোমা-এর একটি অস্বাভাবিক রূপ, যা ধীরে ধীরে তৈরি হয় এবং অবহেলা করলে বিপজ্জনক হতে পারে।













