প্রতিভা থাকলে সাফল্যের পথে ভৌগোলিক দূরত্ব কখনও বাধা হতে পারে না—এই কথাই যেন আরও একবার প্রমাণ করলেন ইসলামপুরের আয়ুষ গুপ্তা। দীর্ঘ ৮-৯ মাসের কঠিন প্রতিযোগিতা পেরিয়ে ‘সারেগামাপা ২০২৬’-এর ট্রফি নিজের নামে করে নিলেন তিনি। তাঁর এই সাফল্যের গল্প এখন উত্তরবঙ্গের হাজারো স্বপ্নবাজ তরুণ-তরুণীর কাছে অনুপ্রেরণার প্রতীক।
টানা পারফরম্যান্সে বাজিমাত, জিতলেন সেরার সম্মান
জি বাংলার জনপ্রিয় সঙ্গীত প্রতিযোগিতা ‘সারেগামাপা’-র এবারের আসরে শুরু থেকেই নিজের গায়কী দিয়ে বিচারক ও দর্শকদের মন জয় করেছিলেন আয়ুষ গুপ্তা। প্রতিটি পর্বে ধারাবাহিকভাবে দুর্দান্ত পরিবেশনা তাঁকে ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছে দেয়। শেষমেশ সেরার মুকুট জিতে নিজের প্রতিভার স্বীকৃতি পেলেন তিনি।
ছোট শহরের ছেলের বড় স্বপ্ন পূরণ
উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুর শহরের আলুপট্টির এক সাধারণ পরিবারে বেড়ে ওঠা আয়ুষের জীবনযাত্রা মোটেও সহজ ছিল না। পড়াশোনার পাশাপাশি নিয়মিত গানচর্চা চালিয়ে গিয়েছেন তিনি। বড় শহরের সুযোগ-সুবিধা না থাকলেও নিজের নিষ্ঠা এবং পরিশ্রমে তিনি পৌঁছে গিয়েছেন বাংলা টেলিভিশনের অন্যতম বড় মঞ্চে।
‘গান গেয়ে কী হবে’—আজ সেই প্রশ্নের উত্তর সাফল্য
সংগীতকে পেশা হিসেবে বেছে নেওয়ার পথে নানা কটাক্ষও শুনতে হয়েছে আয়ুষকে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছিলেন, ‘গান গেয়ে ভবিষ্যৎ তৈরি হবে?’ কিন্তু সেই সব সন্দেহের জবাব তিনি দিয়েছেন নিজের কৃতিত্বের মাধ্যমে। আজ তাঁর সাফল্য প্রমাণ করছে, স্বপ্নের প্রতি বিশ্বাস থাকলে অসম্ভবও সম্ভব হয়ে ওঠে।
ফাইনালে ছিল কঠিন লড়াই
এবারের প্রতিযোগিতার প্রথম পাঁচে জায়গা করে নিয়েছিলেন গীতশ্রী চৌধুরী, সৃজন পোড়ল, সায়ন্তনী ঘোষ, বিশ্বপ্রিয় চক্রবর্তী এবং আয়ুষ গুপ্তা। একের পর এক কঠিন রাউন্ড পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত বিজয়ীর আসনে বসেন আয়ুষ। তাঁর নাম ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন দর্শকরা।
পরিবারের চোখে আনন্দের অশ্রু
বিজয়ীর নাম ঘোষণার মুহূর্তে আবেগে ভেঙে পড়েন আয়ুষের মা রেখা দেবী। তিনি জানান, ছোটবেলা থেকেই ছেলের গানের প্রতি আলাদা টান ছিল এবং পরিবার সবসময় তাকে উৎসাহ দিয়েছে। আয়ুষের বাবার কথায়, ছেলে কখনও পড়াশোনা এবং সংগীত—কোনওটিকেই অবহেলা করেনি। কঠোর পরিশ্রমই তাকে আজকের এই সাফল্য এনে দিয়েছে।
উত্তরবঙ্গের নতুন অনুপ্রেরণা
আয়ুষ গুপ্তার এই জয় শুধু একটি রিয়েলিটি শোর ট্রফি জয় নয়। এটি প্রান্তিক এলাকার অসংখ্য প্রতিভাবান ছেলে-মেয়ের জন্য একটি বড় বার্তা—সুযোগ সীমিত হলেও প্রতিভা, অধ্যবসায় এবং আত্মবিশ্বাস থাকলে বড় মঞ্চে নিজের পরিচয় তৈরি করা সম্ভব। ইসলামপুরের এই সাফল্যকে এখন গোটা উত্তরবঙ্গের গর্ব হিসেবেই দেখছেন স্থানীয় মানুষ।
জি বাংলার জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ‘সারেগামাপা ২০২৬’-এর বিজয়ী হলেন উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুরের ছেলে আয়ুষ গুপ্তা। ছোট শহর থেকে উঠে এসে টানা কয়েক মাসের অসাধারণ পারফরম্যান্সের পর শিরোপা জিতে তিনি শুধু নিজের পরিবার নয়, গোটা উত্তরবঙ্গকেই গর্বিত করেছেন।








