শ্রাবণ মাস এলেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে শুরু হয় মহাদেবের আরাধনা। সোমবারকে বিশেষ শুভ মনে করে বহু ভক্ত উপবাস পালন করেন এবং শিবলিঙ্গে জল নিবেদন করেন। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এই সময় ভগবান শিবের পূজা বিশেষ ফলদায়ক বলে মনে করা হয়। তবে আচার পালনের ক্ষেত্রে কয়েকটি নিয়ম মেনে চলার পরামর্শ দেন পুরোহিত ও শাস্ত্রজ্ঞরা।
![]()
শ্রাবণ মাসে কেন সোমবারের গুরুত্ব এত বেশি?
হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুসারে, শ্রাবণ মাস ভগবান শিবের অত্যন্ত প্রিয়। এই মাসের প্রতিটি সোমবারে উপবাস ও শিবপুজো করলে ভক্তরা তাঁর বিশেষ আশীর্বাদ লাভ করেন বলে মনে করা হয়। অনেকেই এই সময় তারকেশ্বর-সহ বিভিন্ন শিবমন্দিরে গিয়ে জলাভিষেক করেন।
শিবপুজোয় কোন কোন উপাচার ব্যবহার করা হয়?
ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী, শিবপুজোয় সাধারণত বেলপাতা, ধুতরো, দুধ, দই, মধু, চিনি, গঙ্গাজল, ফুল, ফল, ধূপ, প্রদীপ, আতপ চাল ও পঞ্চামৃত ব্যবহার করা হয়। প্রথমে শিবলিঙ্গ গঙ্গাজল দিয়ে পরিষ্কার করে, এরপর পঞ্চামৃত ও অন্যান্য উপাচারে পূজা করার প্রচলন রয়েছে।
বেলপাতা নিবেদনের সময় কী বিষয় মাথায় রাখবেন?
শাস্ত্র মতে, শিবকে নিবেদন করা বেলপাতা তিনটি পত্রযুক্ত এবং পরিষ্কার হওয়া উচিত। ভক্তদের বিশ্বাস, এই নিয়ম মেনে বেলপাতা অর্পণ করলে সংসারে শান্তি ও শুভ শক্তির আগমন ঘটে।
![]()
আর্থিক ও কর্মজীবনের সমস্যায় কী প্রচলিত বিশ্বাস রয়েছে?
ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী—আর্থিক সমস্যা থেকে মুক্তির কামনায় অনেক ভক্ত শিবলিঙ্গে একমুঠো আতপ চাল নিবেদন করেন।কর্মক্ষেত্রে বাধা বা নতুন কাজে বারবার বিঘ্ন ঘটলে একমুঠো মুগ ডাল অর্পণেরও প্রচলন রয়েছে।অবিবাহিত নারীদের বিবাহে বাধা দূর করার উদ্দেশ্যে টানা ১৬টি সোমবার দুধ ও দই দিয়ে শিবলিঙ্গে অভিষেক করার রীতিও বহু জায়গায় অনুসরণ করা হয়।তবে এগুলি সম্পূর্ণ ধর্মীয় বিশ্বাস ও লোকাচারের অংশ; এর বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।
![]()
উপবাস পালনের সময় কী মানা হয়?
অনেক শিবভক্ত শ্রাবণের সোমবারে নির্জলা বা ফলাহার উপবাস পালন করেন। আবার অনেকে দিনের শেষে পুজো সম্পন্ন করে নিরামিষ আহার গ্রহণ করেন। কোন পদ্ধতি অনুসরণ করবেন, তা ব্যক্তিগত বিশ্বাস, স্বাস্থ্য এবং পারিবারিক রীতিনীতির উপর নির্ভর করে।
![]()
হিন্দু ধর্মে শ্রাবণ মাস শিবভক্তদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র। এই মাসের প্রতিটি সোমবারে উপবাস, শিবলিঙ্গে জলাভিষেক এবং নির্দিষ্ট উপাচারে পুজো করার রীতি প্রচলিত। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, নিষ্ঠার সঙ্গে এই আচার পালন করলে জীবনের নানা বাধা দূর হতে পারে এবং মহাদেবের আশীর্বাদ লাভ করা যায়।








