আজকের দিনে সিনেমা বা ফ্যাশন জগতে বিকিনি ফটোশুট খুবই স্বাভাবিক ঘটনা। কিন্তু ষাটের দশকে সেই সাহসী সিদ্ধান্ত ছিল কার্যত এক সামাজিক বিপ্লব। সেই সময় একটি জনপ্রিয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে বিকিনি পরে হাজির হয়ে আলোড়ন ফেলেছিলেন অভিনেত্রী শর্মিলা ঠাকুর। প্রশংসার পাশাপাশি সমালোচনার ঝড়ও বয়ে গিয়েছিল। সেই কঠিন সময়ে স্বামী মনসুর আলি খান পতৌদির প্রতিক্রিয়া কী হবে, তা নিয়েই সবচেয়ে বেশি চিন্তায় ছিলেন অভিনেত্রী।
একটি প্রচ্ছদ, আর তাতেই দেশজুড়ে বিতর্ক
বাংলা ও হিন্দি সিনেমার অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী শর্মিলা ঠাকুর ষাটের দশকে একটি ম্যাগাজিনের কভারের জন্য বিকিনি ফটোশুট করেছিলেন। সে সময় ভারতীয় সমাজে এমন ছবি অত্যন্ত বিরল ছিল। ফলে ছবিটি প্রকাশ্যে আসতেই তা নিয়ে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা, সমালোচনা এবং বিতর্ক। এমনকি বিষয়টি রাজনৈতিক মহলেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে বলে পরে জানান অভিনেত্রী।
'বিকিনি পরার সিদ্ধান্ত ছিল সম্পূর্ণ আমার'
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে শর্মিলা ঠাকুর স্পষ্ট করে বলেন, বিকিনি পরার জন্য তাঁকে কেউ বাধ্য করেননি। ফটোগ্রাফারের সঙ্গে আলোচনার সময় তিনিই এই পোশাকের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তাঁর কথায়, তখন তিনি তরুণী ছিলেন এবং মনে হয়েছিল এই ফটোশুট নান্দনিক হবে। এটি প্রচারের জন্য পরিকল্পিত কোনও কৌশল ছিল না বলেও তিনি পরিষ্কার জানান।
সমালোচনার মাঝেও চিন্তা ছিল শুধু স্বামীর প্রতিক্রিয়া নিয়ে
ফটোশুট প্রকাশের পর চারদিকে যখন সমালোচনার ঝড়, তখন পরিচিতদের কাছ থেকেও নানা মন্তব্য শুনতে হয়েছিল অভিনেত্রীকে। তবে সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা ছিল, স্বামী মনসুর আলি খান পতৌদি বিষয়টি কীভাবে নেবেন। সেই সময় ক্রিকেট সফরে লন্ডনে ছিলেন পতৌদি। তাই সমস্ত ঘটনা জানিয়ে তাঁকে একটি টেলিগ্রাম পাঠান শর্মিলা।
পতৌদির এক উত্তরেই দূর হয়েছিল সব দুশ্চিন্তা
টেলিগ্রামের উত্তরে মনসুর আলি খান পতৌদি সংক্ষিপ্ত অথচ আন্তরিক বার্তা পাঠান। শর্মিলার কথায়, তিনি লিখেছিলেন—"It must be looking nice." অর্থাৎ, "নিশ্চয়ই দেখতে ভালো লাগছে।"স্বামীর এই ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া অভিনেত্রীকে ভীষণ স্বস্তি দিয়েছিল। সমালোচনার আবহে পতৌদির এই নির্ভেজাল সমর্থন আজও তাঁর স্মৃতিতে অমলিন।
প্রেম, বিয়ে এবং সামাজিক বাধা
শর্মিলা ঠাকুর ও ভারতীয় ক্রিকেট দলের প্রাক্তন অধিনায়ক মনসুর আলি খান পতৌদির পরিচয় হয়েছিল ষাটের দশকের মাঝামাঝি। পরে দীর্ঘ সম্পর্কের পর ১৯৬৯ সালের ২৭ ডিসেম্বর তাঁদের বিয়ে হয়। আন্তঃধর্মীয় এই বিয়ে ঘিরেও তৎকালীন সমাজে বিস্তর বিতর্ক ও বিরোধিতার মুখে পড়তে হয়েছিল তাঁদের। নিরাপত্তার কারণেও বিয়ের অনুষ্ঠানের কিছু পরিকল্পনা শেষ মুহূর্তে পরিবর্তন করতে হয়েছিল বলে বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে।
ষাটের দশকে বিকিনি পরে ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে উঠে তুমুল বিতর্কের মুখে পড়েছিলেন শর্মিলা ঠাকুর। সমালোচনার ঝড়ের মাঝেই স্বামী মনসুর আলি খান পতৌদিকে টেলিগ্রাম করে তাঁর প্রতিক্রিয়া জানতে চেয়েছিলেন অভিনেত্রী। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সেই ঘটনার স্মৃতিচারণ করে শর্মিলা জানান, পতৌদির এক সহজ-সরল উত্তরই তাঁকে মানসিকভাবে অনেকটা স্বস্তি দিয়েছিল।









