Sharmila Tagore-Rajesh Khanna: পর্দায় সুপারহিট জুটি, কিন্তু সেটে কম ভুগতে হয়নি শর্মিলাকে! অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় কী ঘটেছিল ‘আরাধনা’-র শুটিংয়ে?

রাজেশ খান্না ও শর্মিলা ঠাকুরের সুপারহিট জুটির নেপথ্যের অজানা ঘটনা। ‘আরাধনা’-র শুটিংয়ের সময় অন্তঃসত্ত্বা শর্মিলাকে কেন দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হত, জানুন সেই গল্প।

একদিকে জনপ্রিয় ছবির শুটিং, অন্যদিকে ব্যক্তিগত জীবনে মাতৃত্বের প্রস্তুতি—এই দুইয়ের মধ্যে তখন ভারসাম্য রেখে চলছিলেন শর্মিলা ঠাকুর। ‘আরাধনা’-র শুটিংয়ের সময় তিনি অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। অভিনেত্রীর কথায়, সেই সময়ে সেটে সময়মতো পৌঁছনো তাঁর কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও সহ-অভিনেতা রাজেশ খান্না প্রায়ই দেরিতে আসতেন। ফলে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হত তাঁকে।

‘আরাধনা’ থেকেই জমে গিয়েছিল জনপ্রিয় জুটি

ষাট ও সত্তরের দশকে রাজেশ খান্না এবং শর্মিলা ঠাকুরের জুটি ছিল বলিউডের অন্যতম সফল জুটি। তাঁদের অভিনীত একাধিক সিনেমা বক্স অফিসে সাফল্য পাওয়ার পাশাপাশি দর্শকদের কাছেও বিশেষ জনপ্রিয় হয়েছিল।‘আরাধনা’ তাঁদের কেরিয়ারে গুরুত্বপূর্ণ ছবি। এরপরও একাধিক সিনেমায় একসঙ্গে দেখা যায় দু’জনকে। পর্দায় তাঁদের রোম্যান্টিক রসায়ন এতটাই জনপ্রিয় হয়েছিল যে আজও হিন্দি সিনেমার অন্যতম স্মরণীয় জুটি হিসেবে তাঁদের নাম উঠে আসে।

অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় ‘আরাধনা’-র শুটিং করেছিলেন শর্মিলা

শর্মিলা ঠাকুরের বক্তব্য অনুযায়ী, ‘আরাধনা’-র শুটিং চলাকালীন তিনি অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। সেই সময় তাঁর ছেলে সাইফ আলি খান জন্মগ্রহণ করেন পরবর্তীতে।শুধু ‘আরাধনা’ নয়, পরবর্তী সময়েও রাজেশ খান্নার সঙ্গে কাজ করার সময় এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিলেন অভিনেত্রী। ‘ছোটি বহু’ ছবিতে কাজ করার সময় তিনি তাঁর মেয়ে সোহা আলি খানের মা হতে চলেছিলেন।

সকাল ৯টার শুটিং, কিন্তু সেটে আসতেন অনেক পরে!

শর্মিলার সমস্যার অন্যতম কারণ ছিল রাজেশ খান্নার দেরিতে সেটে পৌঁছনোর অভ্যাস। অভিনেত্রী জানিয়েছিলেন, শুটিং যদি সকাল ৯টায় শুরু হওয়ার কথা থাকত, অনেক সময় রাজেশ খান্না দুপুরের আগে সেটে পৌঁছতেন না।ফলে নির্ধারিত সময়ের তুলনায় শুটিং পিছিয়ে যেত। আর অন্তঃসত্ত্বা শর্মিলার জন্য দীর্ঘক্ষণ সেটে অপেক্ষা করা স্বাভাবিকভাবেই অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করত। কাজের পাশাপাশি তখন তাঁকে নিজের শরীর ও পারিবারিক দায়িত্বের কথাও মাথায় রাখতে হত।

কাজ আর ব্যক্তিগত জীবনের মধ্যে ভারসাম্য ছিল জরুরি

সেই সময় শর্মিলা ঠাকুরের সামনে ছিল একাধিক দায়িত্ব। নিয়মিত শুটিংয়ের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনেও বড় পরিবর্তনের সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিলেন তিনিতাই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কিন্তু সহ-অভিনেতার দেরির কারণে শুটিংয়ের সময়সূচি পিছিয়ে গেলে তাঁর জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠত।

দু’জনেরই পছন্দ ছিল মুখের একই দিক!

রাজেশ খান্না ও শর্মিলা ঠাকুরের নেপথ্যের আরেকটি মজার তথ্যও উঠে এসেছিল অভিনেত্রীর কথায়। ক্যামেরার সামনে দু’জনেই নিজেদের মুখের একটি নির্দিষ্ট দিককে বেশি পছন্দ করতেন।ফলে একই ফ্রেমে দু’জনকে রাখার সময় ক্যামেরার অ্যাঙ্গেল ঠিক করাও কখনও কখনও বেশ কঠিন হয়ে উঠত। অর্থাৎ পর্দায় তাঁদের নিখুঁত রসায়নের পিছনে ক্যামেরার নেপথ্যে এমন ছোটখাটো সমস্যাও সামলাতে হত নির্মাতাদের।

সব বাধা পেরিয়েও দর্শকদের মন জিতেছিল জুটি

শুটিংয়ের সময়সূচি নিয়ে সমস্যা কিংবা ক্যামেরার অ্যাঙ্গেল নিয়ে মজার পরিস্থিতি—কিছুই শেষ পর্যন্ত তাঁদের অনস্ক্রিন জনপ্রিয়তায় প্রভাব ফেলতে পারেনি।রাজেশ খান্না ও শর্মিলা ঠাকুরের অভিনয় এবং পর্দার রসায়ন দর্শকদের এতটাই পছন্দ হয়েছিল যে তাঁদের একসঙ্গে অভিনীত ছবিগুলি আজও হিন্দি সিনেমার স্মরণীয় কাজগুলির তালিকায় জায়গা করে নেয়।

রাজেশ খান্না ও শর্মিলা ঠাকুরের জুটি হিন্দি সিনেমার ইতিহাসে অন্যতম জনপ্রিয়। ‘আরাধনা’, ‘অমর প্রেম’-সহ একাধিক ছবিতে তাঁদের রসায়ন দর্শকদের মন জয় করেছিল। কিন্তু শুটিংয়ের নেপথ্যে সবসময় যে পরিস্থিতি এতটা সহজ ছিল না, সে কথাও এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন শর্মিলা ঠাকুর। বিশেষ করে অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় শুটিং করতে গিয়ে রাজেশ খান্নার সময়ানুবর্তিতার অভাবে তাঁকে সমস্যায় পড়তে হত।

Leave a comment