হিমাচল প্রদেশের শিমলা জেলার স্যানজোলি মসজিদ মামলায় বুধবার সকালে হাইকোর্টে শুনানি হয়। আদালত মসজিদের নীচের দুটি তলার বিষয়ে স্থিতাবস্থা (Status Quo) বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছে এবং মামলার পরবর্তী শুনানি মার্চ মাসে ধার্য করেছে।
শিমলা: হিমাচল প্রদেশের রাজধানী শিমলার স্যানজোলি এলাকায় অবস্থিত মসজিদ নিয়ে চলা আইনি বিতর্ক আরও একবার শিরোনামে এসেছে। বুধবার এই মামলার শুনানির সময় হিমাচল প্রদেশ হাইকোর্ট (Himachal Pradesh High Court) নিম্ন আদালতের ধ্বংসের আদেশের উপর আংশিক স্থগিতাদেশ দিয়ে স্থিতাবস্থা (Status Quo) বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছে। এখন পরবর্তী শুনানি পর্যন্ত মসজিদের নীচের দুটি তলা ভেঙে ফেলা যাবে না।
এই মামলাটি দীর্ঘদিন ধরে আদালতে বিচারাধীন এবং এ নিয়ে রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ও সামাজিক স্তরেও আলোচনা চলছে। হাইকোর্টের এই আদেশ আপাতত মসজিদ কমিটি ও ওয়াকফ বোর্ডের জন্য বড় স্বস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
হাইকোর্ট কী বলেছে?
বুধবার সকালে শুনানির সময় হাইকোর্টের একক বেঞ্চ, যার সভাপতিত্ব করেন বিচারপতি অজয় মোহন গোয়েল (Justice Ajay Mohan Goel), স্পষ্ট করে যে, মসজিদের নীচের দুটি তলার বিষয়ে স্থিতাবস্থা বজায় রাখা হবে। তবে, দ্বিতীয় তলার উপরে নির্মিত তলাগুলি ভেঙে ফেলার পূর্বের দৃঢ় আশ্বাস কার্যকর থাকবে।
যদি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে উপরের তলাগুলি ভেঙে ফেলা না হয়, তাহলে শিমলা নগর নিগম (Municipal Corporation Shimla) ব্যবস্থা নেওয়ার সম্পূর্ণ স্বাধীনতা পাবে। আদালত এটিও স্পষ্ট করে দিয়েছে যে তার এই অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা পরবর্তী শুনানি পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। মামলার পরবর্তী শুনানি মার্চ মাসে নির্ধারিত করা হয়েছে।
![]()
নিম্ন আদালত ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ভেঙে ফেলার আদেশ দিয়েছিল
এর আগে ৩০ অক্টোবর শিমলা জেলা আদালত এই বিতর্কিত মসজিদ মামলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছিল। জেলা আদালত শিমলা নগর নিগমের কমিশনার আদালতের রায়কে সঠিক বলে ঘোষণা করে, মসজিদের নীচের দুটি তলাকেও অবৈধ ঘোষণা করেছিল। ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে এই তলাগুলি ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
এই রায়ের পর প্রশাসনিক স্তরেও ভাঙার প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছিল। এই আদেশের বিরুদ্ধেই মসজিদ কমিটি এবং হিমাচল প্রদেশ ওয়াকফ বোর্ড (Himachal Pradesh Waqf Board) হাইকোর্টে পৌঁছেছিল।
ওয়াকফ বোর্ডের আবেদন এবং হাইকোর্টের কার্যক্রম
স্যানজোলি মসজিদ ভেঙে ফেলার জেলা আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে ওয়াকফ বোর্ড হাইকোর্টে একটি আবেদন করেছিল। বুধবার সেই আবেদনের উপর শুনানি হয়। আদালত তথ্য ও নথিপত্রের প্রাথমিক শুনানির পর নীচের দুটি তলার উপর অন্তর্বর্তীকালীন স্বস্তি দিয়ে স্থিতাবস্থার আদেশ দেয়। তবে, আদালত এটিও স্পষ্ট করে দিয়েছে যে উপরের যে তলাগুলি সরিয়ে ফেলার প্রতিশ্রুতি আগেই দেওয়া হয়েছিল, সেগুলি এখন যেকোনো মূল্যে সরাতে হবে।
এই মামলায় সোমবারও হাইকোর্টে শুনানি হয়েছিল, যেখানে ডিভিশন বেঞ্চের সামনে ওয়াকফ বোর্ড কর্তৃক দায়ের করা একটি রিট আবেদন (Writ Petition) খারিজ করে দেওয়া হয়েছিল। সেই সময় ওয়াকফ বোর্ড তাদের আবেদন প্রত্যাহার করার অনুরোধ করেছিল। একই সাথে আদালত থেকে এই অনুমতিও চেয়েছিল যে তারা একই তথ্যের ভিত্তিতে একটি নতুন এবং উপযুক্ত আবেদন দায়ের করতে পারে। এই নতুন আবেদনে শিমলা নগর নিগমকে বিবাদী (Respondent) করা হয়েছিল, যার উপর এখন বুধবার শুনানি হয়েছে।












