কর্ণাটকে সিদ্ধারামাইয়ার পদত্যাগ অনুমোদনের পর ডি কে শিবকুমারের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার প্রস্তুতি

কর্ণাটকে মুখ্যমন্ত্রী সিবকুমারের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। দলীয় সূত্রে নেতৃত্ব পরিবর্তন, বিধায়ক দল বৈঠক, মন্ত্রিসভা পুনর্গঠন এবং চার উপমুখ্যমন্ত্রী নিয়োগের সম্ভাবনার কথা জানানো হয়েছে।

কর্ণাটকের রাজনীতিতে গত কয়েক মাস ধরে চলা নেতৃত্বসংক্রান্ত বিরোধ এখন একটি নির্ণায়ক পর্যায়ে পৌঁছেছে। মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধারামাইয়ার পদত্যাগ রাজ্যপাল থাওয়ার চাঁদ গেহলট অনুমোদন করার পর রাজ্যে ক্ষমতা হস্তান্তরের পথ স্পষ্ট হয়েছে। এখন কংগ্রেস নেতা ডি কে শিবকুমারের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের প্রস্তুতি জোরদার হয়েছে। রাজনৈতিক সূত্রের দাবি, তাঁর শপথ গ্রহণ ১ জুন অথবা ৩ জুন হতে পারে।

দীর্ঘদিন ধরে কংগ্রেসের অভ্যন্তরে চলা নেতৃত্বসংক্রান্ত টানাপোড়েনের পর এই রাজনৈতিক পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে, যা ধারাবাহিকভাবে রাজ্যের রাজনীতির আলোচনায় ছিল।

মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধারামাইয়া বৃহস্পতিবার তাঁর পদত্যাগপত্র রাজ্যপাল সচিবালয়ে জমা দেন। সেই সময় রাজ্যপাল থাওয়ার চাঁদ গেহলট বেঙ্গালুরুতে উপস্থিত ছিলেন না। পরে রাজধানীতে ফিরে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ গ্রহণ করেন। পদত্যাগের পর সিদ্ধারামাইয়া সংবাদমাধ্যমকে জানান, তিনি দলের হাইকমান্ডের নির্দেশকে সম্মান জানিয়ে পদ ছেড়েছেন। তিনি বলেন, সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে রাজ্যপাল তাঁর পদত্যাগ গ্রহণ করবেন বলে তাঁর পূর্ণ আস্থা ছিল।

নিজের রাজনৈতিক জীবনের প্রসঙ্গ টেনে সিদ্ধারামাইয়া বলেন, তিনি সর্বদা জনসেবাকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন এবং কখনও পদ বা ব্যক্তিগত সম্পদের জন্য রাজনীতি করেননি। তিনি তাঁর ৫০ বছরের রাজনৈতিক জীবনকে “ওপেন বুক” বলে বর্ণনা করেন।

রাজ্যপালের মাধ্যমে পদত্যাগ অনুমোদিত হওয়ার পর কংগ্রেসের জ্যেষ্ঠ নেতা ডি কে শিবকুমারের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় নিশ্চিত বলে ধরা হচ্ছে। দলীয় সূত্রের মতে, কংগ্রেস নেতৃত্ব শীঘ্রই বিধায়ক দলের আনুষ্ঠানিক বৈঠক ডাকতে পারে, যার পর শিবকুমারকে বিধায়ক দলের নেতা নির্বাচিত করা হতে পারে।

কর্ণাটকে সিদ্ধারামাইয়ার পদত্যাগ অনুমোদনের পর ডি কে শিবকুমারের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার প্রস্তুতি

ডি কে শিবকুমার দীর্ঘদিন ধরে মুখ্যমন্ত্রী পদের প্রধান দাবিদার হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছেন। কর্ণাটক বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের জয়ের পরও নেতৃত্ব নিয়ে দলের অভ্যন্তরে মতপার্থক্য সামনে আসে। সে সময় দলের হাইকমান্ড সিদ্ধারামাইয়াকে মুখ্যমন্ত্রী এবং শিবকুমারকে উপমুখ্যমন্ত্রী করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তবে গত কয়েক মাস ধরে নেতৃত্ব পরিবর্তনের আলোচনা ক্রমশ জোরদার হয় এবং এখন কংগ্রেস ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখতে নেতৃত্ব পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

কর্ণাটকে চলা রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা দূর করতে কংগ্রেস নেতৃত্ব সম্প্রতি নয়াদিল্লিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করে। বৈঠকে সিদ্ধারামাইয়া, ডি কে শিবকুমার এবং কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক রণদীপ সুরজেওয়ালা-সহ একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে জানানো হয়, দলীয় নেতৃত্ব, বিশেষ করে রাহুল গান্ধীর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত এবং সর্বসম্মত বলে গণ্য হবে। এর পর ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া দ্রুত এগোতে শুরু করে।

সূত্রগুলির দাবি, বৈঠকে শুধু মুখ্যমন্ত্রী পদ নয়, রাজ্যসভার প্রার্থী, বিধান পরিষদ (এমএলসি) নিয়োগ এবং মন্ত্রিসভা পুনর্গঠন নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

কংগ্রেস সূত্রের দাবি, নতুন সরকারে সামাজিক ও আঞ্চলিক ভারসাম্য বজায় রাখার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। এই কৌশলের অংশ হিসেবে রাজ্যে চারজন উপমুখ্যমন্ত্রী নিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে। বিভিন্ন সম্প্রদায় এবং অঞ্চলকে প্রতিনিধিত্ব দেওয়ার মাধ্যমে রাজনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখাই দলের লক্ষ্য বলে সূত্রগুলির বক্তব্য। পাশাপাশি, সিদ্ধারামাইয়া মন্ত্রিসভার কিছু বর্তমান মন্ত্রী নতুন মন্ত্রিসভায় স্থান নাও পেতে পারেন বলেও সম্ভাবনা রয়েছে।

দক্ষিণ ভারতে কর্ণাটককে কংগ্রেসের সবচেয়ে শক্তিশালী রাজ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সেই কারণে দল কোনও ধরনের অভ্যন্তরীণ বিরোধ দীর্ঘ সময় ধরে বজায় রাখতে আগ্রহী নয়। আসন্ন লোকসভা ও স্থানীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে কংগ্রেস নেতৃত্ব রাজ্যে স্থিতিশীলতা এবং সাংগঠনিক ঐক্য বজায় রাখার ওপর জোর দিচ্ছে।

 

Leave a comment