সিকারে ১০০ মিটার দূরত্বে দুই মন্দিরে চুরি, ভাঙা হলো তালা ও দানপাত্র

রাজস্থানের সিকারে একই রাতে প্রায় ১০০ মিটার দূরত্বে ভূতনাথ মহাদেব ও মোতীনাথ মন্দিরে চুরি হয়েছে। চোরেরা তালা ও দানপাত্র ভেঙে নগদ টাকা নিয়ে পালিয়েছে। চুরি হওয়া মোট অর্থের পরিমাণ এখনও জানা যায়নি।

রাজস্থানের সিকারের কোতোয়ালি থানা এলাকায় একই রাতে প্রায় ১০০ মিটার দূরত্বে অবস্থিত ভূতনাথ মহাদেব মন্দির এবং মোতীনাথ মন্দিরে চুরির ঘটনা ঘটেছে। চোরেরা দুই মন্দিরের তালা ও দানপাত্র ভেঙে নগদ টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়। সকালে মন্দিরের পুরোহিতরা পূজা ও মন্দির খোলার জন্য পৌঁছালে ঘটনাটি সামনে আসে। দুই মন্দিরই সালাসর বাসস্ট্যান্ড থেকে চাঁদপোলের দিকে যাওয়া প্রধান সড়কের পাশে অবস্থিত। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, রাত প্রায় ১টা ৩০ মিনিটের পর চুরির ঘটনা ঘটে।

তথ্য অনুযায়ী, চোরেরা প্রথমে দুই মন্দিরে প্রবেশের জন্য তালা ভাঙে। এরপর তারা দানপাত্র ভাঙে। তালা ও দানপাত্র ভাঙতে পাথর এবং লোহার সরিয়া ব্যবহার করা হয়।

ভূতনাথ মহাদেব মন্দিরে ভাঙা দানপাত্রের পাশে পাথর পড়ে থাকতে দেখা যায়। এর ভিত্তিতে ধারণা করা হচ্ছে, দানপাত্র ভাঙতে আশপাশে থাকা পাথর ব্যবহার করা হয়েছিল। মোতীনাথ মন্দিরেও একইভাবে দানপাত্র ভাঙার তথ্য সামনে এসেছে।

চোরেরা দুই মন্দিরের দানপাত্রে থাকা নগদ টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়। তবে দুই দানপাত্রে মোট কত টাকা ছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

দুই মন্দিরেই সকালে চুরির বিষয়টি জানা যায়। মন্দির খোলা এবং নিয়মিত পূজার জন্য পুরোহিতরা পৌঁছে ভাঙা তালা ও দানপাত্র দেখতে পান। এরপর ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে।

মন্দিরে চুরির খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় বাসিন্দারাও বিষয়টি জানতে পারেন। একই রাতে কাছাকাছি অবস্থিত দুই মন্দিরে চুরির ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, দুই মন্দিরই প্রধান সড়কের আশপাশে অবস্থিত এবং তাদের মধ্যে দূরত্ব প্রায় ১০০ মিটার। তা সত্ত্বেও চোরেরা দুই জায়গাতেই চুরি করে।

চুরির ঘটনায় ব্যবহৃত পদ্ধতি থেকে জানা যায়, মন্দিরের তালা ও দানপাত্র ভাঙতে ভারী বস্তু ব্যবহার করা হয়েছিল। ভূতনাথ মহাদেব মন্দিরে ভাঙা দানপাত্রের পাশে পাথর পাওয়া যাওয়ার তথ্য সামনে এসেছে।

মোতীনাথ মন্দিরেও দানপাত্র ভাঙার চিহ্ন পাওয়া গেছে। দুই মন্দিরেই একই ধরনের পদ্ধতিতে চুরি হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

এখনও স্পষ্ট নয়, চোরের সংখ্যা কত ছিল এবং তারা কোন পথ দিয়ে মন্দিরে পৌঁছেছিল। চুরির পর তারা কোন দিকে পালিয়ে যায়, সেই তথ্যও সামনে আসেনি।

ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। তাদের বক্তব্য, দুই মন্দিরের মধ্যে দূরত্ব খুব কম এবং এলাকায় পুলিশি টহলও হয়। তা সত্ত্বেও চোরেরা রাতে দুই মন্দিরকে লক্ষ্য করে।

স্থানীয় বাসিন্দারা রাতের নিরাপত্তা এবং পুলিশি টহল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের বক্তব্য, ধর্মীয় স্থানগুলির নিরাপত্তার দিকেও নজর দেওয়া উচিত, যাতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধ করা যায়।

তবে ঘটনার সময় এলাকায় পুলিশি টহল কোন স্থানে ছিল এবং কত সময়ের মধ্যে চুরির ঘটনা সম্পন্ন হয়, তা পুলিশ এখনও স্পষ্ট করেনি।

দুই মন্দিরের দানপাত্র ভাঙার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। তবে দানপাত্রে কত টাকা ছিল, সে বিষয়ে এখনও কোনও সরকারি তথ্য সামনে আসেনি। মন্দির কর্তৃপক্ষ বা পুরোহিতদের পক্ষ থেকেও চুরি হওয়া মোট অর্থের পরিমাণ জানানো হয়নি।

তাই চোরেরা কত টাকা নিয়ে গেছে, তা এখনই বলা সম্ভব নয়। ভক্তরা নিয়মিত দানপাত্রে অর্থ দেন। এই ঘটনায় চুরি হওয়া অর্থের প্রকৃত পরিমাণ তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।

চুরির খবর পাওয়ার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনাস্থল এবং আশপাশের পরিস্থিতির ভিত্তিতে চোরদের শনাক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

দুই মন্দিরই প্রধান সড়কের পাশে অবস্থিত। ফলে আশপাশে থাকা CCTV ক্যামেরার ফুটেজ তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। ফুটেজের মাধ্যমে পুলিশ রাতে মন্দিরের আশপাশে যাতায়াতকারী ব্যক্তি ও যানবাহনের গতিবিধি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতে পারে।

এখনও পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, চুরির ঘটনায় পুলিশ কোনও সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করেছে কি না বা কারও গ্রেফতার হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।

ঘটনার উল্লেখযোগ্য দিক হলো, প্রায় ১০০ মিটার দূরত্বে অবস্থিত দুই মন্দিরে চুরির ঘটনা ঘটেছে। দুই মন্দিরই সালাসর বাসস্ট্যান্ড থেকে চাঁদপোল যাওয়ার প্রধান সড়কের পাশে অবস্থিত বলে জানা গেছে।

চোরেরা দুই জায়গাতেই দানপাত্রকে লক্ষ্য করে এবং তালা ভাঙতে পাথর ও সরিয়া ব্যবহার করে। এর ফলে দুই ঘটনা একই সময়ের আশপাশে ঘটেছিল কি না এবং এতে একই দল জড়িত ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে এ বিষয়ে এখনও কোনও সরকারি নিশ্চিতকরণ নেই।

একই রাতে দুই মন্দিরে চুরির ঘটনা সামনে আসার পর এলাকায় উদ্বেগ ও ক্ষোভ রয়েছে। ধর্মীয় স্থানে চুরির ঘটনা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।

তাদের বক্তব্য, পুলিশি টহল থাকা সত্ত্বেও যদি চোরেরা রাতে কাছাকাছি অবস্থিত দুই মন্দিরের তালা ও দানপাত্র ভাঙতে পারে, তাহলে রাতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনা করা উচিত।

এই মুহূর্তে পুলিশের সামনে মূল চ্যালেঞ্জ হলো চুরিতে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা এবং চুরি হওয়া অর্থের সন্ধান করা। মন্দিরে পাওয়া ভাঙা তালা, দানপাত্র এবং অন্যান্য প্রমাণ তদন্তের অংশ হতে পারে।

সিকারের কোতোয়ালি থানা এলাকায় ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় মন্দিরগুলির নিরাপত্তা নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে, কতজন এই ঘটনায় জড়িত ছিল, তারা কীভাবে মন্দিরে পৌঁছেছিল এবং চুরির পর কোন পথ দিয়ে পালিয়ে যায়।

এই মুহূর্তে দুই মন্দিরের দানপাত্র ভেঙে নগদ টাকা চুরির তথ্য সামনে এসেছে। তবে চুরি হওয়া মোট অর্থের পরিমাণ এখনও স্পষ্ট নয়।

Leave a comment