রুপোর দামে ২১ শতাংশ পতন সোনার দামও উল্লেখযোগ্যভাবে কমল

রুপোর দামে ২১ শতাংশ পতন সোনার দামও উল্লেখযোগ্যভাবে কমল

বৃহস্পতিবার রুপোর দামে ২১ শতাংশ পতন ঘটে ৪,২০,০৪৮ টাকা থেকে ৩,৩২,০০২ টাকায় নেমে আসে। একই সময়ে সোনার দামও কমে ১,৮০,৭৭৯ টাকা থেকে ১,৫৪,১৫৭ টাকায় দাঁড়ায়। এই দ্রুত পতনে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে এবং বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।

রুপোর ফিউচার্স দামে হঠাৎ তীব্র পতন

বৃহস্পতিবার রুপোর ফিউচার্স দামে হঠাৎ বড় পতন দেখা যায়। এক দিন আগেই ৪,২০,০৪৮ টাকার সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছানোর পর রুপোর দাম নেমে আসে ৩,৩২,০০২ টাকায়, যা প্রায় ২১ শতাংশ পতন। সাম্প্রতিক দিনে রুপোর দামে যে দ্রুত উত্থান হয়েছিল, তার চেয়েও বেশি গতিতে এক দিনের মধ্যে এই পতন ঘটে।

মার্চ চুক্তিতে বৃহস্পতিবার রুপোর ফিউচার্স ৪,২০,০৪৮ টাকার সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছায়। তবে এক দিনের মধ্যেই দাম ৮৮,০৪৬ টাকা কমে ৩,৩২,০০২ টাকায় নেমে আসে। গত ১০ দিনে যে পরিমাণ দাম বেড়েছিল, তার কাছাকাছি পতন মাত্র এক দিনেই ঘটে।

আন্তর্জাতিক বাজারেও একই ধরনের প্রবণতা দেখা গেছে। কমেক্সে রুপোর দাম এক দিন আগে আউন্সপ্রতি ১২১.৭৯ ডলারে পৌঁছালেও পরে তা কমে ৯৫.১২ ডলারে নেমে আসে।

সোনার দামেও পতন

রুপোর সঙ্গে সঙ্গে সোনার দামেও পতন দেখা যায়। বৃহস্পতিবার এমসিএক্সে সোনার ফেব্রুয়ারি চুক্তি ১০ গ্রামপ্রতি ১,৮০,৭৭৯ টাকার রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছিল। পরে তা কমে ১,৫৪,১৫৭ টাকায় নেমে আসে, যা ২৬,৬২২ টাকা বা ১৪.৭২ শতাংশ পতন। আন্তর্জাতিক বাজারে কমেক্সে সোনার দামও ৫,৫৮৬ ডলার থেকে কমে ৪,৯৫০ ডলারে পৌঁছায়।

দামের ওঠানামার কারণ নিয়ে পর্যবেক্ষণ

বিশেষজ্ঞদের মতে, গত এক সপ্তাহে সোনা ও রুপোর দামে অস্বাভাবিক দ্রুত উত্থান দেখা গিয়েছিল এবং এর পর মুনাফা তোলার চাপ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক ছিল। কেডিয়া অ্যাডভাইজরির পরিচালক অজয় কেডিয়ার মতে, সোনা ও রুপো—উভয় ক্ষেত্রেই প্রয়োজনের তুলনায় বেশি উত্থান হয়েছিল।

এসএমসি গ্লোবাল সিকিউরিটিজের রিসার্চ হেড বন্দনা ভারতী বলেন, ঘরোয়া বাজারে আগামী এক সপ্তাহে রুপোর দাম ৩.২০ লাখ টাকা পর্যন্ত এবং সোনার দাম ১.৪২ লাখ টাকা পর্যন্ত নেমে যেতে পারে। তবে তাঁর মতে, রুপোর বর্তমান পতন ১৯৮০ সালের মতো তীব্র নয়।

সাম্প্রতিক প্রবণতা ও ঐতিহাসিক তুলনা

কেডিয়া অ্যাডভাইজরির তথ্যমতে, জানুয়ারি ২০২৬ মাসটি ব্যতিক্রমী ছিল। ওই মাসে সোনার দামে মাসিক ভিত্তিতে ২৮ শতাংশ বৃদ্ধি হয়, যা সর্বশেষ জানুয়ারি ১৯৮০ সালে দেখা গিয়েছিল। একই সময়ে রুপোর দাম প্রায় ৭০ শতাংশ বেড়েছিল, যা এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ মাসিক বৃদ্ধি। এত দ্রুত উত্থানের পর সংশোধন প্রায় নিশ্চিত বলে ধরা হয়।

ইতিহাস অনুযায়ী, পতনের সময়ে রুপোর দাম সোনার তুলনায় বেশি হারে কমে। ১৯৭৭–১৯৮০ এবং ২০০৮–২০১১ সময়কালেও একই প্রবণতা দেখা গিয়েছিল। ১৯৮০ সালের পরে সোনার দাম প্রায় ৬৬ শতাংশ এবং রুপোর দাম প্রায় ৯০ শতাংশ কমে। ২০১১ সালে সোনার দাম প্রায় ৩৮ শতাংশ কমলেও রুপোর ক্ষেত্রে পতন ছিল ৬০ শতাংশের বেশি।

গোল্ড–সিলভার রেশিওর পরিবর্তন

গোল্ড–সিলভার রেশিও সাম্প্রতিক সময়ে প্রায় ৪৫-এর কাছাকাছি নেমে এসেছে। আগের বছর ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার সময় এই রেশিও ১০৭ পর্যন্ত উঠেছিল। বিশ্লেষকদের মতে, এত কম রেশিও দীর্ঘমেয়াদে টেকসই নয় এবং এটি ৭০–৭২ স্তরে ফিরে যেতে পারে।

বাজার পরিস্থিতি নিয়ে বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য

অজয় কেডিয়ার মতে, এই সময়ে সোনা ও রুপো—উভয় ক্ষেত্রেই নতুন কেনাকাটায় সতর্কতা প্রয়োজন এবং আগে অর্জিত মুনাফা সুরক্ষিত রাখা গুরুত্বপূর্ণ। বন্দনা ভারতীর মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে রুপোর দাম ৭৮ ডলার এবং সোনার দাম ৪,৮৬০ ডলার পর্যন্ত নামতে পারে। ঘরোয়া বাজারে রুপোর দাম ৩.২০ লাখ এবং সোনার দাম ১.৪২ লাখ টাকা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র–ইরান উত্তেজনা, ট্যারিফ যুদ্ধ, ভারতের বাজেট ঘিরে অনিশ্চয়তা এবং ডলারের শক্তিশালী অবস্থানের মধ্যে মার্জিন বৃদ্ধির ফলে বাজারে ওঠানামা বাড়তে পারে।

১৯৮০ দশকের হান্ট ব্রাদার্স ঘটনা

১৯৭০-এর দশকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক অস্থিরতার সময় হান্ট ব্রাদার্স রুপোর বাজারে বড় পরিসরে বিনিয়োগ করে। নেলসন বাঙ্কার হান্ট ও উইলিয়াম হারবার্ট হান্ট ১৯৭৩ থেকে ১৯৭৯ সালের মধ্যে বিপুল পরিমাণ রুপো কিনেছিলেন এবং ১৯৭৯ সাল নাগাদ তাঁদের দখলে ছিল বিশ্বব্যাপী বেসরকারি রুপোর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ।

পরবর্তী সময়ে ব্যাপক ফিউচার্স লেনদেনের ফলে বাজারে সट्टা বাড়ে। ১৯৮০ সালে রুপোর দামে হঠাৎ বড় পতন ঘটে এবং এক দিনে প্রায় ৫০ শতাংশ দাম কমে যায়, যা ‘সিলভার থার্সডে’ নামে পরিচিত।

Leave a comment