কলকাতা: আধুনিক জীবনে ওয়াশিং মেশিন যেন ঘরের অপরিহার্য সঙ্গী। কিন্তু অজান্তেই এই সুবিধাজনক যন্ত্রটাই মাসের শেষে বিদ্যুৎ বিল বাড়িয়ে দিচ্ছে অনেকের। বিশেষজ্ঞদের মতে, ওয়াশিং মেশিন ব্যবহারের সময় ও পদ্ধতিতে সামান্য পরিবর্তন আনলেই খরচ অনেকটাই কমানো যায়।
পিক আওয়ার বনাম অফ-পিক আওয়ার—সময়টাই আসল চাবিকাঠি
দিনের কিছু নির্দিষ্ট সময়ে বিদ্যুতের চাহিদা সবচেয়ে বেশি থাকে, যাকে বলা হয় পিক আওয়ার।
গ্রীষ্মকালে: দুপুর ও সন্ধ্যার শুরুতে
শীতকালে: ভোরের দিকে
এই সময়ে ওয়াশিং মেশিন চালালে বিদ্যুৎ গ্রিডের উপর চাপ বাড়ে এবং মেশিন বেশি শক্তি টানে। ফলে বিলও বাড়ে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, রাতে দেরিতে বা ছুটির দিনে (Off-Peak Hours) মেশিন চালানোই সবচেয়ে সাশ্রয়ী।
গরম পানি নয়, ঠান্ডা পানিতেই আসল সাশ্রয়
অনেকে পরিষ্কার বেশি হবে ভেবে ‘হট ওয়াটার’ অপশন ব্যবহার করেন। কিন্তু বাস্তবে ওয়াশিং মেশিনের মোট বিদ্যুৎ খরচের প্রায় ৯০ শতাংশই যায় পানি গরম করতে।
খুব বেশি নোংরা কাপড় না হলে কোল্ড ওয়াশ ব্যবহার করুন। এতে কাপড়ও ভালো থাকে, বিলও কমে।
ড্রায়ার যত কম, তত ভালো
ওয়াশারের তুলনায় ড্রায়ার অনেক বেশি বিদ্যুৎ খরচ করে। বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে ড্রায়ার চালালে ঘরের তাপমাত্রা বেড়ে যায়, ফলে এসি আরও বেশি সময় চালাতে হয়।
গ্রীষ্মে রোদে কাপড় শুকান
বর্ষা বা শীতে প্রয়োজন ছাড়া ড্রায়ার এড়িয়ে চলুন
বাড়িতে সোলার প্যানেল থাকলে নিয়ম বদলান
যদি বাড়িতে Solar Panel লাগানো থাকে, তাহলে রাত নয়—দিনের বেলাতেই ওয়াশিং মেশিন চালানো সবচেয়ে লাভজনক। এতে সরাসরি সোলার বিদ্যুতে মেশিন চলবে এবং গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ নেওয়ার প্রয়োজন প্রায় থাকবেই না।
বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের ৪টি স্মার্ট টিপস
ফুল লোডে চালান: অল্প কাপড়ে মেশিন চালাবেন না
ডিটারজেন্ট মেপে দিন: বেশি ফেনা মানেই বেশি বিদ্যুৎ
ভেন্টিলেশন রাখুন: আর্দ্রতা জমলে মেশিন বেশি কাজ করে
নিয়মিত মেইনটেন্যান্স: ফিল্টার পরিষ্কার রাখলে শক্তি খরচ কমে
ওয়াশিং মেশিন কখন চালানো হচ্ছে, গরম না ঠান্ডা পানি ব্যবহার করা হচ্ছে এবং ড্রায়ার কতটা ব্যবহৃত হচ্ছে—এই তিনটি বিষয়ের উপরই বিদ্যুৎ বিল অনেকাংশে নির্ভর করে। কিছু স্মার্ট লন্ড্রি টিপস মেনে চললেই মাসের শেষে বড়সড় সাশ্রয় সম্ভব।













