ভারতে WhatsApp, Telegram এবং অন্যান্য মেসেজিং অ্যাপ ব্যবহারকারীদের জন্য সিম বাইন্ডিং সংক্রান্ত নতুন নিয়ম গুরুত্বপূর্ণ। টেলিযোগাযোগ বিভাগ (DoT) এই পরিষেবাগুলিকে সক্রিয় সিম কার্ডের সঙ্গে যুক্ত রাখার নির্দেশ দিয়েছে। সংস্থাগুলিকে নিয়ম মেনে চলার জন্য ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। ওয়েব সংস্করণে প্রতি ছয় ঘণ্টায় বাধ্যতামূলক লগআউটের শর্তও প্রত্যাহার করে ঝুঁকিভিত্তিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
সিম বাইন্ডিংয়ের অর্থ হল, মেসেজিং পরিষেবার অ্যাকাউন্টটি সেই সক্রিয় সিম কার্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকবে, যে মোবাইল নম্বরের ভিত্তিতে ব্যবহারকারীর পরিচয় যাচাই করা হয়েছে। টেলিযোগাযোগ বিভাগের নির্দেশ অনুযায়ী, অ্যাপটিকে সংশ্লিষ্ট ডিভাইসে থাকা সিমের সঙ্গে ক্রমাগত সংযুক্ত থাকতে হবে। সিম উপলব্ধ না থাকলে পরিষেবার ব্যবহার বন্ধ করা যেতে পারে।
অ্যাকাউন্ট যাচাই করা মোবাইল নম্বর দিয়ে তৈরি করার পর সিম খুলে নেওয়া বা অন্য ফোনে ঢোকানো সত্ত্বেও অ্যাপ চালু থাকার মতো পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে এই পরিবর্তন আনা হয়েছে।
সরকারের বক্তব্য, এই ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাকে কাজে লাগিয়ে সাইবার অপরাধীরা ভারতীয় নম্বর ব্যবহার করে প্রতারণা করতে পারে। এর মধ্যে বিনিয়োগের নামে প্রতারণা, সরকারি আধিকারিক পরিচয়ে যোগাযোগ এবং ডিজিটাল অ্যারেস্টের মতো অপরাধ অন্তর্ভুক্ত। ডিভাইস ও অ্যাপের সঙ্গে সিমের ধারাবাহিক সংযোগ বজায় রাখার উদ্দেশ্য হল মোবাইল নম্বরের ব্যবহার এবং সক্রিয় সংযোগের মধ্যে সম্পর্ক অক্ষুণ্ণ রাখা। তবে এই ব্যবস্থা একাই সব ধরনের অনলাইন প্রতারণা বন্ধ করার নিশ্চয়তা দেয় না।
টেলিযোগাযোগ বিভাগ ২০২৫ সালের নভেম্বরে জারি করা নির্দেশে WhatsApp ও Telegram-এর পাশাপাশি Signal, Snapchat, Arattai, ShareChat, Josh এবং JioChat-এর মতো অ্যাপকেও অন্তর্ভুক্ত করেছিল। ফলে এই নিয়ম শুধুমাত্র দুটি মেসেজিং পরিষেবার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ভারতীয় মোবাইল নম্বরের ব্যবহার এবং পরিষেবা প্রদানের পদ্ধতি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মগুলিকে নির্দেশগুলি মেনে চলতে হবে।
![]()
প্রাথমিক নির্দেশে অ্যাপগুলির ওয়েব সংস্করণে সর্বোচ্চ ছয় ঘণ্টার মধ্যে লগআউট এবং পুনরায় লিঙ্ক করার ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে ২০২৬ সালের এপ্রিলে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সরকার নির্দিষ্ট ছয় ঘণ্টা অন্তর বাধ্যতামূলক লগআউটের নিয়ম প্রত্যাহার করে ঝুঁকিভিত্তিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
বর্তমানে সন্দেহজনক প্রতারণার পরিস্থিতিতে ওয়েব বা ডেস্কটপ সেশন বন্ধ করা যেতে পারে। তবে লগআউটের জন্য ছয় ঘণ্টার কোনও নির্দিষ্ট বাধ্যতামূলক সময়সীমা নেই।
সাধারণ ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে প্রতি ছয় ঘণ্টায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে লগআউট হওয়ার বাধ্যবাধকতা নেই। তবে নিরাপত্তার কারণে প্ল্যাটফর্মগুলি পুনরায় যাচাইকরণ বা ডিভাইস লিঙ্ক করার নির্দেশ দিতে পারে।
কোনও প্রভাবিত অ্যাপ এমন ফোনে ব্যবহার করা হলে, যেখানে নিবন্ধিত নম্বরের সিম কার্ড নেই, সে ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে ডিভাইস ব্যবহারের ব্যবস্থা পরিবর্তন করতে হতে পারে। সিম কার্ড ও অ্যাপ আলাদা ফোনে ব্যবহার করেন এমন ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্ট অ্যাপের নির্দেশাবলি খতিয়ে দেখা উচিত।
টেলিযোগাযোগ বিভাগ সংস্থাগুলিকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত নিয়ম মেনে চলার সময় দিয়েছে। তাই ১ জানুয়ারি ২০২৭ থেকে প্রত্যেক ব্যবহারকারীর অ্যাপ হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাবে, এমন দাবি বিভ্রান্তিকর। এই সময়সীমা সংস্থাগুলির নিয়ম মেনে চলার জন্য নির্ধারিত হয়েছে। ব্যবহারকারীদের উপর প্রকৃত প্রভাব নির্ভর করবে প্ল্যাটফর্মগুলি কীভাবে নিয়ম কার্যকর করে এবং সংশ্লিষ্ট ফোনে সক্রিয় সিম কার্ড রয়েছে কি না, তার উপর। কোনও নির্দিষ্ট ফোন মডেলের উপর সাধারণ নিষেধাজ্ঞা জারির ঘোষণা করা হয়নি।
ব্যবহারকারীদের নিবন্ধিত নম্বর সক্রিয় রাখা এবং অ্যাপের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি পর্যবেক্ষণ করা উচিত। সিম কার্ড না থাকার কারণে পরিষেবা কাজ না করলে সঠিক সিম কার্ড লাগিয়ে অ্যাপের নির্দেশাবলি অনুসরণ করতে হবে। অপরিচিত লিঙ্কে পরিচয় যাচাই করা বা অন্য কারও সঙ্গে ওটিপি ভাগ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। সিম বাইন্ডিং নিরাপত্তা জোরদার করার একটি পদক্ষেপ হলেও অনলাইন প্রতারণা এড়াতে সতর্কতা বজায় রাখা জরুরি।
এই নিয়ম কোনও নির্দিষ্ট ফোন ব্র্যান্ড বা অপারেটিং সিস্টেমের উপর নিষেধাজ্ঞা নয়। মোবাইল নম্বর বন্ধ হয়ে গেলে বা সিম পরিবর্তন করলে মোবাইল অপারেটরের কাছ থেকে সংশ্লিষ্ট পরিস্থিতি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া উচিত। প্রযোজ্য প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে অ্যাপের আনুষ্ঠানিক আপডেট দেখতে হবে। নিয়ম কার্যকর করার পদ্ধতি সম্পর্কে ব্যবহারকারীরা অ্যাপের আপডেটের মাধ্যমে তথ্য পাবেন।








