‘SIR’ আতঙ্কে সরব নাগরিক সমাজ, নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ ‘বাংলার একতা মঞ্চ’

‘SIR’ আতঙ্কে সরব নাগরিক সমাজ, নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ ‘বাংলার একতা মঞ্চ’

ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ বা SIR প্রক্রিয়া রাজ্যে নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে—এমনই অভিযোগ তুলে মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনের রাজ্য দপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করল ‘বাংলার একতা মঞ্চ’। তাঁদের দাবি, এই প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও মানবিক দিক নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠে এসেছে।

কমিশনের দপ্তরে পরমব্রতদের উপস্থিতি

মঙ্গলবার ‘বাংলার একতা মঞ্চ’-এর প্রতিনিধিদল হিসেবে অভিনেতা-পরিচালক পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়, তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র তন্ময় ঘোষ-সহ একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন। মূলত SIR-এর বর্তমান প্রক্রিয়া নিয়েই তাঁদের আপত্তি ও উদ্বেগের কথা কমিশনের সামনে তুলে ধরা হয়।

বিশিষ্টজনদের নোটিস ঘিরে প্রশ্ন

পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় জানান, যে ভাবে অভিনেতা, ক্রীড়াবিদ থেকে শুরু করে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনের কাছেও শুনানির নোটিস পাঠানো হয়েছে, তা যথেষ্ট বিস্ময়কর। তাঁর বক্তব্য, সমাজে যাঁরা সম্মানিত ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত, তাঁদের ক্ষেত্রেও যদি এমন আচরণ করা হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের মনে ভয় তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক।

প্রান্তিক মানুষের ভোটাধিকার নিয়ে আশঙ্কা

বৈঠকের পর পরমব্রত বলেন, SIR প্রক্রিয়া নিয়ে সবচেয়ে বেশি আতঙ্ক তৈরি হয়েছে প্রান্তিক ও কম শিক্ষিত মানুষের মধ্যে। তাঁদের মনে প্রশ্ন উঠছে—নথি জমা দিতে পারলেই কি ভোটার তালিকায় নাম থাকবে, নাকি ভোটাধিকার হারানোর আশঙ্কা রয়েছে? এই অনিশ্চয়তা গণতন্ত্রের পক্ষে বিপজ্জনক বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।

অমর্ত্য সেন থেকে দেব-সামি—তালিকা দীর্ঘ

পরমব্রত আরও জানান, অমর্ত্য সেন ছাড়াও অভিনেতা দেব, ভারতীয় ক্রিকেটার মহম্মদ সামি, মোহনবাগান ক্লাবের প্রাক্তন সভাপতি টুটু বসু ও তাঁর পরিবারের কাছেও শুনানির নোটিস গিয়েছে। এত বিস্তৃতভাবে নোটিস পাঠানোয় প্রশ্ন উঠছে—SIR কি শুধুই প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, নাকি এর অন্য কোনও প্রভাব রয়েছে?

রিসিপ্ট না দেওয়ায় বাড়ছে প্যানিক

‘বাংলার একতা মঞ্চ’-এর অন্যতম অভিযোগ, শুনানিতে প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়ার পর সংশ্লিষ্টদের কোনও রিসিপ্ট কপি দেওয়া হচ্ছে না। এর ফলে সাধারণ মানুষের মনে আরও ভয় তৈরি হচ্ছে। নাগরিকত্বের বিষয়টির সঙ্গে SIR জড়িয়ে যাচ্ছে কি না—এই প্রশ্নও বহু মানুষের মনে দানা বাঁধছে।

কমিশনের নিরপেক্ষতা বজায় রাখার দাবি

পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ের বক্তব্য, নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব শুধুমাত্র নিয়ম কার্যকর করা নয়, বরং নাগরিকদের সম্মান ও আস্থা বজায় রাখাও। তিনি বলেন, ‘‘কমিশনের নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা বজায় থাকলে তবেই মানুষের ভয় কাটবে।’’

‘একতা মঞ্চ’-এর বার্তা: আতঙ্ক নয়, স্বচ্ছতা

‘বাংলার একতা মঞ্চ’ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, তারা কোনও রাজনৈতিক স্বার্থে নয়, বরং গণতান্ত্রিক অধিকার ও নাগরিক সুরক্ষার প্রশ্নেই সরব হয়েছে। SIR প্রক্রিয়া নিয়ে বিভ্রান্তি দূর করতে কমিশনের তরফে স্পষ্ট ও মানবিক বার্তা দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

ভোটার তালিকার স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) ঘিরে রাজ্যজুড়ে বিভ্রান্তি ও আতঙ্কের অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনের কাছে সরব হল ‘বাংলার একতা মঞ্চ’। পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়-সহ বিশিষ্টজনেরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন—এই প্রক্রিয়া সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার ও নাগরিক পরিচয় নিয়ে ভয় তৈরি করছে।

Leave a comment