লখনউ: স্বামী-স্ত্রীর সংসারে তৃতীয় ব্যক্তির প্রবেশ নিয়ে সাধারণত সম্পর্কের টানাপোড়েন তৈরি হয়। কিন্তু উত্তরপ্রদেশের সীতাপুরে সামনে আসা ঘটনাটি একেবারেই অন্যরকম। এখানে এক মহিলা জানিয়েছেন, তিনি স্বামী এবং প্রেমিক—দু’জনকেই ছেড়ে থাকতে পারবেন না। এমনকী দু’জনের নামেই সিঁদুর পরেন বলেও দাবি করেছেন তিনি। শেষ পর্যন্ত তিন প্রাপ্তবয়স্ক একই ছাদের নিচে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে।

দশ বছরের দাম্পত্যের পর বদলে গেল পরিস্থিতি
ঘটনাটি সীতাপুরের মাহমুদাবাদ কোতোয়ালি এলাকার। স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, ফুলওয়ারিপুর গ্রামের বাসিন্দা শুভম ভার্মার সঙ্গে প্রায় ১০ বছর আগে অঞ্জু ভার্মার বিয়ে হয়। তাঁদের দুই সন্তানও রয়েছে।দাম্পত্য জীবন চলছিল স্বাভাবিকভাবেই। এর মাঝেই উমেরা গ্রামের বাসিন্দা নীতিন শর্মার সঙ্গে অঞ্জুর ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। ধীরে ধীরে সেই সম্পর্ক প্রেমে পরিণত হয় বলে জানা গিয়েছে।
প্রেমিককে ছাড়া থাকতে নারাজ স্ত্রী
পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছয় যে অঞ্জু স্বামীকে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তাঁর সঙ্গে সংসার করতে হলে প্রেমিক নীতিনকেও একই বাড়িতে থাকতে দিতে হবে। এরপর থেকেই তিনজনকে একই ছাদের নিচে থাকার বিষয়টি সামনে আসে।তবে বিষয়টি পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা মেনে নিতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত অঞ্জু তাঁর স্বামী, প্রেমিক এবং দুই সন্তানকে নিয়ে থানায় পৌঁছে পুলিশের কাছে সাহায্য চান।
থানায় গিয়ে কী দাবি করলেন অঞ্জু?
পুলিশের কাছে অঞ্জুর দাবি ছিল, তিনি তাঁর স্বামী ও প্রেমিক—দু’জনের সঙ্গেই থাকতে চান। কিন্তু শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা তাঁকে বাড়িতে থাকতে দিচ্ছেন না।এমনকী অঞ্জু দাবি করেন, তিনি দু’জনের নামেই সিঁদুর পরেন। তাঁর বক্তব্য ঘিরেই এলাকায় ব্যাপক চর্চা শুরু হয়।

প্রথমে আত্মহত্যার কথা ভেবেছিলেন স্বামী
স্ত্রীর অন্য সম্পর্কের কথা জানতে পেরে প্রথমে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন শুভম। তাঁর দাবি, পরিস্থিতি জানার পর একসময় তিনি নিজের জীবন শেষ করার কথাও ভেবেছিলেন।তবে পরবর্তীতে পরিস্থিতিকে অন্যভাবে মেনে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। বর্তমানে স্ত্রী এবং তাঁর প্রেমিকের সঙ্গে একই জায়গায় থাকার ব্যাপারে তিনি রাজি বলে জানা গিয়েছে।
প্রেমিকের বক্তব্য কী?
নীতিনও এই সম্পর্ক থেকে সরে যেতে চাননি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, দুই সন্তানকে ঘিরে তাঁরা সবাই একসঙ্গে থাকবেন। ফলে সম্পর্কের এই সমীকরণকে মেনে নিয়েই নতুনভাবে সংসার চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা।দুই শিশুকেও বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তারা মা, বাবা এবং ‘চাচু’র সঙ্গে থাকতে চায় বলে জানায়।
পরিবারের আপত্তি, পুলিশের ভূমিকা কী ছিল?
অঞ্জুর শ্বশুর এই সম্পর্ক মেনে নিতে পারেননি বলে জানা গিয়েছে। তাঁকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার ঘটনাও ঘটে। এরপর পুলিশ তাঁর জিনিসপত্র উদ্ধার করে ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করে।তিনজনই প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাঁদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তে পুলিশ সরাসরি হস্তক্ষেপ করেনি। শেষ পর্যন্ত বিষয়টি তাঁদের নিজেদের সিদ্ধান্তের উপরেই ছেড়ে দেওয়া হয়।

সমাজের চর্চার মধ্যেই নতুনভাবে সংসার
স্বামী, স্ত্রী, প্রেমিক এবং দুই সন্তান—এই পাঁচজনকে ঘিরে তৈরি হয়েছে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক পারিবারিক সমীকরণ। সমাজের প্রচলিত সম্পর্কের ধারণার বাইরে গিয়ে তাঁরা একই ছাদের নিচে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলেই জানা যাচ্ছে।

উত্তরপ্রদেশের সীতাপুরে সামনে এসেছে এক অদ্ভুত সম্পর্কের ঘটনা। এক বিবাহিত মহিলা স্বামী ও প্রেমিক—দু’জনের সঙ্গেই একই বাড়িতে থাকতে চান। বিষয়টি নিয়ে তিনি থানায়ও যান। স্বামী প্রথমে মানসিকভাবে ভেঙে পড়লেও পরে স্ত্রী ও তাঁর প্রেমিকের সঙ্গে একসঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত নেন বলে জানা গিয়েছে।










