মুজাফফরপুরে ঘন কুয়াশার প্রভাবে আবারও দুর্ঘটনা ঘটেছে।
দরভাঙ্গা–মুজাফফরপুর মহাসড়কে সকালে দৃশ্যমানতা কম থাকায় ছয়টি যানবাহনের মধ্যে পরপর সংঘর্ষ হয়। দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয় এবং কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে প্রশাসন, পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, সকালে হঠাৎ ঘন কুয়াশা নেমে আসে, যার ফলে সামনের দৃশ্যমানতা কয়েক মিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে। এ সময় একটি যানবাহন হঠাৎ ব্রেক করলে পেছন থেকে আসা যানগুলো একের পর এক ধাক্কা খায়। অল্প সময়ের মধ্যেই মহাসড়কে একাধিক যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়।
দুর্ঘটনায় একাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আহতদের অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে দ্রুত নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যেখানে তাদের চিকিৎসা চলছে। এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর ঘটনা নিশ্চিত হয়নি, তবে কয়েকজন আহতের অবস্থার ওপর চিকিৎসকরা নজর রাখছেন।
পুলিশ ও প্রশাসনের দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রথমে আহতদের উদ্ধার করে এবং ক্ষতিগ্রস্ত যানবাহনগুলো সড়ক থেকে সরানোর কাজ শুরু করে। ক্রেনের সাহায্যে যানগুলো এক পাশে সরিয়ে নেওয়া হয়, যাতে যান চলাচল স্বাভাবিক করা যায়। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর মহাসড়কে ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুর্ঘটনার প্রধান কারণ ছিল ঘন কুয়াশা ও প্রায় শূন্য দৃশ্যমানতা। পাশাপাশি চালকদের অসাবধানতা ও অতিরিক্ত গতি দুর্ঘটনার একটি কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে। কুয়াশার সময়ে ভ্রমণ এড়িয়ে চলতে এবং প্রয়োজনে ফগ লাইট, ইন্ডিকেটর ব্যবহার ও ধীরগতিতে চলার জন্য চালকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
আবহাওয়া বিভাগ আগেই সতর্কতা জারি করেছিল যে উত্তর বিহারের জেলাগুলোতে আগামী কয়েক দিন কুয়াশার প্রভাব বজায় থাকবে। এ অবস্থায় দরভাঙ্গা–মুজাফফরপুর মহাসড়কসহ অন্যান্য প্রধান সড়কে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় ট্রাফিক পুলিশকে সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।
এই দুর্ঘটনার পর শীতকালে সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে আবারও প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের মতে, মহাসড়কে সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড, রিফ্লেক্টর এবং টহল বৃদ্ধি করা প্রয়োজন, যাতে এ ধরনের ঘটনা এড়ানো যায়। বর্তমানে প্রশাসন পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে এবং উদ্ধার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে।








